Wednesday, April 1, 2015

যৌতুকের বিষে দূষিত হচ্ছে সমাজ

যৌতুকের বিষে দূষিত হচ্ছে সমাজ
জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক নারী। কাগজ-কলমে নারীর পূর্ণ অধিকার স্বীকৃত হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন নেই। নারীরা এখনও ভোগ আর নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আজও নির্দ্বিধায় কেউ দাবি করতে পারে না, সমাজে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা রয়েছে। আজও ফতোয়াবাজরা সক্রিয়। দোররার আঘাতে প্রাণ দেন অসহায় হেনারা। যৌতুকের কালোছায়া সর্বত্রই বিরাজ করছে ভয়াবহ। যৌতুক না পাওয়ার যন্ত্রণা কমাতে গরু-ছাগলের মতো বেঁধে রাখা হয় স্ত্রীকে। কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানা লেমশীখালী ইউনিয়নের করলাপাড়া গ্রামের গৃহবধূ খালেদাকে হাত-পা শিকলে বেঁধে বন্ধ রান্নাঘরে আটদিন বন্দি করে রেখেছিল স্বামী মাহামুদুল নামের এক নরপশু যৌতুকের কারণেই। পরে প্রতিবেশীর সাহায্যে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। সভ্যতার এমন ‘সোপান’ তৈরি না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজš§ কী বেয়ে ওপরে উঠবে বলুন! যেখানে একজন মা তার আপন ঘরেই থাকে পরবাসী, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, নিরাপত্তাহীন! সভ্যতা হচ্ছে মানবজাতির বুদ্ধি, মেধা ও অভিজ্ঞতার সমষ্টি। কিন্তু অনেক পুরুষ নারী সম্পর্কে আজও যে বীভৎস মনোভাব পোষণ করে চলেছে, তা নারী সমাজকে আতংকিত করে তুলছে প্রতিনিয়ত। যৌতুক প্রথার নিষ্ঠুরতা, নৃশংসতা ও নারী নির্যাতন এখন সর্বজনবিদিত। যৌতুকের কারণে অনেক মাতা-পিতা, কন্যাদায়গ্রস্ত নারীর সংসার দুর্বিষহ হয়ে উঠছে এবং অনেকের জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে অকালেই। সমাজ জীবনে ভয়াবহ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে যৌতুক প্রথা। অর্থের বিনিময়ে যে একজন নারীকে বিয়ে করতে সম্মত হয়, সে পুরুষ কখনোই তার স্ত্রীকে ভালোবাসতে পারে না। যৌতুক প্রথা নারীকে নগণ্য ও পণ্যে পরিণত করে। পণ্যের মতো নারীকে অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করার প্রবণতাই যৌতুকের ছদ্মাবরণে সমাজদেহে ক্রিয়াশীল। এর বিষক্রিয়ায় দূষিত হচ্ছে সমাজ। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশও মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রকে সম্মান করে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল সংবিধান আর নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে নারীর অধিকারের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তথাপি আইনের চোখের সামনেই মানবাধিকার ুণœ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর প্রতিকার হওয়া উচিত। আইনের বার্তা পৌঁছে দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে প্রতিটি ঘরে ঘরে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে সর্বদা চোখ-কান খোলা রেখে। সচেতন করতে হবে আমাদের নারী সমাজকে। জাতীয় জীবনে উন্নয়ন ও দেশ গঠনে পুরুষের পাশাপাশি নারী সমাজের ভ‚মিকা জরুরি। সমাজ ও সভ্যতার উন্নয়নে নারী সমাজ আজ যথেষ্ট এগিয়েছে। তবুও আমাদের গ্রামীণ সমাজের নারীরা এখনও অবহেলিত। পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজের নারীরা পুরুষের সম্মতির বাইরে এখনও কোন কাজ করতে পারে না। অশিা ও কুশিার বেড়াজালে বন্দি এখনও গ্রামের নারী সমাজ। সমাজকে এগিয়ে নেয়ার অন্যতম মাপকাঠি হচ্ছে নারী সমাজের উন্নতি। এ বিষয়টি মনেপ্রাণে মেনে নেয়ার মানসিকতা এখনও আমাদের পুরুষ সমাজে তৈরি হয়নি।নারীর মর্যাদা নিশ্চিতকরণে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। দেশের প্রচলিত আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে সবাইকে। যৌতুক নিরোধ আইন ছাড়াও শিশু ও নারী নির্যাতন, নারী পাচার, ধর্ষণ, খুন ইত্যাদি অপরাধের জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এনজিওগুলো গ্রামীণ সংস্কৃতির উন্নয়নে ভ‚মিকা রেখে আসছে। সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলোকে গ্রামীণ শিা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি অধিকারের বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে। মানবাধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ড সমাজ থেকে দূর করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে পদপে ও কর্মসূচি নেয়া প্রয়োজন। নারী মুক্তির জন্য নারী শিার প্রতি সচেতন হতে হবে সবচেয়ে বেশি। নারী শিতি হয়ে উঠলে সব সংস্কারের জাল আপনাআপনি ছিন্ন হয়ে যাবে। শিতি নারী তার মেধা-যোগ্যতায় হাতে তুলে নেবে সমাজের চালিকাশক্তি। শিার মাধ্যমেই জাগাতে হবে তাদের। এর কোন বিকল্প নেই। এজন্য সম্মিলিত প্রয়াস ও সংগ্রাম দরকার। আসুন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা সবাই একমত হই। আগামীর স্বপ্ন সত্যে পরিণত করতে সব ধরনের নারী নির্যাতন থেকে বিরত থাকি এবং সমাজ, পরিবার তথা দেশকে বিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হাতে হাত রেখে কাজ করি।

0 comments:

Post a Comment