Friday, December 6, 2013

বিরল প্রজাতির প্রাণী সংরণ প্রয়োজন

বিরল প্রজাতির প্রাণী সংরণ প্রয়োজন
 ড. ফোরকান আলী
চট্টগ্রামের ইয়াসিননগর এলাকায় বিরল প্রজাতির পাখি মদনটাক ধরা পড়ে। পাখিটির বিরাট দুটি ডানা এবং মাথার উপর বেশ বড় টাক। নীল রঙের পাখিটির ওজন প্রায় ১২ কেজি। পাখিটি ধরা পড়ার পর স্থানীয় লোকজন পাখিটি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় নিয়ে যায়। এর আগে বিগত তত্ববধায়ক সরকারের আমলে যৌথবাহিনী দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেরকর বাড়ি হতে অন্যান্য বন্যপ্রাণী ছাড়াও তিনটি মদনটাক উদ্ধার করে। আরও জানা গেছে যে পরে ঐগুলিকে কক্সবাজার ডুলাহাজারা সাফারিপার্কে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এগুলি যে কোনো বন থেকে উড়ে আসেনি। স্থানীয় লোকজনের এরকমই ধারণা। যৌথবাহিনীর ভয়ে গোপনে ঘরে পুষতে থাকা এইসব পাখি ছেড় দিয়েছে। যশোরের কেশবপুরে যে হনুমান দেখা যায়, এর বাংলা নাম। কালামুখ হনুমান। কেউ  কেউ এদের ভবঘুরে হনুমান নামেও ডেকে থাকে। বাংলাদেশে শুধু কেশবপুরেই কালোমুখ হনুমান দেখা যায়। পূর্বে উহাদের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। এখন ২০০-২৫০টি হনুমান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া জেলায় এই হনুমানের আবাস ছিল। জানা গেছে, ঐসব জেলায় আর হনুমান নাই। কেশবপুর ব্যতীত শ্রীলংকা, ভারতের কলিকাতার তারকেশ্বর মন্দির, কৃষ্ণনগর, মথূরা, বৃন্দাবন ও দণি ভারতের কোনো কোনো স্থানে কালোমুখ হনুমান পাওয়া যায়।সম্প্রতি উড়িষ্যার জঙ্গলে বিরল প্রজাতির কালো বাঘের সন্ধান পাওয়া গিয়াছে। ময়ূরগঞ্জ জেলার সিমলিপাল সংরতি অরণ্যের কোর অঞ্চলে তিনটি বিরল প্রজাতির কালো বাঘের মেলানিস্টিক প্যান্থার সন্ধান মিলেছে। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় এই সংবাদটি ছাপা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানায় যে, ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (ডব্লিউআইআই)’র বিশেষ সু ক্যামেরায় এই কালো বাঘের ছবি ধরা পড়ে। এই প্রাণীটি, সাধারণভাবে, ব্ল্যাক প্যান্থার ব্ল্যাক লেপার্ড বা ব্ল্যাক জাগুয়ার নামেই পরিচিত। ৩টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবিও ধরা পড়েছে। খবরে আরও প্রকাশ, সিমলিপাল এলাকায় আদিবাসী কাঠুরিয়া বা জঙ্গলঘেষা গ্রামের মানুষের মুখে গত দুই দশকে মাঝে-মধ্যেই এই কালো বাঘের কথা শোনা গিয়েছিল। সাধারণত কালো বাঘ পাওয়া যায় দণি-পশ্চিম চীন, মায়ানমার, আসাম ও নেপালে। তাদের সন্ধান পাওয়া যায় উত্তর আমেরিকা, দণি আমেরিকার ব্রাজিল এবং আফ্রিকাতেও। ডব্লিউআইআই সিমলিপালে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ ক্যামেরা স্থাপন করে ঐ বাঘ গণনা করেছে। গণনাকালে সিমলিপালের ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধীন বরকামুন্ডা এবং দেবস্থলীর গভীর জঙ্গলে ক্যামেরাবন্দি হয়েছে ৩টি কালো বাঘ। এই ব্যাঘ্র গণনা নমুনা সমীা স্যাম্পেল বেসিস-এ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আমাদের দেশেও এই ধরণের নমুনা সমীা চলতে পারে। এক সময় রাজধানী ঢাকায় পুরানা এলাকায় হাজার হাজার বানরের আবাস ছিল। বানরের আধিক্য ছিল। ঢাকার পোস্তগোলা হতে লালবাগ পর্যন্ত বানর দল বেঁধে চলাফেরা করত। এখন ােেদও সংখ্যা কয়েকশতে এসে দাড়িয়েছে। মানববান্ধব এই প্রজাতি রায় সকল মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান প্রাকৃতিক পরিবেশে বানরদের বেঁচে থাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কারণ খুবই বোধগম্য। বন্যপ্রাণীর আবাস বন। আমাদের বনের আয়তন কমে যাচ্ছে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে। সেইসঙ্গে বন্যপ্রাণীদের সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে কোনো কোনো প্রাণী। উল্লুক, শিয়াল, ভোদড়, কাঠবিড়ালী, গোসাপ, খাটাস, সজারু এবং আরও বহু প্রজাতির প্রাণী প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। প্রয়োজনমত রণাবেণ, পরিচর্যার অভাবে আরও অনেক প্রজাতির প্রাণী সময়ের আবর্তে বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা। সুতরাং অনতিবিলম্বে সারাদেশে বন্যপ্রাণী, পশু-পাখি রাকল্পে অধিকতর সচেতনতা সৃষ্টির ল্েয সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ প্রতিবেশের ভারসাম্য রা করতে হলে বন্যপ্রাণী সংরণে প্রয়োজন কার্যকর কর্মপরিকল্পনা ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267











0 comments:

Post a Comment