ড.ফোরকান আলী
এক সময়ে সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের গহীন বনাঞ্চলে নির্বিঘেœ বিচরন করিত মায়াবি মায়া হরিণ। সুন্দবনের অপর সৌন্দর্যের প্রধানতম আকর্ষণই ছিল চিত্রা হরিণ। কিন্তু এখন আর সেই আগের পরিবেশ নেই। সময় বদলানোর সঙ্গে দিনবদল পালা বদলের মতো উজাড় হইয়াছে সুন্দবনের গাছগাছালি। ফলে বিপন্ন হইয়া উঠিয়াে ছমায়া হরিণের জীবন। ইহার সঙ্গে যুক্ত হইয়াছে একশ্রেণরি মানুষরূপী হায়েনাদের শিকার মানসিকতা। হরিণের মাংস, চামড়া এবং শিং বিক্রি করিয়া তাহারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। এই ব্যাপারে তাহারা কদাচিৎ বাধার সম্মুখনি হয়্। জানা যায়, সুন্দরবন সংগ্লন গ্রামগুলোতে হরিণের মাংস ব্যবাসয়ীরা শিকারীদের অগ্রিম দাদন দিয়া থাকে। সুন্দরবনের পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে এবঙ পশ্চিম বন বিভাগের খুরনা ও সাতরিা রেঞ্জের বিশেষ কযেকটি স্থানে শিকারীরা চলতি বর্ষা মেওসুমে ব্যাাপকভাবে হরিণ শিকার করিতেছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় চোরা শিকারীরা ফাঁদ পাতিয়া, খাদ্যের সাথে বিষাক্ত দ্রব্য খাওয়াইয়া এবং গুলি করিয়া হরিণ শিকার করে। চোরাশিকারীরা হরিণ শিকার করার পর ঘটনাস্থলে জবাই করিয়া চামড়া ছিলিয়া লোকালয়ে মাংস আনিয়া অবস্থা ভেদে ১৯০ হইতে ২৫০ টাকা এমনকি কোন কোন সময় ২৭০ হইতে ৩০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করে। মাংস বিক্রির েেত্র গোপনীয়তার্ া করা হয়। অপরিচিতদের কাছে মাংস বিক্রি করা হয় না। তাহাদের পছন্দের লোকদের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমি বিক্রি করা হইয়া থাকে। হরিণের প্রতিটি চামড়া ৩ হইতে ৫হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হইতে দেখ যায়। হরিণের শিং বিক্রি হয় আকার ভেতে ৫শত হইতে ১ হাজার টাকায়। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাবাসীদের নিকট হইতে জানা যায়, চোরা শিকারীদের সপ্তাহে কমপে ৭/৮ টি করিয়া হরিণ শিকার করে। শিকারীরা এলাকার বাহিরে বিক্রি করার জন্য হরিণ শিকার করে। কিন্তু অনেক সময় বাহিরে নিয়া যাইতে না পারায় এলাকায় জবাই করিয়া মাংস বিক্রি করার সময় ধরা পড়ে। বেশিরভাগ েেত্র দেখা গিয়াছে, বিক্রির খরব বন বিভাগের কাছে অনেক দেরিতে পৌঁছায়। অভিযান চালাইয়া বনবিভাগ ঘটনাস্থল হইতে ২/১ কেজি মাংস ছাড়া আর কিছুই উদ্ধার করতে পারে না। যদিও ২/১ জন শিকারী ধরা পড়ে, সপ্তাহখানেকের মধ্যে তাহারা আবার আইনের ফাঁকফোকর দিয়া বাহির হইয়া আসে।
হরিণের মধ্যে চিত্রা প্রজাতির হরিণ দেখিতে খুবই সুন্দর। ইহাদের সারা শরীরে উজ্জ্বল লালচে-বাদামি রংয়ের উপর সাদা কালো গোলাকার দাগ আছে। পুরুষ চিত্রার এক জোড়া শাখা-প্রশাখাযুক্ত শিং থাকে। ঐ শিং দোলাইয়া মোহনয়ি ভঙ্গিমায় পরা শররি নাচাইয়া দুমকি তালে হাঁটে। বাহারি ঢংয়ে চারিদিকে ছুটাছুটি করে অদ্ভুত সুন্দর এই নিরীহ প্রাণী। ইহারা দলবদ্ধ হইয়া বাস করে। খুব দ্রুত গতিতে দৌড়াইতে পারে। হরিণ দুই হইতে তিন বছরে বয়প্রাপ্ত হয়। প্রতছিয় মাসে এক হইতে তিনটি পর্যন্তবাচ্চা প্রসব করে। সর্বোচ্চ বাঁচে প্রায় ১৬ বছর। খাদ্র হিসাবে গাছ-গাছালির কচি পাতা চিত্রা হরিণের পছন্দের শীর্ষে। ইছা ছাড়াও বিভিন্ন ফলমূল, গমের ভূষি, তিলের খৈল, শাক-সবজি এবং সবুজ ঢ়ঘাস খায়। অতিরিক্ত লবন ও নানা অব্যবস্থায় সুন্দরবনের ঘাস কমিয়অ গিয়াছে। ফলে হরিণের সংখ্যাও হ্রাস পাইয়াছে। এখন মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি হরিণ আছে। বালঅদেশে ত্রিা হরিণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ পাওয়া যায়। সাম্বার হরিণ ও মায়া হরিণ ইহার অন্যতম্ তবে ইহাদের সংখ্রা একোবরেই কম। হিমালয়ের আলপাইন এলাকায মাস্ক হরিণ (কস্তুী মৃগ) দেখা যায়। ইহাদের পুরুষ হরিণ মৃগ নাভীল জন্য বিখ্যাত। প্রকৃতিতে হরিণের প্রধান শত্র“ হিংস্র বাঘ, প্রিগতির চিত্রা বাঘ। দেখিতে পাইলে আর রা নাই। টার্গেট করিয়া বাঘ হন্যে হইয়া ছুটে। আর হরিণও কম যায় না। নিমিষেই প্রাণ বাঁচাইতে প্রাণপণে দৌড়ায়। ঐ সময়ে হরিণ এক পলকে মাইলের পর মাইল পার হইয়া যায়। সব চাইতে অবাক করা কাণ্ড হইল নিশ্চিত মৃত্যুর ঐ কঠিন সময়েও হরিণ দলবদ্ধ হইয়া থাকে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে সকরে মিলিয়া। ইহার মাঝ হএতই বাঘ কিংবা অন্য কোন হিংস্র প্রাণীর খাদ্য হইয়া বিদায় নেয় স্বগোত্রের কেহ। স্বজন হারানোর ব্যথায় ঐ সময়ে অন্যরা বিষন্ন হইয়া পড়িলেও আবার নতুন করিয়া বাঁচার স্বপ্ন দেখে।
সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী নিধন আইনের ধারায় যে শাস্তি বা জরিমানার ব্যবস্থা রহিয়াছে বা পাচারকারীর উহার প্রতি তোয়াক্কা না করিয়া হরিণ শিকার চালাইয়া যাইতেছে। বন্যপ্রাণী রার্থে বন্যপ্রাণী হত্যা আইন সংশোধনের জন্য বেসরকারি সংস্থা প্রদীপণ মাঠ পর্যায় হইতে শুরু করিয়া সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে সভা সেমিনার করিয়া স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা সরকারের কাছে পেশ করিয়াছে বলিয়া সংস্থা সূত্রে জানা গিয়াছে। সরকার সুন্দরবন তথা সারাদেশে হরিণ নিধন বন্ধ করিবেন ইহাই প্রত্যাশা।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment