ড.ফোরকান আলী
জলাবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং যথেচ্ছ বন উজার করার কারণে দেশের বন্যপ্রাণীগুলো এমনিতেই অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। কিছু প্রজাতি ইতোমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর কিছু রয়েছে বিলুপ্তির পথে। এরপরও বন্যপ্রাণী সংরণে যথেষ্ঠ উদ্যোগ ল করা যাচ্ছে না। যা খুবই হতাশাজনক। বন্যপ্রাণী সংরণে সরকার আইন করেছে বটে কিন্তু সে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নেই। গত কয়েক দিন আগে এক রয়েলবেগঙ্গল টাইগারকে হত্যা করে গ্রামবাসীরা। ওই বাঘের অপরাধ ছিল সে গ্রামে ঢুকে কুকুর ধরে নিয়ে যেতো। কথা হলো তাদের খাবারও নিশ্চিত করা না হলে তো তারা খাবারের সন্ধানে ছুটাছুটি করবেই। এর আগেও জনতার হাতে রয়েলে বেঙ্গল টাইগার নিহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। এসব বন্ধ করতে হবে। এমনতিই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বাঘের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। কাজেই বাঘ রায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া রাজধানীতে প্রকাশ্যে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে বন্যপ্রাণী।
রাজধানীর কাঁটাবন, কাপ্তানবাজার, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় খাঁচা হাতে পশু-পাখী বিক্রি পরিচিত দৃশ্য। এসব পশুপাখির মধ্যে রয়েছে কাল তিতির, বাঁড়–ই, হরিয়াল, তিলা ঘুঘু, গোলাপী ঘুঘু, রাম ঘুঘু, পার ঘুঘু, ওয়াজ ঘুঘু, টিয়া, কুল ময়না, বক, হাড়গিলা, কোয়েল প্রভৃতি। বলা বাহুল্য, এগুলোর মধ্যে বেশ কিছু প্রজাতি বর্তমানে বিপন্ন প্রায়। আর নির্বিচারে পশু-পখি নিধন করা হলে যে কোনো প্রজাতিই বিলুপ্ত হতে বেশি সময় লাগবে না। এক সময় আমাদের দেশ তো বিভিন্ন পশুপাখির কল-কাকলিতে মুখর ছিল। বনে ছিল নানা প্রজাতির প্রাণী। সেইসব প্রাণী সম্পদের প্রাচুর্য এখন নেই। যেসব প্রাণী এখনো টিকে আছে তাদের বহুমুখী সমস্যা। বনভূমি ধ্বংসের কারণে পশুপাখির আবাসস্থলের সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। প্রতিকূল পরিবেশে অনেক পশুপাখিই টিকে থাকতে পারছে না। আবার এর মধ্যে রয়েছে শিকারীদের আক্রমণ। লাভজনক হওয়ার কারণে পশু-পাখি বিক্রেতারাও বসে থাকছে না। চোরাই পথে অনেক পশু-পাখি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। অনেকে শখ চরিতার্থ করার জন্য পশু-পাখি বাজার থেকে কিনছে। এভাবে চলতে থাকলে যেটুকু প্রাণীবৈচিত্র আমাদের রয়েছে সেটাও অচিরেই লুপ্ত হবে। কাজেই আর কালপেণ না করে বন্যপ্রাণী সংরণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে আরো তৎপর হতে হবে। যারা আইন অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না কেন? সাধারণ মানুষের শখ সংবরণ করা দরকার। এসবের পাশাপাশি সবচেয়ে প্রয়োজন হলো পশুপাখিদের জন্য নতুন নতুন অভয়ারাণ্য তৈরি করা।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment