জলাভূমির সঠিক ব্যবহার চাই
ড.ফোরকান আলী
বিশ্ব রামসার কনভেনশনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জলজ পরিবেশ উন্নয়নের আন্দোলন সূচিত হয়েছিল। এই কনভেনশনের প্রণীত চুক্তিতে বিশ্বের ১৫০টি দেশ স্বাক্ষর করে। তন্মধ্যে বাংলাদেশও অন্যতম। বিভিন্ন দেশের মতো বিশ্ব জলাভূমি দিবস বাংলাদেশ ও পালন কওে আসছে। জলাভূমি ও জলজ সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন ও সংরক্ষণই এর মূল লক্ষ্য। বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন আলোচনা-সেমিনার এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি অধিকাংশ আলোচনার সারবস্তু পত্র-পত্রিকায় যা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে আনন্দিত হবার কিছু নাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, গত অর্ধ শতাব্দীতে দেশের জলাভূমির পরিমাণ এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। অর্থাৎ জলাভূমি কমেছে ৭০ ভাগ। বাংলাদেশে মোট ভূমির পরিমাণ ৩ কোটি ৭৪ লাখ একর। যার মধ্যে ৬০% কৃষি জমি। প্রায় ১ কোটি একর জমি সরকারি কাজে ব্যবহৃত হয়। চিহ্নিত খাস জমি (কৃষি ও অকৃষিসহ চরের জমি) ও খাস জলার মোট পরিমাণ ৫০ লাখ একর (ভূমি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি)। সেই সাথে অর্পিত সম্পত্তি আইনে সরকারের জিম্মায় আছে ২১ লাখ একর; আর পরিত্যক্ত সম্পত্তির পরিমাণ ১০ লাখ একর। বেড়েছে শহরে জমির দাম-এমন বাড়া বেড়েছে যার কারণটি প্রথাসিদ্ধ অর্থশাস্ত্র বিশ্লেষণে অপারগ। ক্রমবর্ধমান কালো টাকার কারণেই শহরে জমির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ঢাকা শহরেই এখন এক কোটি ২০ লাখ মানুষ (যা দেশের মোট নগর জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ)। যে কারণেই ঢাকা শহর ও তার আশেপাশে জমি দস্যুতা এমনই একটি রূপ নিয়েছে যে গত সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও বলেছে, ঢাকা শহর ও তার আশেপাশে ভূমি দস্যুরা ১০,০০০ একর জমি বেদখল করে আছে (যা দেশের প্রচলিত আইন, ডধঃবৎ ঢ়ৎবংবৎাধঃরড়হ অপঃ বিরুদ্ধ)। কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার সাথে নগরায়ণের সম্পর্ক সম্পর্কে অবশ্যই এ কথা গুরুত্বসহ বিবেচনা করতে হবে যে দ্রুত শহরায়ণের ফলে কৃষিতে অনুপস্থিত ভূ-স্বামীর (ধনংবহঃবব ষধহফষড়ৎফ) মালিকানায় জমি-জলার পরিমাণ গত দু-তিন দশকে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি ফল হল ভাগচাষের আওতায় জমি-জলার পরিমাণ বৃদ্ধি, জমি-জলার প্রকৃত উৎপাদিকা হ্রাস, কৃষি দিন মজুরের অবস্থার অবনতি ইত্যাদি। গত সরকারের ভূমি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বলেছে যে দেশে মোট খাস জমি-জলার পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ একর। আমার হিসেবে দেশে বর্তমানে চিহ্নিত এ খাস জমি-জলার (রফবহঃরভরবফ শযধং ষধহফ) মধ্যে কৃষি খাস জমি ১২ লাখ একর, অকৃষি খাস জমি ২৬ লাখ একর এবং জলাভূমি ১২ লাখ একর৭। এই হিসাব প্রকৃত খাস জমির চেয়ে অনেক কম; কারণ খাস জমির এক বৃহৎ অংশ বিভিন্ন কারণে এখনো সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত নয়। খাস জমির সরকারি হিসেব মারাত্মক বিভ্রান্তিকর। সরকারি হিসেবেই ২৩ লাখ একর খাস জলাভূমি এবং ৭১ হাজার একর খাস কৃষি জমির গড়মিল আছে। সরকারি হিসেবে বলা হচ্ছে, চিহ্নিত ১২ লাখ একর খাস কৃষি জমির ৪৪% গরীব, ভূমিহীন ও দুঃস্থ জনগণের মধ্যে বন্টন করা হয়েছে। গবেষণায় এ হিসেবে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আসলে খাস কৃষি জমির ৮৮% ধনী এবং প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে আছে। অর্থাৎ যাদের জন্য খাস জমি সেই গরীব ও ভূমিহীন জনগণের সত্যিকার অধিকারে আছে মাত্র ১২% খাস কৃষি জমি। আর বন্টনকৃত খাস কৃষি জমির সরাসরি সুবিধাভোগীদের কমপক্ষে ২০% আগে থেকেই ভূমি মালিক। আসলে এদেশে খাস জমি-জলা কার দখলে? এ প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। কারণ এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কোথাও নেই। আমাদের সর্বশেষ এক জরিপ থেকে দেখা যায় যে, সন্দ্বিপ ও মিরশরাইয়ের ৫টি ইউনিয়নে মোট ১৭৪২ একর খাস জমি ও জলা আছে, যার ৯৬.৮% ভূমি-জল দস্যুদের দখলে আর বাদবাকি ৩.২% দারিদ্র্যদের মধ্যে বিতরণ হয়েছে।৮ অথচ ভূমি-জল দস্যুদের বেদখলে যে পরিমাণ খাস জমি জলা আছে তা সরকারি নিয়মে বিতরণ করে ৫টি ইউনিয়নে কমপক্ষে ২২১০ জন ভূমিহীন প্রান্তিক খানার (১০,০০০ মানুষের) দারিদ্র্য উচ্ছেদ সম্ভব। খাস জমির বিতরণ প্রক্রিয়াটা দরিদ্র কৃষকের জন্য বড় ধরনের বিড়ম্বনা। খাস জমির বন্টন প্রক্রিয়ার প্রধান নায়ক হলেন সরকারি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা/কর্মচারী স্থানীয় গণপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রভাবশালী। মিলেমিশে এরা সৃষ্টি করেছে জমি-দস্যুর শক্তিশালী এক বলয়। খাস জমি-জলার বন্টন ও বন্দোবস্ত প্রক্রিয়াটি মূলতঃ স্বাধীনতা পরবর্তী ঘটনা। ২০০১ সাল পর্যন্ত যত জমি বন্টিত হয়েছে তার বেশিরভাগই ঘটেছে ১৯৮১-১৯৯৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। ১৯৯১-৯৬ সালে খাস জমি বন্টনের অনুপাত ১৯৮১-৯০ সালের তুলনায় আপেক্ষিকভাবে বেশি ছিল। প্রথম ক্ষেত্রে ৭ বছরে ৫৬%, যেখানে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ১০ বছরে ৩৬%। বাজার অর্থনীতি (অথবা বাজার অন্ধত্বঃ সধৎশবঃ ভঁহফধসবহঃধষরংস অর্থে) এমনই যে দরিদ্র মানুষ জমি পাবেন কিন্তু তা ধরে রাখতে পারবেন না। গবেষণায় দেখা যায় যে, ৫৪% সুফলভোগী বিভিন্ন কারণে জমির ওপর তাদের অধিকার টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্য কথায় বলতে গেলে, ভূমিহীন গরিব জনগণের যে ক্ষুদ্র অংশটি খাস জমি পেয়েছেন তাদেরও প্রতি ২ জনে ১ জন খাস জমি বন্টনের ন্যূনতম সুবিধাটুকুও পায়নি। বন্টনকৃত খাস জমির উপর অধিকার টিকিয়ে রাখতে পেরেছে মাত্র ৪৬% সুফলভোগী (অর্থাৎ দলিল আছে, জমি চাষ করছেন এবং ফসল ঘরে উঠাতে পারছেন)। ভূমি অফিস ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের সাথে দলকারীদের যোগসাজশ-জমি রক্ষা করতে না পারার প্রধান কারণ। ৫২% সুফলভোগী অবৈধ দখলকারীদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। যে সমস্ত কারণে ভূমিহীন মানুষ তাদের মধ্যে বন্টনকৃত জমি রক্ষা করতে পারেননি সেগুলো হলঃ অবৈধ দখলদাররা ক্ষমতাবান; স্থানীয় ক্ষমতা কাঠামোর সাথে অবৈধ দখলদারদের যোগসাজশ সুদৃঢ়; আইন প্রক্রিয়া ধনী-সহায়ক; আইনগত জটিলতার বিষয়টিই বেআইনী; সরকারি সহযোগিতা- কাগুজে; সমস্যা সৃষ্টিকারী সরকারি কর্মকর্তারা প্রায়শই নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে অভ্যস্ত; গরিবদের বিভক্ত রাখার জন্য অবৈধ দখলদাররা বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে। বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে কোনো কার্যকর ভূমি সংস্কার আদৌ সম্ভব কিনা এসব পরিসংখ্যান সেসব বিষয়েই সন্দেহের জন্ম দেয়। সুফলভোগীদের ৪৬% এর অর্থনৈতিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। ভালো হয়নি ৫৪%-এর (যাদের মধ্যে ৩৬%-এর অবস্থা অতীতের তুলনায় খারাপ হয়েছে)। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি মূলত ২টি বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্তঃ (ক) ভূমির দখলি স্বত্ব ও ফসলের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা (খ) জমির পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে লাঙ্গল ও হালের বলদ সম্পদের উন্নতি-যে ২টি জিনিস নিশ্চিত হয়নি বলেই অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হয়নি। অর্থাৎ অদক্ষ ও অসম্পূর্ণ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির সাথে সম্পর্কহীন খাস জমি-জলা বন্টন-কেন্দ্রিক ভূমি সংস্কারই সুফলভোগীদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। ভূমি প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা, আইন ও নীতিমালা: দুর্বৃত্তদের স্বার্থ সংরক্ষণের যন্ত্র মাত্র । জমি ও জলা-এদেশের মূল ও মৌলিক সম্পদ। অথচ ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা-উভয়ই এখনও ঔপনিবেশিক নিয়মেই চলছে। ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার মূল কাজ তিনটি : ১) রেকর্ড সংরক্ষণ ২) রেজিস্ট্রেশন ৩) সেটেলমেন্ট। সম্পর্কহীন ও সমন্বয়হীন দুটো মন্ত্রণালয়ের তিনটে কর্তৃপক্ষ ভিন্ন ভিন্ন অফিসে এসব কাজ করে-এটাই ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থাপনার অন্যতম সমস্যা যা নিরসনে কোন কার্যকরী উদ্যোগ নেই। রেকর্ড সংরক্ষণের কাজটি করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় তহসিল অফিস। যেহেতু ভূমির কেনাবেচা এবং উত্তরাধিকার সূত্র চলমান সেহেতু রেকর্ড সংরক্ষণের কাজটি জরুরি। রেজিস্ট্রেশনের কাজটি করে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সাবরেজিস্ট্রি অফিস। এ কাজটিও জরুরী । আর সেটেলমেন্ট-এর কাজটি করে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সেটলমেন্ট অফিস। এ কাজটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তখন যখন জনসংখ্যা ছিল কম আর চাষের আওতায় নতুন জমির হিসেব রাখা ও সংশ্লিস্ট খাজনা আদায় প্রসঙ্গটি প্রযোজ্য ছিল (অর্থাৎ ৎবপড়ৎফরহম ঃযব বীঢ়ধহংরড়হ ড়ভ পঁষঃরাধনষব ধপৎবধমব) এখন এটা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। মালিকানা স্বত্বের আইনি রেকর্ড (ড়ভভরপরধষ ৎবপড়ৎফ ড়ভ ড়হিবৎংযরঢ় ৎরমযঃ) সম্পন্ন করতে সম্পর্কহীন তিনটে সংস্থার উপস্থিতি-এটা নিজেই এক অপ্রয়োজনীয় জটিলতা। এ অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করে ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা সুসমন্বিত একক কর্তৃত্বে আনা গেলে সমস্যার কিছুটা সুরাহা হতে পারে। জমি-জলার মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা শুধু যে বেশি তাই নয় এ প্রক্রিয়া বাদী-বিবাদী নির্বিশেষে উভয়েরই নিঃস্বকরণে সহায়ক; এ প্রক্রিয়া সামাজিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করছে এবং সেইসাথে এদেশে সামাজিক পুঁজি বিকাশে অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক। ধরুন জমি নিয়ে বিরোধ শুরু হল। নিষ্পত্তির প্রধান পূর্বশর্ত হল মালিকানার প্রমাণপত্র দাখিল করা। একই জমির মালিকানার দাবিদার তিন ব্যক্তির প্রথম ব্যক্তিমালিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে দাখিল করলেন তহসিল অফিসের কাগজ, দ্বিতীয় ব্যক্তি দাখিল করলেন সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের কাগজ, আর তৃতীয় ব্যক্তি পেশ করলেন সেটেলমেন্ট অফিসের কাগজ। আসলে ঐ জমির মালিক কে? তিনজনই তো ভূমি সংক্রান্ত বীবপঁঃরাব নড়ফু-র কাগজ দেখাচ্ছেন। আইনের দৃষ্টিতে তো তিনজনই মালিক। সে কারণেই বলা হয়ে থাকে যে বাংলাদেশের মানুষের জমি মালিকানা সংক্রান্ত দলিল-দস্তাবেজ একত্রিত করলে জমির পরিমাণ দাঁড়াবে এদেশে মোট যত জমি আছে তার চেয়ে তিনগুণ বেশি। আসলে আমরা যাকে জমি রেজিস্ট্রেশন বলি তা আসলে দলিলের রেজিস্ট্রেশন (ৎবমরংঃৎধঃরড়হ ড়ভ ফববফ)-জমির মালিকানার রেজিস্ট্রেশন নয়। জমির পরচা বা নকশা (জজ-জবপড়ৎফ ড়ভ জরমযঃ) মিলালে হাজারো ত্র“টি দেখা যাবে। দ্বিতীয়ত কোন মালিকের জমি তার নামে নামজারি বা জমা খারিজ (সঁঃধঃরড়হ) করার জন্য দুটো অফিসে যেতে হয়। সেটেলমেন্ট অফিসে কার জমি কোনটা তার মানচিত্র আঁকা হয় (প্রথম সেটেলমেন্ট সার্ভেতে লেগেছিল ৬০বছর-১৮৮০-১৯৪০; এরপর ১৯৫০-এ, তারপরে রিভিশন্যাল সেটেলম্যান্ট যা এখনও চলছে, কবে শেষ হবে কেউই জানে না) আর তহসিলদার, এসিসট্যান্ট কমিশনার (ভূমি) জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় প্রশাসক ইত্যাদি। এভাবে একই জমি বিভিন্ন ব্যবস্থায় মালিকানা বা নামজারি করার ফলে জমির মালিক হয়রানির শিকার হন। সুতরাং স্পষ্ট যে ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার পুরো সিস্টেমটি অযোগ্য, অদক্ষ, অকার্যকর, অস্বচ্ছ, দ্বৈত মালিকানা সৃষ্টিতে সহায়ক, জাল রেকর্ড প্রণয়নে সহায়ক, মামলা মোকদ্দমার ভিত্তি সৃষ্টির সহায়ক, উৎপাদন বৃদ্ধির প্রণোদনা, বিরুদ্ধ, ভূমি, জলদস্যুবৃত্তির সহায়ক, ভূমি জলা কেন্দ্রিক যত ধরনের দুর্নীতি ঘটানো সম্ভব তার সক্রিয় সহযোগী। আর এসব কারণেই মাঝখান দিয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে ভূমি জলা সন্ত্রাসীরা। ভূমি জলা সংক্রান্ত দুর্নীতি ডালপালা গজিয়ে বিস্তৃতি লাভ করছে; সৃষ্টি হচ্ছে ভূমি জলা জোচ্চোর দালাল গোষ্ঠি এসবই ইতোমধ্যে দুর্বৃত্তায়িত অর্থনীতি ও রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন অধিকহারে পুনরুৎপাদনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।আমরা আশাকরি সরকার জলাভূমি রক্ষা করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।†jLK: M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
ড.ফোরকান আলী
বিশ্ব রামসার কনভেনশনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জলজ পরিবেশ উন্নয়নের আন্দোলন সূচিত হয়েছিল। এই কনভেনশনের প্রণীত চুক্তিতে বিশ্বের ১৫০টি দেশ স্বাক্ষর করে। তন্মধ্যে বাংলাদেশও অন্যতম। বিভিন্ন দেশের মতো বিশ্ব জলাভূমি দিবস বাংলাদেশ ও পালন কওে আসছে। জলাভূমি ও জলজ সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন ও সংরক্ষণই এর মূল লক্ষ্য। বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন আলোচনা-সেমিনার এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি অধিকাংশ আলোচনার সারবস্তু পত্র-পত্রিকায় যা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে আনন্দিত হবার কিছু নাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, গত অর্ধ শতাব্দীতে দেশের জলাভূমির পরিমাণ এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। অর্থাৎ জলাভূমি কমেছে ৭০ ভাগ। বাংলাদেশে মোট ভূমির পরিমাণ ৩ কোটি ৭৪ লাখ একর। যার মধ্যে ৬০% কৃষি জমি। প্রায় ১ কোটি একর জমি সরকারি কাজে ব্যবহৃত হয়। চিহ্নিত খাস জমি (কৃষি ও অকৃষিসহ চরের জমি) ও খাস জলার মোট পরিমাণ ৫০ লাখ একর (ভূমি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি)। সেই সাথে অর্পিত সম্পত্তি আইনে সরকারের জিম্মায় আছে ২১ লাখ একর; আর পরিত্যক্ত সম্পত্তির পরিমাণ ১০ লাখ একর। বেড়েছে শহরে জমির দাম-এমন বাড়া বেড়েছে যার কারণটি প্রথাসিদ্ধ অর্থশাস্ত্র বিশ্লেষণে অপারগ। ক্রমবর্ধমান কালো টাকার কারণেই শহরে জমির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ঢাকা শহরেই এখন এক কোটি ২০ লাখ মানুষ (যা দেশের মোট নগর জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ)। যে কারণেই ঢাকা শহর ও তার আশেপাশে জমি দস্যুতা এমনই একটি রূপ নিয়েছে যে গত সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও বলেছে, ঢাকা শহর ও তার আশেপাশে ভূমি দস্যুরা ১০,০০০ একর জমি বেদখল করে আছে (যা দেশের প্রচলিত আইন, ডধঃবৎ ঢ়ৎবংবৎাধঃরড়হ অপঃ বিরুদ্ধ)। কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার সাথে নগরায়ণের সম্পর্ক সম্পর্কে অবশ্যই এ কথা গুরুত্বসহ বিবেচনা করতে হবে যে দ্রুত শহরায়ণের ফলে কৃষিতে অনুপস্থিত ভূ-স্বামীর (ধনংবহঃবব ষধহফষড়ৎফ) মালিকানায় জমি-জলার পরিমাণ গত দু-তিন দশকে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি ফল হল ভাগচাষের আওতায় জমি-জলার পরিমাণ বৃদ্ধি, জমি-জলার প্রকৃত উৎপাদিকা হ্রাস, কৃষি দিন মজুরের অবস্থার অবনতি ইত্যাদি। গত সরকারের ভূমি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বলেছে যে দেশে মোট খাস জমি-জলার পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ একর। আমার হিসেবে দেশে বর্তমানে চিহ্নিত এ খাস জমি-জলার (রফবহঃরভরবফ শযধং ষধহফ) মধ্যে কৃষি খাস জমি ১২ লাখ একর, অকৃষি খাস জমি ২৬ লাখ একর এবং জলাভূমি ১২ লাখ একর৭। এই হিসাব প্রকৃত খাস জমির চেয়ে অনেক কম; কারণ খাস জমির এক বৃহৎ অংশ বিভিন্ন কারণে এখনো সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত নয়। খাস জমির সরকারি হিসেব মারাত্মক বিভ্রান্তিকর। সরকারি হিসেবেই ২৩ লাখ একর খাস জলাভূমি এবং ৭১ হাজার একর খাস কৃষি জমির গড়মিল আছে। সরকারি হিসেবে বলা হচ্ছে, চিহ্নিত ১২ লাখ একর খাস কৃষি জমির ৪৪% গরীব, ভূমিহীন ও দুঃস্থ জনগণের মধ্যে বন্টন করা হয়েছে। গবেষণায় এ হিসেবে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আসলে খাস কৃষি জমির ৮৮% ধনী এবং প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে আছে। অর্থাৎ যাদের জন্য খাস জমি সেই গরীব ও ভূমিহীন জনগণের সত্যিকার অধিকারে আছে মাত্র ১২% খাস কৃষি জমি। আর বন্টনকৃত খাস কৃষি জমির সরাসরি সুবিধাভোগীদের কমপক্ষে ২০% আগে থেকেই ভূমি মালিক। আসলে এদেশে খাস জমি-জলা কার দখলে? এ প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। কারণ এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কোথাও নেই। আমাদের সর্বশেষ এক জরিপ থেকে দেখা যায় যে, সন্দ্বিপ ও মিরশরাইয়ের ৫টি ইউনিয়নে মোট ১৭৪২ একর খাস জমি ও জলা আছে, যার ৯৬.৮% ভূমি-জল দস্যুদের দখলে আর বাদবাকি ৩.২% দারিদ্র্যদের মধ্যে বিতরণ হয়েছে।৮ অথচ ভূমি-জল দস্যুদের বেদখলে যে পরিমাণ খাস জমি জলা আছে তা সরকারি নিয়মে বিতরণ করে ৫টি ইউনিয়নে কমপক্ষে ২২১০ জন ভূমিহীন প্রান্তিক খানার (১০,০০০ মানুষের) দারিদ্র্য উচ্ছেদ সম্ভব। খাস জমির বিতরণ প্রক্রিয়াটা দরিদ্র কৃষকের জন্য বড় ধরনের বিড়ম্বনা। খাস জমির বন্টন প্রক্রিয়ার প্রধান নায়ক হলেন সরকারি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা/কর্মচারী স্থানীয় গণপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রভাবশালী। মিলেমিশে এরা সৃষ্টি করেছে জমি-দস্যুর শক্তিশালী এক বলয়। খাস জমি-জলার বন্টন ও বন্দোবস্ত প্রক্রিয়াটি মূলতঃ স্বাধীনতা পরবর্তী ঘটনা। ২০০১ সাল পর্যন্ত যত জমি বন্টিত হয়েছে তার বেশিরভাগই ঘটেছে ১৯৮১-১৯৯৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। ১৯৯১-৯৬ সালে খাস জমি বন্টনের অনুপাত ১৯৮১-৯০ সালের তুলনায় আপেক্ষিকভাবে বেশি ছিল। প্রথম ক্ষেত্রে ৭ বছরে ৫৬%, যেখানে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ১০ বছরে ৩৬%। বাজার অর্থনীতি (অথবা বাজার অন্ধত্বঃ সধৎশবঃ ভঁহফধসবহঃধষরংস অর্থে) এমনই যে দরিদ্র মানুষ জমি পাবেন কিন্তু তা ধরে রাখতে পারবেন না। গবেষণায় দেখা যায় যে, ৫৪% সুফলভোগী বিভিন্ন কারণে জমির ওপর তাদের অধিকার টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্য কথায় বলতে গেলে, ভূমিহীন গরিব জনগণের যে ক্ষুদ্র অংশটি খাস জমি পেয়েছেন তাদেরও প্রতি ২ জনে ১ জন খাস জমি বন্টনের ন্যূনতম সুবিধাটুকুও পায়নি। বন্টনকৃত খাস জমির উপর অধিকার টিকিয়ে রাখতে পেরেছে মাত্র ৪৬% সুফলভোগী (অর্থাৎ দলিল আছে, জমি চাষ করছেন এবং ফসল ঘরে উঠাতে পারছেন)। ভূমি অফিস ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের সাথে দলকারীদের যোগসাজশ-জমি রক্ষা করতে না পারার প্রধান কারণ। ৫২% সুফলভোগী অবৈধ দখলকারীদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। যে সমস্ত কারণে ভূমিহীন মানুষ তাদের মধ্যে বন্টনকৃত জমি রক্ষা করতে পারেননি সেগুলো হলঃ অবৈধ দখলদাররা ক্ষমতাবান; স্থানীয় ক্ষমতা কাঠামোর সাথে অবৈধ দখলদারদের যোগসাজশ সুদৃঢ়; আইন প্রক্রিয়া ধনী-সহায়ক; আইনগত জটিলতার বিষয়টিই বেআইনী; সরকারি সহযোগিতা- কাগুজে; সমস্যা সৃষ্টিকারী সরকারি কর্মকর্তারা প্রায়শই নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে অভ্যস্ত; গরিবদের বিভক্ত রাখার জন্য অবৈধ দখলদাররা বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে। বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে কোনো কার্যকর ভূমি সংস্কার আদৌ সম্ভব কিনা এসব পরিসংখ্যান সেসব বিষয়েই সন্দেহের জন্ম দেয়। সুফলভোগীদের ৪৬% এর অর্থনৈতিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। ভালো হয়নি ৫৪%-এর (যাদের মধ্যে ৩৬%-এর অবস্থা অতীতের তুলনায় খারাপ হয়েছে)। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি মূলত ২টি বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্তঃ (ক) ভূমির দখলি স্বত্ব ও ফসলের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা (খ) জমির পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে লাঙ্গল ও হালের বলদ সম্পদের উন্নতি-যে ২টি জিনিস নিশ্চিত হয়নি বলেই অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হয়নি। অর্থাৎ অদক্ষ ও অসম্পূর্ণ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির সাথে সম্পর্কহীন খাস জমি-জলা বন্টন-কেন্দ্রিক ভূমি সংস্কারই সুফলভোগীদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। ভূমি প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা, আইন ও নীতিমালা: দুর্বৃত্তদের স্বার্থ সংরক্ষণের যন্ত্র মাত্র । জমি ও জলা-এদেশের মূল ও মৌলিক সম্পদ। অথচ ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা-উভয়ই এখনও ঔপনিবেশিক নিয়মেই চলছে। ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার মূল কাজ তিনটি : ১) রেকর্ড সংরক্ষণ ২) রেজিস্ট্রেশন ৩) সেটেলমেন্ট। সম্পর্কহীন ও সমন্বয়হীন দুটো মন্ত্রণালয়ের তিনটে কর্তৃপক্ষ ভিন্ন ভিন্ন অফিসে এসব কাজ করে-এটাই ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থাপনার অন্যতম সমস্যা যা নিরসনে কোন কার্যকরী উদ্যোগ নেই। রেকর্ড সংরক্ষণের কাজটি করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় তহসিল অফিস। যেহেতু ভূমির কেনাবেচা এবং উত্তরাধিকার সূত্র চলমান সেহেতু রেকর্ড সংরক্ষণের কাজটি জরুরি। রেজিস্ট্রেশনের কাজটি করে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সাবরেজিস্ট্রি অফিস। এ কাজটিও জরুরী । আর সেটেলমেন্ট-এর কাজটি করে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সেটলমেন্ট অফিস। এ কাজটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তখন যখন জনসংখ্যা ছিল কম আর চাষের আওতায় নতুন জমির হিসেব রাখা ও সংশ্লিস্ট খাজনা আদায় প্রসঙ্গটি প্রযোজ্য ছিল (অর্থাৎ ৎবপড়ৎফরহম ঃযব বীঢ়ধহংরড়হ ড়ভ পঁষঃরাধনষব ধপৎবধমব) এখন এটা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। মালিকানা স্বত্বের আইনি রেকর্ড (ড়ভভরপরধষ ৎবপড়ৎফ ড়ভ ড়হিবৎংযরঢ় ৎরমযঃ) সম্পন্ন করতে সম্পর্কহীন তিনটে সংস্থার উপস্থিতি-এটা নিজেই এক অপ্রয়োজনীয় জটিলতা। এ অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করে ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা সুসমন্বিত একক কর্তৃত্বে আনা গেলে সমস্যার কিছুটা সুরাহা হতে পারে। জমি-জলার মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা শুধু যে বেশি তাই নয় এ প্রক্রিয়া বাদী-বিবাদী নির্বিশেষে উভয়েরই নিঃস্বকরণে সহায়ক; এ প্রক্রিয়া সামাজিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করছে এবং সেইসাথে এদেশে সামাজিক পুঁজি বিকাশে অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক। ধরুন জমি নিয়ে বিরোধ শুরু হল। নিষ্পত্তির প্রধান পূর্বশর্ত হল মালিকানার প্রমাণপত্র দাখিল করা। একই জমির মালিকানার দাবিদার তিন ব্যক্তির প্রথম ব্যক্তিমালিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে দাখিল করলেন তহসিল অফিসের কাগজ, দ্বিতীয় ব্যক্তি দাখিল করলেন সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের কাগজ, আর তৃতীয় ব্যক্তি পেশ করলেন সেটেলমেন্ট অফিসের কাগজ। আসলে ঐ জমির মালিক কে? তিনজনই তো ভূমি সংক্রান্ত বীবপঁঃরাব নড়ফু-র কাগজ দেখাচ্ছেন। আইনের দৃষ্টিতে তো তিনজনই মালিক। সে কারণেই বলা হয়ে থাকে যে বাংলাদেশের মানুষের জমি মালিকানা সংক্রান্ত দলিল-দস্তাবেজ একত্রিত করলে জমির পরিমাণ দাঁড়াবে এদেশে মোট যত জমি আছে তার চেয়ে তিনগুণ বেশি। আসলে আমরা যাকে জমি রেজিস্ট্রেশন বলি তা আসলে দলিলের রেজিস্ট্রেশন (ৎবমরংঃৎধঃরড়হ ড়ভ ফববফ)-জমির মালিকানার রেজিস্ট্রেশন নয়। জমির পরচা বা নকশা (জজ-জবপড়ৎফ ড়ভ জরমযঃ) মিলালে হাজারো ত্র“টি দেখা যাবে। দ্বিতীয়ত কোন মালিকের জমি তার নামে নামজারি বা জমা খারিজ (সঁঃধঃরড়হ) করার জন্য দুটো অফিসে যেতে হয়। সেটেলমেন্ট অফিসে কার জমি কোনটা তার মানচিত্র আঁকা হয় (প্রথম সেটেলমেন্ট সার্ভেতে লেগেছিল ৬০বছর-১৮৮০-১৯৪০; এরপর ১৯৫০-এ, তারপরে রিভিশন্যাল সেটেলম্যান্ট যা এখনও চলছে, কবে শেষ হবে কেউই জানে না) আর তহসিলদার, এসিসট্যান্ট কমিশনার (ভূমি) জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় প্রশাসক ইত্যাদি। এভাবে একই জমি বিভিন্ন ব্যবস্থায় মালিকানা বা নামজারি করার ফলে জমির মালিক হয়রানির শিকার হন। সুতরাং স্পষ্ট যে ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার পুরো সিস্টেমটি অযোগ্য, অদক্ষ, অকার্যকর, অস্বচ্ছ, দ্বৈত মালিকানা সৃষ্টিতে সহায়ক, জাল রেকর্ড প্রণয়নে সহায়ক, মামলা মোকদ্দমার ভিত্তি সৃষ্টির সহায়ক, উৎপাদন বৃদ্ধির প্রণোদনা, বিরুদ্ধ, ভূমি, জলদস্যুবৃত্তির সহায়ক, ভূমি জলা কেন্দ্রিক যত ধরনের দুর্নীতি ঘটানো সম্ভব তার সক্রিয় সহযোগী। আর এসব কারণেই মাঝখান দিয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে ভূমি জলা সন্ত্রাসীরা। ভূমি জলা সংক্রান্ত দুর্নীতি ডালপালা গজিয়ে বিস্তৃতি লাভ করছে; সৃষ্টি হচ্ছে ভূমি জলা জোচ্চোর দালাল গোষ্ঠি এসবই ইতোমধ্যে দুর্বৃত্তায়িত অর্থনীতি ও রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন অধিকহারে পুনরুৎপাদনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।আমরা আশাকরি সরকার জলাভূমি রক্ষা করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।†jLK: M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMb evey †ivo, Lyjbv-9100
†gvevBj: 01711579267
email.fourkanali@gmail.com.
0 comments:
Post a Comment