Wednesday, December 25, 2013

পাল্টাচ্ছে কাছিমের প্রজনন কাল

পাল্টাচ্ছে কাছিমের প্রজনন কাল
ড.ফোরকান আলী
সেন্টমার্টিন’স দ্বীপে গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম সাধারণ প্রজনন কালের অন্তত তিন মাস আগে ডিম পাড়তে শুরু করেছে সামুদ্রিক কাছিম অলিভ রিডলে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিবেশ সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় বিরল প্রজাতির এই প্রাণীর প্রজনন কাল পাল্টাচ্ছে।  পরিবেশ অধিদপ্তরের উপকূলীয় ও জলাভূমি জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থপনা প্রকল্পের নিয়মিত পর্যবেণে এ তথ্য মিলেছে। ২০০৬ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের পরিচালক পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একজন উপ সচিব এ দায়িত্বে রয়েছেন। সাধারনত অক্টোবর থেকে সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন কাল শুরু হয়ে থাকে। কিন্তু সেন্টমার্টিন’স দ্বীপে এবার এর ব্যতিক্রম হয়েছে। গত জুলাই মাস থেকে দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় এই প্রজাতির কাছিম নিয়মিত ডিম পাড়ছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১৮শ’ ডিম থেকে তিনশ’ বাচ্চাও ফুটেছে। বাচ্চাগুলোকে ইতিমধ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে। গত ১৫ জুলাই বাদাম বুনিয়ায় ১৪৮টি, ৫ অগাস্ট শীলবুনিয়ায় ১৩০টি, ১০ অগাস্ট শীলবুনিয়ায় ১৫৮টি, ১৫ অগাস্ট দিয়ারমাথায় ১৭০টি, ২৮ অগাস্ট গলাচিপায় ১২৫টি, ৭ সেপ্টেম্বর সীমানা পেরিয়েতে ১৯০টি, ১২ সেপ্টেম্বর শীলবুনিয়ায় ১৬০টি, ১৩ সেপ্টেম্বর শীলবুনিয়ায় ১৩০টি, ১৪ সেপ্টেম্বর প্রিন্স হেভেন-এ ১২৮টি, ১৫ সেটেম্বর অবকাশ বিচে ১৩০টি, ১৬ সেপ্টেম্বর শীলবুনিয়ায় ১৪২টি এবং ২৮ সেপ্টেম্বর শীলবুনিয়ায় ১৩০টি ডিম পেড়েছে এসব কাছিম। দেশের জলসীমায় পাঁচ প্রজাতির (গ্রিন টার্টেল, অলিভ রিডলে, লগারহেড, হকসবিল ও লেদারব্যাক) সামুদ্রিক কাছিম দেখা যায়। এদের সবগুলোই এখন বিপন্ন প্রজাতির। এর মধ্যে কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন’স সৈকতে সবুজ কাছিম ও জলপাইরঙা অলিভ রিডলে সৈকতে আসে ডিম পাড়তে। সেন্টমার্টিন’স দ্বীপের ৯০ শতাংশ কাছিম অলিভ রিডলে প্রজাতির। “সেন্টমার্টিন’স দ্বীপে শীত মৌসুমে মাত্রাতিরিক্ত পর্যটকের আনাগোনা, আশপাশে জেলেদের নিয়মিত অত্যাচার আর পরিবেশগত সঙ্কটাপন্ন অবস্থার কারণে সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন ব্যাহত হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন বিপন্নতার মধ্যে থাকা সামুদ্রিক এই প্রাণীটির টিকে থাকার জন্য স্বাভাবিক প্রজনন সময়ে পরিবর্তন এসে থাকতে পারে।” এ পরিস্থিতিতে এ বিষয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এয়াড়া “মানুষের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডে ফলে জলবায়ু পরিবর্তনজতি প্রভাবে দেশের ঋতু বৈচিত্র্যের তারতম্যও ইতিমধ্যে পরিলতি হচ্ছে। একইসঙ্গে সামুদ্রিক পরিবেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রাণীর জীবনাচরণেও প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।” সাধারণত আশ্বিন-কার্তিক (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর) মাসে কাছিমের প্রজনন কাল শুরু হয়। প্রজনন কাল পরিবর্তন হওয়ার কথা নয়। তবে ঋতু বৈচিত্রের তারতম্যের কারণে কাছিমের ডিমের সংখ্যা ও প্রজনন কালে তারতম্য ঘটবে। সেন্টমার্টিন’স এ-ও তা-ই ঘটতে পারে। এেেত্র যেখানে দল বেঁধে কাছিম ৩০০ থেকে এক হাজার ডিম পাড়ার কথা সেখানে একশ’ থেকে দুইশ’ ডিম পাড়বে।“যে কোনো প্রাণী টিকে থাকতে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। হুমকিগ্রস্ত সময় এড়িয়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় তারা। দ্বীপের পরিবেশগত ডিস্টার্বেন্সের পাশাপাশি সামুদ্রিক পরিবেশও কাছিমের প্রজননে প্রভাব ফেলছে। ঋতু বৈচিত্র্যেও যে পরিবর্তন ঘটছে তাও ধরে নেওয়া যায়।” প্রচলিত প্রজনন কালে কাছিমের ডিম পাড়া স্বাভাবিক থাকলেও এবার তিন মাস আগে প্রাণীটির ‘ব্রিডিং ট্রেন্ড’ কে দ্বীপটির জীববৈচিত্রের জন্য একটি সতর্কবার্তা বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নভেম্বর-ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত সেন্টমার্টিন’স দ্বীপে পর্যটকদের চাপ থাকে। এই সময়ে কলোহলে স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হয় প্রাণীটির। অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত সামুদ্রিক কাছিমের মূল প্রজনন কাল। তবে সারা বছরই তারা ডিম পাড়তে পারে। এদের পেটে তিন ধরনের ডিম থাকে। ম্যাচুরড হলেই ডিম পাড়তে সৈকতে ছোটে। ডিম পাড়ার পরই আবার সমুদ্রে চলে যায়। স্থানীয় সুত্র বলছেন,১৯৯৭-৯৮ সালে সরকারের অর্থায়নে সেন্টমার্টিন’স দ্বীপের ওপর গবেষণা করে সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছিল। প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলেন, দ্বীপের আশপাশে জেলেদের পাতা জালে সামুদ্রিক কাছিম ধরা পড়ছে। মাত্রাতিরিক্ত জনসমাগমে বিনষ্ট হচ্ছে সৈকতের পরিবেশ। “স্বাভাবিক প্রজনন কালের বাইরে ডিম পাড়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। এ নিয়ে আরো গবেষণা দরকার” প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকার জীববৈচিত্র্য রায় সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও তা টেকসই করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকারকে বিদ্যমান বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।এখনই উপয্ক্তু ব্যবস্থা না নিলেও শুধু বিপন্ন প্রজাতির কাছিম নয়, পুরো এলাকার জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন প্রাণিবিদরা। পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, দেশের সর্বদেিণর এই দ্বীপে ১৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির স্থল উদ্ভিদ, ৬৬ প্রজাতির প্রবাল, ১৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ২৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৪ প্রজাতির উভচর, ২৯ প্রজাতির সরীসৃপসহ নানা প্রজাতির প্রাণী রয়েছে।এদের বাচাঁতে হবে।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267





0 comments:

Post a Comment