Wednesday, December 25, 2013

হুমকির মুখে কাছিম

হুমকির মুখে কাছিম
ড.ফোরকান আলী
দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাছিম শিকারের সংখ্যা বাড়ছে। অবৈধভাবে বিক্রি, পাচারও করা হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় এ প্রজাতি। একশ্রেণীর অর্থলোভী মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতিবান্ধব কচ্ছপ নিধন করে চলেছে। এর বিরুদ্ধে বন বিভাগ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও বেশিরভাগ েেত্রই এর সঙ্গে জড়িতরা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্যপ্রাণী আইনে সব প্রজাতির কচ্ছপ, কাইট্টা ও কাছিম ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী সংরণ আইনের তৃতীয় তফসিলের চতুর্থ ধারায় কচ্ছপ ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করে বিভিন্ন দ-ের বিধান রাখা হয়েছে, এমনকি আন্তর্জাতিক আইনে সব প্রজাতির কচ্ছপ বিপণন ও ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব আইন অমান্য করেই চলছে কাছিম নিধন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নানা কারণে বিলুপ্তির পথে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ কাছিম। দেশের জলাভূমির আশপাশের আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে কচ্ছপের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। বাংলাদেশে বর্তমানে ২৮ প্রজাতির কচ্ছপ থাকলেও বেশির ভাগ প্রজাতি এখন বিপন্ন বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বিশেষ করে মিঠা পানির কাইট্টা প্রজাতির কাছিম সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে রয়েছে।
শুক্রবার পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে অবৈধভাবে বিক্রির সময় ১০টি বিরল প্রজাতির ধুম কাছিম উদ্ধার করে বন বিভাগ। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভোরে বস্তায় করে বিক্রির জন্য আনা হয় এসব কাছিম। কোতোয়ালি থানার সহযোগিতায় বন বিভাগের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শাখা অভিযান শুরু করলে কাছিমগুলো ফেলে বিক্রেতারা পালিয়ে যায়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন বন সংরক (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরণ অঞ্চল) তপন কুমার দে।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বন বিভাগের প থেকে অভিযান চালিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪০৬টি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো কক্সাজারের সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হয়। ২৬ এপ্রিল ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করে আনার সময় ১৫৫টি কচ্ছপ যশোরে আটক করে বন বিভাগ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। অভিযানের আগেই পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। উদ্ধার করা এসব কাছিমের মধ্যে ছিল শিলা ও কালিকাইট্টা প্রজাতির। এছাড়াও গত বছর ২০ জুন পটুয়াখালী থেকে ২৯টি, ২৩ মে ২০১০ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ৪৬০, ৮ ডিসেম্বর ২০১১ খুলনা থেকে ১০৩, ২৬ মার্চ ২০১২ বেনাপোল থেকে ২০০টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সেতুর টোলঘর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস থেকে ৩০টি কাছিম উদ্ধার করা হয়। পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে ঢাকায় পাচারকালে মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ এগুলো উদ্ধার করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন প্রজাতির এসব কাছিম বাংলাদেশে বিলুপ্তপ্রায়। দেশে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় এসব কাছিমের নাম রয়েছে। বাংলাদেশের নদী নালা ও খালে এক সময় প্রচুর কাছিম পাওয়া যেত। কিন্তু অবৈধভাবে বিক্রির ফলে কাছিমের সংখ্যা কমে আসছে। তাদের মতে, সব প্রজাতির কাছিম এখন বিরল হয়ে পড়েছে। কাছিম শিকার বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। কারণ যারা কাছিম বিক্রি করে, তারা এর গুরুত্ব না বুঝেই করে থাকে। তাঁদের মতে, কচ্ছপ, পানিতে পচা বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর দেহাবশেষ খেয়ে পানিদূষণ থেকে রা করে। দেশের জীববৈচিত্র সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য রা করে এসব কাছিম। কিন্তু দেশের জলাভূমির আশপাশের আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এদের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে পড়েছে। বন্যপ্রাণী সংরণে কচ্ছপ নিধন বন্ধের জন্য সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় সামগ্রিকভাবে পরিবেশ-প্রতিবেশ হুমকির মুখে পড়তে পারে।
গবেষকদের মতে, বাংলাদেশে এক সময় ২৮ প্রজাতির কাছিম পাওয়া যেত। এর মধ্যে সামুদ্রিক কাছিম রয়েছে ৫ প্রজাতির। ২ প্রজাতি স্থলে অর্থাৎ পাহাড়ী এলাকায় বাস করে। আর ২১ প্রজাতির কাছিমের বাস খাল বিলসহ অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে। তাঁদের মতে, মিঠা পানিতে বাস করা একধরণের কাইট্টা কাছিমের প্রায় ৮০ ভাগ বিলুপ্তির পথে। এছাড়া অন্যান্য প্রজাতিও হুমকির মুখে রয়েছে।
কাছিমসহ বিভিন্ন বিলুপ্ত প্রজাতির প্রাণী নিয়ে গবেষণা করছে কারিনাম নামে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মতে, মানুষের সৃষ্ট সমস্যার কারণে কাছিম বেশি হুমকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে মিঠা পানির কাছিম প্রকৃতি থেকে বেশি পরিমাণ আহরণ করা হচ্ছে। এছাড়া আবাসস্থল ধ্বংস, খাল বিল জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কাছিম প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বিলুপ্তির হাত থেকে কাছিম রা করতে হলে আলাদা নীতিমালার প্রয়োজন।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267


0 comments:

Post a Comment