Tuesday, December 24, 2013

ক্ষুদ্রঋণঃ পরার্থপরতা না শোষণ?

ক্ষুদ্রঋণঃ পরার্থপরতা না শোষণ?
ড.ফোরকান আলী
জার্মান সাংবাদিক ইউ বুজে সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকালে দ্রঋণের বিভিন্ন প্রেতি নিয়ে কথা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং আশা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে ুদ্রঋণের বিভিন্ন দিক নিয়ে ইউ বুজে ইর্ফরলধ্রব মর শিরোণামের একটি প্রবন্ধ রচনা করেন। নেলসন ম্যাণ্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং ও মাদার তেরেসার মত মুহাম্মদ ইউনূস একজন আদর্শ মানুষ। নোবেল বিজয়ী এসব খ্যাতিমান মানুষদের মতো মুহাম্মদ ইউনূসও বিশ্বাস করেন মানুষের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত মতার পুনর্বিন্যাস করা সম্ভব। ইউনূস একজন ভাল বক্তা। যখন কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে যান অথবা অনেক শ্রোতার সম্মুখে তিনি বেশ ভালভাবে কথা বলতে পারেন। ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকে তিনি অসংখ্য মানুষের সামনে নিজের বক্তব্য অত্যন্ত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি অত্যন্ত সহজ জীবনযাপন করেন। যে কেউ খুব সহজেই তার কাছে পৌঁছুতে পারে। মানুষের সঙ্গে সাাৎ তার দৈনন্দিন কাজের অংশ। তিনি পুরস্কার পেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যেই তিনি বিশ্বখাদ্য পুরস্কার, প্লানেটারি কনসাসনেস পুরস্কার ও সিডনী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। প্রায় সকল বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পচ্ছন্দ করেন এবং দ্রুত তা প্রকাশ করেও থাকেন। কিন্তু সফিকুল হক চৌধুরীর সংস্পর্শে এলে ইউনূসকে একজন স্বল্প কথার মানুষ বলে মনে হয়। মুহাম্মদ ইউনূসের মতোই সফিকুল হক চৌধুরী দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। ইউনূসের মতো সফিকুল হক চৌধুরী পরিষ্কার কথা বলতে পচ্ছন্দ করেন। যখন তাকে ইউনূস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি সংেেপ বলেন, তাঁর অর্জন রয়েছে।’ ইউনূস এবং চৌধুরী দু’জনেই ঢাকা শহরে বাস করেন। ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী এবং অতি ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহর। শহরটি ক্রমশ আশপাশের এলাকায় সম্প্রসারিত হচ্ছে। দু’জনেই ঢাকা শহরে ছোট ছোট অসংখ্য ঘরবাড়ীর মাঝে দুটি আকাশচুম্বি ভবন নির্মাণ করেছেন। দু’জনের মধ্যে সাদৃশ্য হচ্ছে, তারা দুজনেই ব্যাংক পরিচালনা করছেন। ইউনূস তার প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের নামের সঙ্গে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছেন। সফিকুল হক চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান আশাকে আইনগত কারণে ব্যাংক বলা হয় না। আশা একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান (এনজিও)।
এ দু’জন ব্যক্তি একত্রে আরো ভাল কাজ করতে পারতেন। কিন্তু তারা একে অপরকে এড়িয়ে চলেন। অনেকেেত্রই তারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। যদি চৌধুরীর সবশেষ প্রকল্প সফল হয়, তবে তারা পরস্পর প্রতিপক্ষে পরিণত হবেন। ইউনূস হচ্ছেন গরীব মানুষের ব্যাংকার এবং ুদ্রঋণের গডফাদার। নিরীাধর্মী কাজের মাধ্যমে তিনি মানবিকতার অলিম্পাস পর্বতের চূড়ায় স্থান করে নিতে সম হয়েছেন। পুঁজিবাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ব্যাংকের চরিত্র তিনি ঝুঁকি নিয়ে বদলে দিয়ে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি ঋণকে মানবাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং অনেককে সচ্ছলতা ও সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছেন।
ইউনূসের বিখ্যাত সদস্য লাইলী বেগমের মতো লাখ লাখ মানুষের জীবনে পরিবর্তন এনেছেন। যদিও তিনি চরম সাফল্য অর্জন করেছেন তবুও তার মতবাদ এখন বিপন্ন এবং শীঘ্রই তা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে। ঢাকার বাইরে লাইলী বেগমের বাড়ী দেখতে যাই। একটি অপরিসর, অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তা তার বাড়ীর উঠানে গিয়ে ঠেকেছে। প্রথমেই কয়েকজন শিশুকে উদোম গায়ে বাড়ীতে উঠানে ধুলাবালির মধ্যে খেলতে দেখলাম। উঠানে কাপড় রোদে দেয়া, মুরগী ইতঃস্তত ঘুরে বেড়াচ্ছে। একটি গরু বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা, উত্তপ্ত মধ্য দুপুরে সে তার লেজ দিয়ে মাছি তাড়াচ্ছে। উঠানের ডান কোণে নিচু চালের রান্নাঘর এবং রান্নাঘরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে হাসিমাখা মুখে লাইলী হাত উঁচিয়ে সালাম জানালেন। দেশী-বিদেশী ভিজিটরে লাইলী অভ্যস্ত। কারণ তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত ুদ্রঋণ সদস্য। পোস্টারে, ব্র“সিয়ারে, সরকারি অফিসে, দোকানে ও বাড়ীতে বাড়ীতে লাইলীর ছবি শোভা পাচ্ছে। তিনি জানালেন সাম্প্রতিক কয়েক বছরে তাদের পরিবারে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। লাইলীর স্বামী আতিকুল্লাহ আগে দিনমজুরের কাজ করতেন এবং লাইলী ছিলেন একজন গৃহবধূ মাত্র। একটি মাটির ঘরে তারা ছেলেমেয়ে ও গরু-বাছুর নিয়ে এক সঙ্গে বাস করতেন। প্রায়শই বর্ষাকালে নিকটবর্তী খালের পানিতে ঘরটি জলমগ্ন হয়ে পড়তো। জমিতে উৎপাদিত সামান্য ফসল ও দিনমজুরীর ওপর তাদের নির্ভর করতে হতো। প্রায় রাতেই তাদের ভাবতে হতো যে স্বল্প খাবার আছে সেটুকু কে খাবে স্বামী না কি বাচ্চারা? বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন তারা ভাবছেন তাদের বড় সন্তান উচ্চশিার জন্য কি বিদেশে যাবে নাকি দেশেই থাকবে। একটি নতুন টেলিভিশন সেট কেনা উচিত কি না? ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য তিনটি মোবাইল ফোন সেট যথেষ্ট কিনা? তাদের পরিবারে এ সচ্ছলতার উৎস প্রধান সড়কের উপর পাঁচটি দোকান। যাদের এক একটি সাইজ একটি গাড়ীর গ্যারেজের অর্ধেক। দোকানগুলো লাইলী বেগম দেখাশুনা করেন। তিনি এগুলো নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। ভাড়াটিয়া দোকানিরা খাবার, মোটর অয়েল, লন্ড্রী, সেলুন ইত্যাদির ব্যবসা করেন। দোকানের সঙ্গে লাগোয়া লাইলী বেগমের ছোট্ট একটি বিল্ডিং বাড়ী রয়েছে। বিল্ডিংটিতে নয়টি এ্যাপার্টমেন্ট তিনি পুরোপুরি শেষ না করেই ভাড়া দিয়েছেন। বাড়ীতে পিছনে একটি গরুর ঘর করেছেন। দোকান ভাড়া, এ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া ও গাভীর দুধ বিক্রি করে লাইলীর পরিবার প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ টাকা আয় করে। এই আয় লাইলী বেগমের পরিবারকে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে উন্নীত করেছে। লাইলী পরিবার এই উন্নতির জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের নিকট কৃতজ্ঞ। মুহাম্মদ ইউনূস প্রায় ৩০ বছরের বেশী আগে চিহ্নিত করেন যে, দারিদ্যের কারণেই সেবাখাত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দরিদ্র মানুষ যুক্ত হতে পারছে না। যেহেতু দরিদ্র মানুষ জামানত দিতে পারে না তাই ব্যাংকগুলো তাদের ঋণ দিতে চায় না। বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যাংকার মনে করেন দরিদ্রদের ঋণ দেয়া আত্মহত্যার সামিল। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. ইউনূস তাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি প্রথম ঋণ দেন ৪২ জন নারীকে যারা খাঁচা তৈরি করতো। সকল ঋণগ্রহীতা নারীই যথাসমেয় ঋণের অর্থ পরিশোধ করে। দায়িত্ব পালনের চেয়ে নারীরা টাকা-পয়সা নিয়েই বেশী ব্যস্ত দরিদ্র মানুষকে ঋণ প্রদানের মাধ্যমেই গ্রামীণ ব্যাংকের শুরু। গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপ জানান, এখনো তারা গরীব মানুষদেরই ঋণ দেন এবং ঋণ পরিশোধের হার ৯৮ ভাগের উপর। এটা সম্ভব হয়েছে অপ্রচলিত নীতি অনুসরণের ফলে। যদিও গ্রামীণ ব্যাংক ব্যক্তিকেই ঋণ দিয়ে থাকে কিন্তু ঋণ দায়ভার ঋণ গ্রহীতা দলের উপর ন্যস্ত থাকে। যদি কোন সদস্য ঋণ পরিশোধে অপারগ হয় তবে দলের অন্যান্য সদস্যরা এই ঋণ দায় বহন করে। এই নীতি অনুসরণের ফলে গ্রামীণ ব্যাংক লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। গত ১০ বছর ধরে ব্যাংকটির বার্ষিক গড় আয় প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশী। মুনাফার অর্থ ব্যাংকটি নতুন ব্রাঞ্চে বিনিয়োগ করে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার ২০% । কিন্তু ইউনূসের সমালোচকরা এটাকে চাঁদাবাজি বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে ইউনূসের প্রতিক্রিয়া হলো, তারা এ বিষয়ে তেমন কিছুই বোঝে না। ইউনূসের কর্মীরা ঋণের কিস্তি আদায়ের জন্য বাইসাইকেল ও মটর সাইকেলে ঋণ গ্রহীতা গ্রুপের বাড়ীতে যায়। এভাবে ঋণ আদায়ের ব্যয় অনেক বেশী। ১৯৯৭ সালে লাইলী বেগম প্রথম গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণের টাকায় লাইলী একটি কালো নকিয়া ১৬১০ মোবাইল সেট ক্রয় করে। এটি এখনো তার কেবিনেটে রতি আছে। যদিও এর অনেকগুলো বাটন উঠে গেছে। তার বাচ্চারা মাঝে মাঝে এটি নিয়ে খেলে। স্বামীর বদলে লাইলীর ঋণ পাওয়ার বিষয়টি কোন দুর্ঘটনা ছিল না। কারণ গ্রামীণ ব্যাংক শুধুমাত্র মহিলাদেরই ঋণ দেয়। মুহাম্মদ ইউনূস মনে করেন, মহিলারা পুরুষের চেয়ে দায়িত্বশীলভাবে টাকা পয়সা ব্যবহার করতে পারে। বাংলাদেশে নারীর মুক্তি দারিদ্র্য মুক্তির বাইপ্রোডাক্ট।
লাইলী তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার কুঁড়ে ঘরটিকে কলসেন্টারে পরিণত করেন। কেউ যদি তার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনকে ফোন করতো তবে প্রতি মিনিট কলের জন্য লাইলী বেগমকে তখন ৭ টাকা দিতে হতো। লাইলী ৪.৪০ টাকা নিজে রেখে দিতেন এবং বাকী টাকা কোম্পানীকে পরিশোধ করতেন। এটি ভাল ব্যবসা এবং একটি চমৎকার আইডিয়া। এই মোবাইল ফোনটি দিয়ে লাইলী সেসময় মাসে গড়ে ৮০ হাজার টাকা আয় করতেন। লাইলী এবং তার গ্রামবাসীরা এই মোবাইল সেটটির মাধ্যমে উপকৃত হয়। চাষীরা তাদের পণ্য বিক্রির জন্য মোবাইলের মাধ্যমে ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করতো। বাজার মূল্য যাচাই করতে পারতো। রোগীরা সহজেই ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং মূল্যবান সময় বাঁচাতে পারতেন এবং দিনমজুর কাজের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। লাইলী তার নকিয়া মোবাইল সেটটি গ্রামীণফোন কোম্পানী থেকে ক্রয় করেন। গ্রামীণফোন প্রথম বাংলাদেশের সর্বত্র মোবাইল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে। এটি যৌথ উদ্যোগ। ইউনূস ও নরওয়ের টেলিনর কোম্পানী যৌথভাবে গ্রামীণফোন কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে লাইলী বেগম গ্রামীণ ফোনের জন্য বিজ্ঞাপন হিসাবে ব্যবহৃত হয়। প্রায় দশ বছর পূর্বে লাইলী তথাকথিত পল্লীফোন মহিলা হিসাবে পরিচিত হন। বর্তমানে খ্যাতি ও সম্পদ এই পল্লীফোনের মাধ্যমেই আসে। লাইলী মোবাইল ফোন ব্যবসা থেকে সফলভাবে বেরিয়ে অন্য কারবার শুরু করে। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেকগুলো মোবাইল কোম্পানি প্রতিযোগিতা করছে। বাংলাদেশের সর্বত্র মোবাইল ফোন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের ২৭ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। ফলে মোবাইল ফোন ব্যবসার দৈনিক আয় ২০০ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে। এর চেয়ে লাইলী বেগমের কাছে এ্যাপার্টমেন্ট বানানো লাভজনক। মুহাম্মদ ইউনূস অনেক দরিদ্র মানুষকে স্থানীয় মহাজনের খপ্পড় থেকে রা করেন। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তিনি একটি নতুন তৃতীয় পথ দেখিয়েছেন। ইউনূসের আগে মানবিক সামন্তবাদ কাজ করতো। এ প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের সমস্যা সমাধান করা হতো। ইউনূসের যুগ শুরু হওয়ার পর দরিদ্র মানুষকে অনুদানের পরো গ্রহীতা হিসাবে বিবেচনা করা বন্ধ হলো। দরিদ্র মানুষ তাদের ভাগ্য উন্নয়নের সুযোগ নিজেরাই পেল এবং স্বল্প অর্থে তারা নিজেদের সহায়তা করার সুযোগ লাভ করে। অনুদানের টাকা মানুষকে অকর্মণ্য ও অস্বচ্ছ কওে সমাজতন্ত্রের পতনের পর ইউনূসের মডেল গোটা পৃথিবীর জন্য অনুসরণীয় হয়ে উঠল এবং পুঁজির দ্বারস্থ হতে বাধ্য হলো। পুঁজি গৃহের অভ্যন্তরে ঢোকার উপায় খুঁজতে লাগলো। লাইলী বেগমের মতো অসংখ্য সফল মানুষ পাওয়া যাবে বিভিন্ন দেশের গ্রামে গ্রামে। বিশ্বের ৯৩ দেশে ১০ হাজারের বেশি ুদ্র ঋণ সংস্থা কাজ করছে। সম্মিলিতভাবে এসব প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬ কোটি মানুষের নিকট ুদ্রঋণ পৌঁছে দিচ্ছে। কিছু নিবেদিত প্রাণ মানুষ গ্রামীণ ব্যাংকের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। বাকি সংস্থাগুলো আগের প্রকল্পের ধারাবাহিকতা মাত্র। দীর্ঘদিন অনেক প্রতিষ্ঠাতা ইউনূসের নীতি ও বিধিবিধান অপচ্ছন্দ করতেন। কিন্তু দৃশ্যপটে একশ্রেণীর নতুন দারিদ্র্য বিমোচনকারীর আবির্ভাব ঘটেছে। সফিকুল হক চৌধুরী তাদের একজন। তিনি ইউনূসের মতো পুঁজিবাদের সংস্কারে আগ্রহী নন। তিনি একইসঙ্গে দারিদ্র্যর বিরুদ্ধে সংগ্রামের বদলে জীবনমান উন্নত করতে বেশি আগ্রহী। চৌধুরী বলেন, অনুদানের টাকা আপনাকে অলস বানিয়ে ফেলবে, স্বচ্ছতা নষ্ট করবে। সঞ্চয়ের বদলে আপনি ব্যয়ে বেশি উৎসাহিত হবেন। চৌধুরী অফিসে একজন অতিসক্রিয় মানুষ। কাজের চাপে তার চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে। নিশ্বাস বন্ধ করে একটানা কথা বলার অসাধারণ মতা রয়েছে তার। মানুষ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, আমি কর্মীদের রোবোটে পরিণত করেছি। এটা সত্য কথা। আমি কাজের লোক চাই, বেশি সৃষ্টিশীল মানুষ প্রয়োজন নেই। একজন মানুষই টেলিফোন আবিষ্কার করেছেন, একদল নয়। আমি নির্ভরযোগ্য ও নিষ্ঠাবান মানুষ চাই। আমি নিজেই নতুন কিছু উদ্ভাবনের জন্য যথেষ্ট। চৌধুরী একটি কাগজের প্যাডের ওপর দুইটি চতুর্ভুজ আঁকলেন, তার ওপর ইংরেজী ক তৈরি করেন, অতপর একটি বৃত্ত রচনা করলেন। এই চিত্রটি আশা’র ব্রাঞ্চের মত। কাগজের ওপর কলমের খোঁচা দিতে দিতে তিনি কথাগুলো বলছিলেন। দুইটি টেবিলে ব্রাঞ্চের কর্মী বসে কাজ করেন। বাড়তি কিছুই নেই, একটি মাত্র পাখা, নেই কোন রাত্রিকালীন পাহারাদার। কর্মীরা ব্রাঞ্চ অফিসে রাত্রিযাপন করে। এভাবেই আপনি টাকা বাঁচাতে পারেন এবং দতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। চৌধুরী সামরিক ফরমানের মত সংপ্তি জিনিস পচ্ছন্দ করেন। সমাজবিজ্ঞানে তার উচ্চতর ডিগ্রী রয়েছে। ুদ্রঋণ পদ্ধতিকে নিখুঁত নাকি ধ্বংসকরণ? চৌধুরী কি ইউনূসের সিস্টেমকে আরো নিখুঁত করছেন না ধ্বংস করছেন। প্রথম থেকেই আশা ুদ্রঋণ মডেলে পরিবর্তন সাধনের মাধ্যমে তিনি ুদ্রঋণ সেক্টরে খ্যাতি অর্জন করেছেন। ১৯৮০’র দশকে আশা একটি সহায়তা দানকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করতো। ুদ্রঋণ ছিল আশা’র দ্বিতীয় কার্যক্রম। চৌধুরী অনুধাবন করতে পারেন অধিকাংশ গরীব মানুষদের অর্থের প্রয়োজন, সেমিনার নয়। তিনি গ্রামের পুরুষদেরকে বলেন, যদি তারা আশা’র নিকট থেকে কিছু পেতে চায় তবে তারা যেন স্ত্রীদের আশা’র কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করে। এরপর আশা অত্যন্ত সফলভাবে নারীদের ুদ্রঋণ কার্যক্রমে যুক্ত করতে থাকে। কিন্তু স্বামীরা এ কার্যক্রমের বাইরে থাকে। নারীরা ঋণগ্রহণ করে এবং পুরুষরা ঋণের টাকা ব্যবহার করে। যা আশা’র ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা বিধান করেছে। বাংলাদেশের নারীদের গন্ডি দারিদ্র্য বিমোচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ
ইউনূসের মতো চৌধুরী ুদ্রঋণ কার্যক্রমে যুক্ত। কিন্তু তিনি মিশনারীর মতো মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহী নন। তিনি তার কর্মসূচি পরিচালনা করেন একজন সামরিক কর্মকর্তার মতো। বিশ্বের সবচেয়ে দ ুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য তিনি গর্বিত। ফর্বস ম্যাগাজিন তার কথাকে সমর্থন করেছে। ফর্বস ম্যাগাজিনের তুলনামূলক সমীায় আশা বিশ্বের ৬০০টি ুদ্রঋণ সংস্থার মধ্যে ১ম স্থান অধিকার করে। গ্রামীণ ব্যাংক পায় ১৭তম স্থান। ফর্বসের একটি বাঁধানো তালিকা চৌধুরী রুমের বাইরের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে। একজন সংপ্তি ছাত্র হিসেবে তিনি শিককে সিংহাসনচ্যুত করতে উদগ্রীব। অনেকের মতো তিনিও ইউনূসের ব্যাংকের নিয়মনীতি অনুসরণ করেছেন। তবে তিনি ুদ্রঋণে কার্যক্রমে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও সাধন করেছেন। এসব কারণেই রতœা আকতার গ্রামীণ ব্যাংকের বদলে আশা থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন। ঢাকার অদূরেই রতœা আকতারের বাড়ী। তার গ্রামটি জলবেষ্টিত। গ্রামের জমি উঁচু এবং উর্বর। রতœার কয়েকটি গরু ও কয়েক টুকরা ফসলের জমি রয়েছে। ঋণের টাকা ব্যবহার করে সে ও তার স্বামী এগুলো ক্রয় করেছেন। তারা গরুর দুধ ও জমিতে উৎপাদিত শাক-সবজি নিকটবর্তী পাইকারী বাজারে বিক্রি করেন। সেখান থেকে এগুলো বাজারের দোকানীদের নিকট চলে যায়। এই কাজ করে তারা দুই রুমের ঘর, একটি টেলিভিশন, একটি মোবাইল ফোন ও ৫০০০ টাকা সঞ্চয় করেছেন। রতœা ও আরো ২০ জন মহিলা সপ্তাহে একবার তার বাড়ীর উঠানে জড়ো হন। তারা কিস্তির টাকা এবং হিসাব বই হাতে রেখে মাটিতে বসেন। আশা’র একজন কর্মী তাদের সামনে চেয়ারে বসে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করেন এবং হিসাব বইতে তা লিপিবদ্ধ করে দেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের মতো আশা’রও দল আছে কিন্তু দলীয় দায়বদ্ধতা নেই। একজন খারাপ গ্রহীতার জন্য কেন আমি একজন ভাল গ্রহীতাকে শাস্তি দেব, চৌধুরী বললেন। এর পরিবর্তে আশা’র কর্মীরাই খেলাপী ঋণ আদায়ের দায়িত্ব পালন করে। তিনি জানালেন আশা’র ঋণ আদায়ের হার প্রায় ১০০%। প্রায় কাগজহীন অফিস পরিচালনার জন্য তিনি গর্বিত।
ধনবান মানুষের সহায়তা এ দু’জন ব্যক্তির মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো, ইউনূস মানুষকে বদলাতে চান, চৌধুরী চান না। সামর্থ্যবান মানুষদের সহায়তা নিয়ে চৌধুরী দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে চান। ধনী মানুষের সহায়তা লাভে চৌধুরী প্রায় গোটা পৃথিবী সফর করেছেন। তিনি দেখা করেছেন লগ্নীকারী ব্যাংকের সঙ্গে, পেনশন ফান্ড ম্যানেজারদের সঙ্গে এবং প্রত্যাশা করছেন তারা আশাতে বিনিয়োগ করবেন। যখন কোন বিদেশীর সঙ্গে এই অতিসক্রিয় বাংলাদেশী ব্যক্তিটির দেখা হয়, জানতে চায় আশা কী করছে? চৌধুরী উত্তর দেন, আমি গরীব মানুষের জন্য টাকা ধার করি। এরপর বেশীর ভাগ েেত্রই যে শব্দটি তিনি শুনতে পান তা হলো, গুডবাই। তবে সব বিনিয়োগকারী মুখ ফিরিয়ে নেয় না। কতিপয় যারা তার কথা শুনতে চায়, তিনি তাদের নিকট তার কর্মসূচি তুলে ধরেন। ঋণ আদায়ের হারের কথা বলেন। তখন তারা বিস্তারিত তথ্য জানতে চায়। এরপর তারা চৌধুরীকে এক লাখ-দুই লাখ ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন এই সামান্য টাকা দিয়ে আমি কী করব? তাদের বলি, আমি ১২৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এই অর্থে চীনে, পাকিস্তানে, ভারতে, নেপাল, শ্রীলংকায় ও আফগানিস্তানে আশা’র ব্রাঞ্চ স্থাপন করতে চাই। আমি প্রতিশ্র“তি দিতে পারি আগামী দশ বছর গড়ে ১০% প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। চৌধুরী ইতোমধ্যে তহবিল সংগ্রহ করে ফেলেছেন। তাঁর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে নেদারল্যান্ডের পেনশন ফান্ড এবিপি, আমেরিকার টিআইএএ সিআরইএফ। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এগুলো শুধুমাত্র বিনিয়োগ না বরং গরীবদের সহায়-সম্পদ অর্জনে সহায়তাও বটে। গত চার বছরে ুদ্রঋণ সংস্থাগুলোতে বিদেশী বিনিয়োগ দ্রুত ১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এই ব্যবসায় নতুন বিনিয়োগকারীরা হচ্ছে ক্রেডিট সুইস, মরগান স্টেনলি, ফরাসী ইন্স্যুরেন্স গ্রুপ এএক্সএ, দ্য ব্যাকস্টোন, দ্য কারলিলে গ্রুপ প্রভৃতি। গরীবদের সহায়তার মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের ধারণায় এসব প্রতিষ্ঠান আকৃষ্ট হয়েছে।
মানবিকতার মুখোশে শোষণ অনেক প্রতিষ্ঠান মুনাফা লাভের জন্য পুঁজি ও মানবিকতাকে ব্যবহার করে। কিন্তু অনেক েেত্রই মানবিকতার কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। এ প্রসঙ্গে কমপার্টামাস-এর উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। মুহাম্মদ ইউনূস মনে করেন, এই মেক্সিকান ুদ্র বিনিয়োগকারী ব্যাংকটি অতি সুকৌশলে মানবিকতার মুখোশের আড়ালে একটি আধুনিক শোষণকারী প্রতিষ্ঠান। কমপার্টামাসের শ্লোগান হচ্ছে, ‘চল সবকিছুকে ভাগ করে নিই’। কয়েকজন দাতা ১৯৯০ সালে এই ধ্রুপদী ুদ্র বিনিয়োগকারী সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির দু’জন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কার্লোস ডেনিয়েল ও কার্লোস ল্যাবার্থে কমপার্টামাসকে একটি ব্যাংকে পরিণত করে। ২০০৭ সালে কমপার্টামাস পাবলিক লিমিটেড কোম্পানীতে রূপান্তরিত হয়। কোম্পানীটির শেয়ারের জন্য ১৩ গুণ আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি করে কমপার্টামাস পুঁজিবাজার থেকে ৫১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুঁজি সংগ্রহ করে। কোম্পানীর অধিকাংশ শেয়ার ব্যাংক মালিকদের হাতে চলে যায়। কমপার্টামাস বর্তমানে মেক্সিকোর সবচেয়ে লাভজনক ব্যাংক এবং এখন গরীবদের ঋণ দানকারী বিশেষায়িত হিসাবে পরিচিত। কিন্তু কমপার্টামাসের বার্ষিক সুদের হার ৯০%। প্রায় ৮৫০,০০০ মেক্সিকান মহিলা নিয়মিতভাবে এই ব্যাংকের ঋণের কিস্তি শোধ করে যাচ্ছেন। বার্ষিক ৫৫% লভাংশ দিয়ে ব্যাংকটি এখন বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকটির দুইজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ব্যাংকটির এই মুনাফা অর্জন সম্ভব হতো না যদি এটিকে বাণিজ্যিকীকরণ করা না হতো। গরীব ও বিনিয়োগকারীদের জন্য তেমন কোন সুবিধা না দিয়েই ব্যাংকটির কর্ণধাররা মুনাফাকে হালাল করছেন। যখন কমপার্টামাস পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হলো, তখন উত্তপ্ত বিতর্ক উঠেছিল যে, ুদ্রঋণ খাত কতখানি সীমা অতিক্রম করতে পারে। একটি ুদ্রঋণ দানকারী ব্যাংকের মুনাফা কত উঁচু হওয়া উচিত, ৫%, ১০%, ২০%। বিশ্বজুড়েই ুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ৭.৫% সুদ নিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানিক দক্ষতার মাধ্যমে আশা বছরে গড়ে ১৪ % মুনাফা অর্জন করছে, যা নিয়েই চৌধুরী সন্তুষ্ট। মুহাম্মদ ইউনূসের চেয়ে তিনি মাত্র ৩% বেশী সার্ভিস চাজ নিয়ে থাকেন। তিনি সেইসব বাংলাদেশীকে আশা’র সদস্য করতে চান, যারা গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণের চাপ থেকে বেরুনোর পথ খুঁজছেন। চৌধুরী তরুণ অর্থনীতিবিদদের মধ্য থেকে সেইসব সহযোগী ও কর্মীকে খুঁজে বের করেন, যাদের উচ্চশিার সঙ্গে মুনাফা অর্জন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের মানসিকতা রয়েছে। মহাজনরা কি আবারো ফিরে আসবে?
বিনিয়োগকারী মানুষরা অহমিকাপূর্ণ ব্যক্তি নন। এরা পুঁজিবাদের সাহায্যে গরীব মানুষের উপকার ও সহায়তা করার পথ বের করার চেষ্টা করছেন। এদের অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন অর্থনীতির সঙ্গে পরিচিত নন। অনেকের কাছেই ইউনূস একজন অগ্রদূত, আবার অনেকেই ইউনূসকে রোলমডেল হিসাবে স্বীকার করেন না। মনুফা প্রত্যাশী বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত করা নিয়ে নেক্সটবিলিয়ন ডট নেট-এর মতো ফোরামে কালেভদ্রে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দরিদ্র মানুষের কল্যাণে নেক্সট বিলিয়ন ডট নেট তেমন কোন আগ্রহ নেই। এসব কর্মকাণ্ডে ইউসূস খুবই বিরক্ত। তাঁর আশংকা আগামীতে ুদ্রঋণ সেক্টর দারিদ্র্য বিমোচনের চেয়ে বিনিয়োগকারীদের মুনাফার প্রতি বেশী মনোযোগী হয়ে পড়বে। ইউনূস জানালেন, আমাদের ল্য ছিল মহাজনদের তাড়িয়ে দেয়া। কিন্তু তারা আবারও ফিরে আসছে। ইউনূস যে অফিসে বসে কাজ করেন, বিগত বছরে তার অনেক বর্ণনা মিডিয়ায় দেয়া হয়েছে। তাঁর অফিসের অভ্যন্তরে সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। যে টেবিলে তিনি কাজ করেন তা খানিকটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য আসবাবপত্র ও এয়ারকন্ডিশন ছাড়াই তিনি কাজ করেন। এই কটি এক সময় প্রগতি ও দর্শন চর্চার স্থান ছিল, যখন সৌহার্দ্যকে স্বেচ্ছায় আত্ম-উৎসর্গ হিসাবে দেখা হতো। তারপর অনেক কিছ্ইু পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে সবকিছু যেন বেশীর আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। গরীবদের জন্য আরো বেশী, লগ্নীকারীদের জন্য আরো বেশী, ইত্যাদি। এখন ইউনূসের অফিস সেকেলে হয়ে পড়েছে। শীঘ্রই এটি জাদুঘরে পরিণত হবে।

0 comments:

Post a Comment