Friday, November 29, 2013

ফরমালিন মিশ্রিত খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

ফরমালিন মিশ্রিত খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে
 ড.ফোরকান আলী
ফরমালিন ব্যবসার ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় স্বাস্থ্যঝুকি বাড়ছে। অপরাধ বাড়ছে অব্যাহত ভাবে। বর্তমানে দেশে ফরমালিন ব্যবসার ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। যদিও এ বিষয়টি নিয়ে বার বার আলোচনা হয়েছে। মানুষ ফরমালিন নামক বিষের বিষক্রিয়া তিগ্রচ্চ হচ্ছেন। কিন্তু এর প্রতিকাওে বাচ্চবে কোন ব্যাবস্থাই নেয়া হচ্ছেনা।
দেশে বর্তমানে যে কেউ যে কোনো পরিমাণে এই রাসায়নিক দ্রব্যটি কিনতে পারেন। তাই এর অবাধ ব্যাবহারের  সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তারা মাছ ও খাদ্য ‘সংরণ’ করতে নির্বিচারে তা ব্যবহার করছে। মাছ, দুধ এমনকি ফলকে পচনের হাত থেকে রা করতেও এই ফরমালিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে মারাত্বক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন ক্রমবর্ধমান হারে অগনিত মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফরমালিন মানুষের পেটে যেভাবেই যাক না কেন, সেটা তার স্বাস্থ্য ও জীবনের জন্য তির কারণ। মাছ সংরণে ফরমালিন ব্যবহারের অভিযোগ বেশ পুরনো। ২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের এক গবেষণায় মাছে ফরমালিন ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া যায়। একই সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ’-এর প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের ডিন পৃথক এক গবেষণায় ফল সংরণে ফরমালিন ব্যবহারের প্রমাণ নিশ্চিত করেন। ফরমালিনে ডুবিয়ে রাখলে মাছ, পোকামাকড় বা প্রাণীদেহের যেকোনো অঙ্গ-প্রতঙ্গ বছরের পর বছর ধরে অবিকৃত অবস্থায় রাখা যায়। ফরমালিনের এই বৈশিষ্ট্যই অসাধু ব্যবসায়ীদের আকর্ষণ করেছে।
ভেজাল বিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরের বিভিন্ন বাজারে মাছে ফরমালিন ব্যবহারের দায়ে অনেক ব্যবসায়িকে ইতিপূর্বে শাস্থিও দিয়েছেন। দেশে ফরমালিন বেচা-কেনার উপর নিয়ন্ত্রণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু সরকারের নিস্ক্রিয়তা ও যথাযথ পর্যবেণ এর অভাবে দেশে অসাধু ব্যবসায়ীদের এই সুস্পষ্ট জীবন বিনাশী কাজ রোধ করা যায়নি।
আমাদের জেনে রাখা দরকার যে, ফরমালিন এর কারণে তাৎণিকভাবে ডায়রিয়া হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাবে লিভার সিরোসিস এবং শেষপর্যায়ে লিভার ক্যান্সারও হতে পারে। ফরমালিন কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও গর্ভের শিশু, ছোট বাচ্চা, হাঁপানি রোগী এবং এলার্জির রোগীদের জন্য ফরমালিন বিশেষভাবে বিপজ্জনক। খাদ্যে ফরমালিন মেশানোর সময় এর ঝাঁঝালো গন্ধে ফুসফুসের টিস্যু তিগ্রচ্চ হয়। এতে ফুসফুসের কার্যমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফরমালিনের প্রভাবে হাঁপানি হতে পারে। আরো হতে পারে ‘ক্রনিক অবস্ট্রাকট্রিভ পালমোনারি ডিজিজ’ (সিওপিডি)। এছাড়াও ফরমালিনের ঝাঁঝে চোখের কর্নিয়া তিগ্রচ্চ হতে পারে, চোখে দ্রুত ছানি পড়তে পারে, ইত্যাদি। অতএব নিজেদেরকে রা করার কারণেই আমাদের সদা-সতর্ক থাকা দরকার। এেেত্র রাষ্ট্রের দায়িত্ব অনেক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেনাবেচার জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক ও নিয়মিত তদারক করা হলে এই ব্যবসায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। কারণ বাংলাদেশে ব্যবহৃত ফরমালিনের পুরোটাই বৈধ পথে আমদানির মাধ্যমে আসে। কাজেই এই ব্যবসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা মোটেও কঠিন হবে না।
ফরমালিনের অপব্যবহার রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এর সহজলভ্যতা দূর করা। তাই ফরমালিন গণহারে বিক্রি বন্ধ করা না গেলে এর অপব্যবহার হবেই, বন্ধ করা যাবেনা। বিশুদ্ধ খাদ্য (সংশোধন) আইন অনুযায়ী খাদ্যে ফরমালিন ব্যবহারের জন্য গুরুতর শাস্থির বিধান রাখা হয়েছে। ফরমালিন মেশানোর জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা দু’ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় শাস্থির বিধান রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় একই অপরাধ করলে শাস্থির পরিমাণ অনেক বেশি। কিন্তু এই আইন প্রয়োগের অভাবে তা কার্যকর হচ্ছেনা। ফলে আইন আইনের জায়গায় বসে রয়েছেন। প্রয়োগকারীরা যেন নাকে সর্ষে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন।
আমরা জানি, ফরমালিন মেশানো খাবার দীর্ঘদিন খেলে ফুসফুস, যকৃৎ বা লিভার বা কিডনি আক্রান্ত হতে পারে। মানুষ মারা’ও যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এব্যাপারে যথেষ্ট আলাপ আলোচনা বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছেন, কিন্তু কার কথা কে শুনছে? তার তদারক’ইবা কে করছেন? এমন অবস্থাতেই রয়েছেন দেশবাসী স্বাস্থ্য হুমকির মারাত্বক এই অব্যাবস্থার মধ্যে। তাই আমাদের নিজেদের জন্যে নিজেদেরকেই সদা-সতর্ক থাকতে হবে। অন্তত: সুস্থ্য দেহ সুস্থ্য মন নিয়ে সুস্থ্য ভাবে বেছে থাকার জন্যে। সুস্থ্য একটি জাতির জন্যে সরকারের দায়িত্ব এেেত্র অনেক।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267

0 comments:

Post a Comment