হুমকির মুখে দেশের নৌপথ
ড. ফোরকান আলী
বাংলাদেশ একটি নদীবহুল দেশ Ñ একটি কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি হচ্ছে আমদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আর কৃষির মূল উপাদান হচ্ছে পানি Ñ পানির মূল উৎস হচ্ছে নদী। নদী হচ্ছে মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। রেল ও সড়ক পথ থাকলেও নদীপথ বা নৌপথ হচ্ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের চালিকাশক্তি। সেই নৌপথই এখন হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের মধ্যে ২০ হাজার নটিক্যাল মাইল নৌপথ ইতিমধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে সচল আছে ৫হাজার ৯শত ৬৮ নটিক্যাল মাইল। সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, এই নৌপথের ৮০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে নাব্যতা সংকটের কারণে। এই নাব্যতা সংকটের কারণ বহুবিধ। ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব, সীমান্ত নদীতে বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের বাঁধ নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, নদী দখল করে শিল্পকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্মাণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের কারণে নদী মরে যাচ্ছে। নদী মরে যাওয়ার কারণে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা প্রণালী পরিবর্তিত হচ্ছে। কারণ কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের জীবপ্রকৃতির সকল ধারার সাথে নদীর রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তাই নদী মরে যাওয়ার ফলে দেখা দিচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়। মরা নদীর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে এক একটি ইতিহাস।
দেশের ছোট বড় ২৩০টি নদীর মধ্যে ১৭৫টির অবস্থা শোচনীয়। ইতোমধ্যে দেশের মানচিত্র থেকে ১৭টি নদী চিরতরে হারিয়ে গেছে। বিলুপ্তির পথে আরও ৮টি নদী। দেশের উত্তর অঞ্চলের ৬৭টি নদী, দণি-পশ্চিমাঞ্চলের ১২টি এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলে ৩২টি নদী মারাত্বক হুমকির মুখে রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় অনেক নদী মুছে গেছে। ঢাকার চারপাশে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গা, শীতল্যা, বালু ও তুরাগ এই চারটি নদীও মৃতপ্রায়। দেশের বুকে বয়ে চলা নদীগুলোর মধ্যে ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদী। এর মধ্যে ৫৪টি নদীর উৎসমুখ ভারতে আর ৩টির সংযোগ মিয়ানমারের সাথে। অভিযোগ আছে ভারত এসব নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করায় দেশের নদী ভরাট প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। দেশের নদীপথ পুনরুদ্ধারে তাই খনন কাজ জরুরী। অথচ খনন কাজের অত্যাধুনিক ড্রেজার মেশিন আমাদের নেই। গত ৪০ বছরে ড্রেজার সংগ্রহের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে সুখবর হচ্ছে, বর্তমান সরকার ড্রেজার সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের ড্রেজার সংস্থার ড্রেজিং বহর সমৃদ্ধ করা হলে বিপন্ন নদনদী ও বিলুপ্ত নৌপথ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সামগ্রিক নৌ-পরিবহন ব্যবস্থায় উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।
ড. ফোরকান আলী
বাংলাদেশ একটি নদীবহুল দেশ Ñ একটি কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি হচ্ছে আমদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আর কৃষির মূল উপাদান হচ্ছে পানি Ñ পানির মূল উৎস হচ্ছে নদী। নদী হচ্ছে মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। রেল ও সড়ক পথ থাকলেও নদীপথ বা নৌপথ হচ্ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের চালিকাশক্তি। সেই নৌপথই এখন হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের মধ্যে ২০ হাজার নটিক্যাল মাইল নৌপথ ইতিমধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে সচল আছে ৫হাজার ৯শত ৬৮ নটিক্যাল মাইল। সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, এই নৌপথের ৮০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে নাব্যতা সংকটের কারণে। এই নাব্যতা সংকটের কারণ বহুবিধ। ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব, সীমান্ত নদীতে বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের বাঁধ নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, নদী দখল করে শিল্পকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্মাণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের কারণে নদী মরে যাচ্ছে। নদী মরে যাওয়ার কারণে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা প্রণালী পরিবর্তিত হচ্ছে। কারণ কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের জীবপ্রকৃতির সকল ধারার সাথে নদীর রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তাই নদী মরে যাওয়ার ফলে দেখা দিচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়। মরা নদীর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে এক একটি ইতিহাস।
দেশের ছোট বড় ২৩০টি নদীর মধ্যে ১৭৫টির অবস্থা শোচনীয়। ইতোমধ্যে দেশের মানচিত্র থেকে ১৭টি নদী চিরতরে হারিয়ে গেছে। বিলুপ্তির পথে আরও ৮টি নদী। দেশের উত্তর অঞ্চলের ৬৭টি নদী, দণি-পশ্চিমাঞ্চলের ১২টি এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলে ৩২টি নদী মারাত্বক হুমকির মুখে রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় অনেক নদী মুছে গেছে। ঢাকার চারপাশে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গা, শীতল্যা, বালু ও তুরাগ এই চারটি নদীও মৃতপ্রায়। দেশের বুকে বয়ে চলা নদীগুলোর মধ্যে ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদী। এর মধ্যে ৫৪টি নদীর উৎসমুখ ভারতে আর ৩টির সংযোগ মিয়ানমারের সাথে। অভিযোগ আছে ভারত এসব নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করায় দেশের নদী ভরাট প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। দেশের নদীপথ পুনরুদ্ধারে তাই খনন কাজ জরুরী। অথচ খনন কাজের অত্যাধুনিক ড্রেজার মেশিন আমাদের নেই। গত ৪০ বছরে ড্রেজার সংগ্রহের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে সুখবর হচ্ছে, বর্তমান সরকার ড্রেজার সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের ড্রেজার সংস্থার ড্রেজিং বহর সমৃদ্ধ করা হলে বিপন্ন নদনদী ও বিলুপ্ত নৌপথ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সামগ্রিক নৌ-পরিবহন ব্যবস্থায় উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment