Friday, November 29, 2013

বন্দরের গতিশীল রাখতেই হবে

বন্দরের গতিশীল রাখতেই হবে
 ড. ফোরকান আলী
বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রীর যে বৈঠক হয়েছে চট্টগ্রামে, তাতে বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগের যেন কোন শেষ নেই। চট্টগ্রাম বন্দরটি আমাদের প্রধান সমুদ্রবন্দর। এটিকে আরও বেশি ব্যবহারের এবং তার মধ্য দিয়ে দেশকে অনেক বেশি লাভবান করার স্বপ্নও রয়েছে আমাদের। বন্দরটি আগামীতে এ অঞ্চলের দেশগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করলে আমরা নিশ্চয়ই অনেক বেশি উপকৃত হব। তাতে দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে। আমাদের জানা আছে, এশিয়ারই কোন কোন দেশ মূলত বন্দরের লাভজনক ব্যবহার নিশ্চিত করে চমকপ্রদ উন্নতি দেখিয়েছে। এত কথা সত্ত্বেও বাস্তবতা হল, চট্টগ্রাম বন্দর দেশীয় ব্যবসায়ী তথা আমদানি ও রফতানিকারকদের চাহিদাই ঠিকমতো মেটাতে পারছে না। বন্দর কর্তৃপরে প থেকে বলা হচ্ছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে আমদানি-রফতানি বেড়ে যাওয়াতেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে গিয়ে থাকলে তা অবশ্যই সুখবর। কিন্তু তা ঘটে থাকলে সে অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপও কি প্রস্তুতি গ্রহণ করবে না? দেশে গণতান্ত্রিক সরকার এলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, এটা সবাই বলছিলেন। সরকারও এজন্য নানা পদপে গ্রহণ করে। মংলা বন্দরকেও এ ল্েয সক্রিয় করে তোলার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু মংলাকে দ্রুত কার্যকর করে তোলা কঠিন। তারচেয়ে চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও কার্যকর করে তোলার সুযোগ স্বল্পমেয়াদে বেশি। ব্যবসায়ীরা সে দাবিই জানাচ্ছিলেন। নৌমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তারা যত অভিযোগই উত্থাপন করুন আর তা নিয়ে যত উত্তেজনাই সৃষ্টি হোক, তাদের মূল দাবি বন্দরকে সক্রিয় করে তোলা। চট্টগ্রাম বন্দরে এতটা জাহাজ ও কনটেইনারজট সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আর দেখা যায়নি বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ উড়িয়ে দেয়া যাবে না। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত খবর ছাপা হয়েছে। বন্দরের কার্যমতা বৃদ্ধিতে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, তাতেও নাকি চলছে অনিয়ম। বিভিন্ন েেত্র অযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে কাজ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ নতুন করে তোলা হয়েছে বৈঠকে। বন্দর কর্তৃপরে কাজে মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটি অহেতুক হস্তপে করছে বলে অভিযোগের সদুত্তর মন্ত্রী দিতে পেরেছেন বলে মনে হয়নি। ব্যবসায়ীরা মরিয়া হয়েই এমন দাবি তুলেছেন যে, মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রীকে চট্টগ্রামে অবস্থান করতে হবে। সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ যারা চান, তারাও এ ধরনের প্রস্তাব করে থাকেন। সুতরাং ব্যবসায়ীদের উক্তিতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। তারা আসলে চাইছেন বন্দর চেয়ারম্যানকে যেন বিভিন্ন সভায় যোগ দিতে বা জবাবদিহি করতে রাজধানীতে বেশি অবস্থান করতে না হয়। এ অবস্থা চলার পাশাপাশি বন্দরের কাজ ব্যাহত না হলেও কেউ মনে হয় আপত্তি করতেন না। চট্টগ্রাম বন্দরের সংরতি এলাকা থেকে মালামাল চুরি হয়ে যাওয়ার খবর বেরিয়েছে অনেক আগেই। এেেত্রও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে বিজিএমইএ’র প থেকে বৈঠকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। বন্দর ব্যবহারকারীদের এ বক্তব্যও বিবেচ্যÑ কেন সংকট চলাকালেও তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয় না? নৌমন্ত্রী তাদের কথা দিয়েছেন, ১৫ দিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি েেত্র উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করবেন তারা। তাই যেন হয়। এেেত্র এ প্রশ্নও উঠবে, এতদিন তাহলে কোথায় ছিলেন? বন্দরে গতিশীলতা বজায় রাখতে হবে এজন্যও যে, তা না হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় এবং ভোক্তাদের বেশি দাম গুনতে হয়।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267

0 comments:

Post a Comment