শৈলকূপার কুমার নদের বুকে শুধু চর আর চর
ফোরকান আলী
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত কুমার নদ এখন মৃতপ্রায়। সর্বত্র জেগেছে শুধু চর আর চর। কোথাও পানিপ্রবাহ নেই। জেগে ওঠা চর আর ভরাট হয়ে যাওয়া স্থানে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হচ্ছে। এসব স্থানের বেশিরভাগই ভূমিদস্যু দখলদাররা দখলে নিয়ে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছে। অতীতে সারা বছর এ নদ দিয়ে চলাচল করত ছোট-বড় লঞ্চ, স্টিমার, পালতোলা নৌকা বা গহনার নৌকা। আর এখন ভরা বর্ষা মৌসুমেও ছোট ছোট নৌকা চলাচল করতে পারে না। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিক মাছেরও সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হাট-বাজার ও জনপদ গড়ে উঠেছে কুমার নদকে ঘিরে। এই নদে ব্যবসায়ীরা দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা/লঞ্চে করে মালামাল আনা-নেয়া করত। কুমারদের তৈরি মাটির জিনিস বহনের জন্য কুমার নদ ছিল অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম। তখন ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল জমজমাট। এই নদটি দিন দিন ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে লঞ্চ/নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন নদীতীরবর্তী হাট-বাজারও নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। কৃষক পানির অভাবে শত শত হেক্টর জমিতে সেচ দিতে পারছে না। আগে নদের দু’পাড়ে পাম্প বসিয়ে কৃষকরা ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলি জমিতে প্রয়োজনমতো অল্প খরচে পানি সেচ দিতে পারতো। উলেখ্য, কুমার অনেক পুরনো নদ। চুয়াডাঙ্গা জেলার হাট বোয়ালিয়া নামক স্থানে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে এর উৎপত্তি হয়েছে। ১৭৬৪ সালে কুমার নদের প্রথম প্রবহমানতার মানচিত্র তৈরি করা হয় বলে জানা যায়। এই নদ উৎপত্তি স্থান হাট বোয়ালিয়া থেকে ২৫ কিলোমিটার এবং ঝিনাইদহ সীমানার মধ্য দিয়ে শৈলকূপা উপজেলায় প্রবেশ করে এবং মাগুরা জেলা শহরের কাছে নবগঙ্গার সাথে মিলিত হয়। এই নদটি নৌ-পরিবহনের আর উপযুক্ত নয়, এমনকি নদটির কোনো নিজস্বতা নেই। বর্ষা মৌসুমে ২/৩ মাস নৌ-যোগাযোগ সম্ভব। সাধারণভাবে এর গভীরতা তেমন নেই তবে মাগুরা পার হয়ে ফরিদপুর শহর এবং নগরকান্দা উপজেলার কাছে হালকা গভীরতা আছে। কুমার নদের মোট দৈর্ঘ্য ১৪৪ কিলোমিটার। নদটি উৎপত্তিস্থল থেকে শৈলকূপার গাড়াগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্থ গড়ে ১০৭ মিটার এবং পরের অংশে প্রায় ২৩০ মিটার। আলমডাঙ্গা, হরিণাকুণ্ডু, শৈল-কূপা, শ্রীপুর, মাগুরাসহ আরো কিছু স্থান কুমার নদের তীরে অবস্থিত। উলেখ্য, এই নদ ফরিদপুরের নগর-কান্দায় স্থানীয়দের কাছে শীতল্যা বলে পরিচিত। এক সময় কালীগঙ্গা, ছাকু, হানু, মুচিখালী ইত্যাদি নদী কুমার নদের মূল ধারার সাথে প্রবাহিত হতো। যে নদীসমূহ গড়াই-এর শাখা ছিল। কুমার নদের উৎপত্তিস্থল ‘গঙ্গা-কপোতা সেচ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের সময় নবগঙ্গা থেকে বিছিন্ন করা হয়। যার ফলে এক সময়কার খরস্রোতা কুমার এখন সরু ক্যানেলে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই নদের প্রবাহ কেবল জিকে সেচ প্রকল্প ও স্থানীয় দৃষ্টিপাতের অতিরিক্ত জল। শৈলকূপাসহ কুমার নদ তীরবর্তী লাখ লাখ মানুষের দাবি, অবিলম্বে নদীটি পুনঃখনন করা হোক। এটি নাব্যতা ফিরে পেলে এলাকার মানুষ অকাল খরা ও বন্যা থেকে রা পাবে তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। রা পাবে পরিবেশ, ঘটবে না প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
ফোরকান আলী
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত কুমার নদ এখন মৃতপ্রায়। সর্বত্র জেগেছে শুধু চর আর চর। কোথাও পানিপ্রবাহ নেই। জেগে ওঠা চর আর ভরাট হয়ে যাওয়া স্থানে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হচ্ছে। এসব স্থানের বেশিরভাগই ভূমিদস্যু দখলদাররা দখলে নিয়ে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছে। অতীতে সারা বছর এ নদ দিয়ে চলাচল করত ছোট-বড় লঞ্চ, স্টিমার, পালতোলা নৌকা বা গহনার নৌকা। আর এখন ভরা বর্ষা মৌসুমেও ছোট ছোট নৌকা চলাচল করতে পারে না। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিক মাছেরও সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হাট-বাজার ও জনপদ গড়ে উঠেছে কুমার নদকে ঘিরে। এই নদে ব্যবসায়ীরা দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা/লঞ্চে করে মালামাল আনা-নেয়া করত। কুমারদের তৈরি মাটির জিনিস বহনের জন্য কুমার নদ ছিল অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম। তখন ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল জমজমাট। এই নদটি দিন দিন ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে লঞ্চ/নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন নদীতীরবর্তী হাট-বাজারও নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। কৃষক পানির অভাবে শত শত হেক্টর জমিতে সেচ দিতে পারছে না। আগে নদের দু’পাড়ে পাম্প বসিয়ে কৃষকরা ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলি জমিতে প্রয়োজনমতো অল্প খরচে পানি সেচ দিতে পারতো। উলেখ্য, কুমার অনেক পুরনো নদ। চুয়াডাঙ্গা জেলার হাট বোয়ালিয়া নামক স্থানে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে এর উৎপত্তি হয়েছে। ১৭৬৪ সালে কুমার নদের প্রথম প্রবহমানতার মানচিত্র তৈরি করা হয় বলে জানা যায়। এই নদ উৎপত্তি স্থান হাট বোয়ালিয়া থেকে ২৫ কিলোমিটার এবং ঝিনাইদহ সীমানার মধ্য দিয়ে শৈলকূপা উপজেলায় প্রবেশ করে এবং মাগুরা জেলা শহরের কাছে নবগঙ্গার সাথে মিলিত হয়। এই নদটি নৌ-পরিবহনের আর উপযুক্ত নয়, এমনকি নদটির কোনো নিজস্বতা নেই। বর্ষা মৌসুমে ২/৩ মাস নৌ-যোগাযোগ সম্ভব। সাধারণভাবে এর গভীরতা তেমন নেই তবে মাগুরা পার হয়ে ফরিদপুর শহর এবং নগরকান্দা উপজেলার কাছে হালকা গভীরতা আছে। কুমার নদের মোট দৈর্ঘ্য ১৪৪ কিলোমিটার। নদটি উৎপত্তিস্থল থেকে শৈলকূপার গাড়াগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্থ গড়ে ১০৭ মিটার এবং পরের অংশে প্রায় ২৩০ মিটার। আলমডাঙ্গা, হরিণাকুণ্ডু, শৈল-কূপা, শ্রীপুর, মাগুরাসহ আরো কিছু স্থান কুমার নদের তীরে অবস্থিত। উলেখ্য, এই নদ ফরিদপুরের নগর-কান্দায় স্থানীয়দের কাছে শীতল্যা বলে পরিচিত। এক সময় কালীগঙ্গা, ছাকু, হানু, মুচিখালী ইত্যাদি নদী কুমার নদের মূল ধারার সাথে প্রবাহিত হতো। যে নদীসমূহ গড়াই-এর শাখা ছিল। কুমার নদের উৎপত্তিস্থল ‘গঙ্গা-কপোতা সেচ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের সময় নবগঙ্গা থেকে বিছিন্ন করা হয়। যার ফলে এক সময়কার খরস্রোতা কুমার এখন সরু ক্যানেলে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই নদের প্রবাহ কেবল জিকে সেচ প্রকল্প ও স্থানীয় দৃষ্টিপাতের অতিরিক্ত জল। শৈলকূপাসহ কুমার নদ তীরবর্তী লাখ লাখ মানুষের দাবি, অবিলম্বে নদীটি পুনঃখনন করা হোক। এটি নাব্যতা ফিরে পেলে এলাকার মানুষ অকাল খরা ও বন্যা থেকে রা পাবে তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। রা পাবে পরিবেশ, ঘটবে না প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment