Wednesday, November 27, 2013

পদ্মা-মেঘনায় অসংখ্য চর ও ডুবোচর

পদ্মা-মেঘনায় অসংখ্য চর ও ডুবোচর
 ফোরকান আলী
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা-ধনাগোদা ও ডাকাতিয়া নদীতে অসংখ্য ডুবোচর ও চর জেগে উঠেছে। ফলে নৌযান চলাচলের মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। দিনেরবেলায় সূর্যের আলোতে নৌযান চলাচল করতে পারলেও রাতের বেলায় ঝুঁকি নিয়ে একটা অনিশ্চয়তায় পাড়ি জমাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপ নদীর বিভিন্ন স্থানে বয়া, বিকন বাতি, চিহ্ন (মার্ক) এবং সোলার লাইট দিয়ে নদীতে চরের ইঙ্গিত করলেও একশ্রেণীর দুস্কৃতিকারী এ সমস্ত বয়া, বিকন বাতি ও সোলার লাইটের মূল্যবান ব্যাটারিসহ যন্ত্রপাতি প্রতিনিয়ত চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে সমস্ত নৌপথ থাকছে অরতি এবং সীমানাবিহীন এক কালো ধোয়ার ন্যায়। এরই মাঝে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার উপর দিয়ে দেশের উত্তর-দণি অঞ্চলের শত শত লঞ্চ, স্টিমার কার্গো, ট্রলার, বার্জ, ওয়েলট্যাঙ্ককারকে কোটি কোটি টাকার মালামালসহ ২০/২৫ হাজার যাত্রী বহন করতে হচ্ছে। তাছাড়া রয়েছে নদীর নাব্যতা হ্রাস, সময়মত ড্রেজিং না করার ঝামেলা। অথচ মানুষ ও মালামাল পাড়াপাড়ের েেত্র সড়ক পথের তুলনায় নৌপথেই বেশি সাশ্রয়ী মনে করে থাকেন।বিআইডব্লিউটির সূত্র জানায়, এক সময় সারাদেশে ছোট-বড় মিলে প্রায় আড়াইশ’ নদীতে নৌপথের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ১৪০ কিলোমিটার। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমেই ঐ নৌপথের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার আর শুষ্ক মৌসুমে এর পরিমাণ এসে দাঁড়ায় সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার। এরই মধ্যে বহু নৌপথ চর ও ডুবোচরের কারণে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। মাইলে পর মাইল ডুবোচরের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। বিআইডব্লিউটিএ জানায়, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, ডহুরী, সোয়ারিঘাট, আশুলিয়া, চাঁদপুরের হরিণাঘাট, ফরাজীকান্দি, সফরমালী, আমিরাবাদ, কানুদী, চাঁদপুর বন্দর, কালিপুর, বেলতলী, শরিয়তপুরের ডামুড্ডা, পট্টি, হাটুরিয়া, বরিশালের হিজলা, সোলা, মুলাদী, ঘাসেরহাট, বেদেরগঞ্জের ওয়াপদা, বেদেরগঞ্জ, নড়িয়া, সুরেশ্বর, কার্তিকপুর, জাজিরা ইত্যাদি নৌ-চ্যানেল, এ্যাপ্রোচ সড়কে বিরাট বিরাট চর জেগে উঠায় নৌযান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে। অনেক স্থানে নৌযানকে জোয়ারের পানি আসা পর্যন্ত ঘন্টার পর ঘন্টা অপো করতে হচ্ছে। ইতমিধ্যে চাঁদপুরের হরিণা ফেরীঘাট প্রায় বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। এ স্থানে এখনি ড্রেজিং না করলে ফেরিগুলো চলতে পারবে না। ফলে চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি সার্ভিস তথা দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-দণিাঞ্চলের সাথে একমাত্র সহজ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।চাঁদপুর জেলার ষাটনল হতে রামগতি পর্যন্ত নৌ সীমানায় প্রায় ৯০ কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে এ সব পথে বিগত কয়েকবছর যাবৎ ড্রেজিং না করার দরুন এক একটি ডুবোচর ২/৩ কিলোমিটার লম্বা হয়ে জেগে উঠেছে। এ পথে চরভৈরবী, লোনাবনিয়া, কালিগঞ্জ, চরবিরবির, ঘাসিরচর, ফসরমালী, আমিরাবাদ, কানুদী, কোড়ালিয়া, হরিসভা, গাজীপুর, বেলতলী, আলুরবাজার, ইত্যাদি এলাকায় এখনি ড্রেজিং প্রয়োজন।  নয়তো চাঁদপুরের নৌ-চ্যানেলগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। স্থানীয় বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মকর্তারা জানান, নদীতে ‘চর’ আছে একটি নির্ণয় করার জন্য প্রতিটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৩টি বিকন টাওয়ার বাতি, ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিটি ১৫টি গোল বয়া, ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিটি সোলার প্যানেল লাইট, ১৬টিসহ শতাধিক লোহার ও মুলিবাঁশের মার্ক, পদ্মা-মেঘনার বিভিন্ন স্থানে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণীর দুষ্কৃতকারী এ সমস্ত মূল্যবান লাইটের ব্যাটারী, লাইট, সোলার সেট চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশের প্রায় শতকরা ৮০% ভাগ নৌপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অথচ বর্ষার দেশের ৩০% ভাগ পণ্য সামগ্রী নৌপথে বহন করা সুযোগ হলেও বর্তমানে চর পড়ার দরুন তা ৮-১০% নেমে এসেছে। এ নৌপথেই ২০/২৫ লাখ লোক প্রতিদিন বিভিন্ন নৌযানে কাজকর্ম করে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। অথচ আজ তাদের নেমে আসছে দুর্দিন। আমরা আশাকরি সংশ্লিষ্ট কতৃপ চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা-ধনাগোদা ও ডাকাতিয়া নদীসহ সব নদীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সুদৃষ্টি দিবেন।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267




0 comments:

Post a Comment