ফোরকান আলী
চিত্রা নদী এখন শুধু কাঁদে। তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ায় এ কান্না। ফারাক্কার প্রভাবে উজানের পানির মারাত্মক প্রবাহস্বল্পতা, মাগুরা বাঁধ, নদী ব্যবস্থাপনার নামে নানা অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে নাব্যতা হারিয়ে নড়াইলের ঐতিহ্যের ধারক চিত্রা নদীর অস্তিত্ব হুমকির মুুখে পড়েছে। বহু আগেই এর একাধিক অংশ বিলীন হয়ে গেছে। যে ীণ স্রোতধারাটুকু বুকে নিয়ে চিত্রা প্রবহমান আছে তারও যত্রতত্র জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চিত্রা নদীর অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করেছেন অভিজ্ঞরা। নড়াইল জেলাটি নদীসমৃদ্ধ। ছোট-বড় প্রায় ১০টি নদী এ ছোট্ট জেলাটি ঘিরে প্রবহমান থাকলেও কালের বিবর্তনে যার অধিকাংশই হারিয়ে গেছে। নাব্যতা সংকটে নড়াইল শহরের বুক চিরে প্রবাহিত বহু বছরের পুরাতন চিত্রা নদীর অস্তিত্বও আজ হুমকির মুখে। ফারাক্কার প্রভাবে উজানের পানির স্বাভাভিক প্রবাহ না থাকায়, চিত্রায় প্রবাহমান জলধারার প্রধান উৎস নবগঙ্গা নদীতে মাগুরা শহরের উপকণ্ঠে বাঁধ নির্মাণের ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় চিত্রার পানিপ্রবাহ। স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ হারিয়ে ক্রমশই ীণ হতে থাকে এর স্রোতধারা। এ ছাড়া নদী ব্যবস্থাপনার নামে বাঁধসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণের ফলে নদী আর বিল-মাঠ তথা প্লাবনভূমির সংযোগকারী প্রাকৃতিক খাল-নালাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে নদীবাহিত পলিমাটি বিল-মাঠ প্লাবনভূমিতে পৌঁছাতে না পেরে নদীতে জমা হচ্ছে প্রতিবছর। ফলে একদিকে পলি মাটির সংকটে ফসলি জমি হারাচ্ছে উর্বরতা অন্যদিকে নদী হারাচ্ছে নাব্যতা। বছরের পর বছর নাব্যতা হ্রাসের এ ধারা অব্যাহত থাকায় একসময়ের খরস্রোতা চিত্রার যত্রতত্র জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। বহু বছর আগেই মরে গেছে এর শিখালী-নাকসী হয়ে পূর্বাভিমুখী দারিয়াপুর-চাঁচুড়ি অংশ, মাইজপাড়া থেকে ঘোড়াখালী অংশসহ একাধিক অংশ। নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক মো. আবুল কামাল আজাদ হারানো দিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, চিত্রা এতই খরস্রোতা ছিল যে এর ঘোড়াখালীর বাঁকে প্রায়ই নৌকাডুবি হতো। অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগের েেত্র দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হতো চিত্রা নদী। লঞ্চ, স্টিমার, মালবোঝাই নৌকা আর বড় বড় জাহাজের অবিরাম বিচরণ আর হুইসেলে সদা মুখরিত চিত্রা আজ নিথর নিস্তব্ধ। ব্যস্ত স্টেশনে কুলিদের হাঁক-ডাক, যাত্রীদের হুটোপুটির সেই দৃশ্য আর কখনোই দেখা যাবে না। চিত্রাকে ঘিরে ব্যস্ততার নয়নাভিরাম সেই দৃশ্য আজ শুধুই স্মৃতি।
সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস বলেন, নাব্যতা সংকটে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে নদীকেন্দ্রিক বহু বছরের পুরনো অনেক ব্যবসাকেন্দ্র। ফলে বেকার হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে সাধিত হয়েছে অপূরণীয় তি। চিত্রা-নবগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি প্রফেসর মুন্সি হাফিজুর রহমান বলেন, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নদী আইনের সরাসরি লঙ্ঘন করে নির্মিত মাগুরা বাঁধই চিত্রা নদী মৃত্যুর জন্য দায়ী। একদিন যেখানে স্টিমার চলত মারাত্মক নাব্যতা সংকটে আজ সেখানে নৌকাও চলে না। তিনি বলেন, প্রকৃতির আপন খেয়ালে সৃষ্ট খাল-নালাগুলো এক একটি এলাকার প্রাণ। এসব খাল দিয়েই নদীবাহিত পলিমাটি বিলে প্রবেশ করে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করত। ফলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই প্রচুর পরিমাণে ফসল ফলত। এ ছাড়া অসংখ্য প্রজাতির সুস্বাদু দেশীয় মাছের প্রজনন ত্রে ছিল খাল-নালাগুলো কিন্তু বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে বাঁধ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে অসংখ্য খাল-নালা। ফলে প্রকৃতি হারিয়েছে ভারসাম্য, জমি হারিয়েছে উর্বরতা, বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে রাসায়নিক সারের ব্যবহার, প্রজননে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক প্রজাতির দেশীয় মাছ। তার ওপর অবৈধ দখলদাররা প্রতিনিয়তই গ্রাস করছে চিত্রাকে। তিনি অবৈধ দখল মুক্ত করাসহ সংশ্লিষ্ট সব বাঁধ অপসারণ এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করে, চিত্রাকে বাঁচাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment