Thursday, November 28, 2013

কালীগঙ্গা ধলেশ্বরী বালুচরে হারিয়ে যাচ্ছে

কালীগঙ্গা ধলেশ্বরী বালুচরে হারিয়ে যাচ্ছে
ফোরকান আলী
মানিকগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে প্রবহমান নদীগুলোতে এক সময় পাল তুলে নৌকা চলত- আজ তা শুধুই স্মৃতি। তলদেশ ভরাট হয়ে নদীগুলো এখন শুকনো বালু চরে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুম না এলে বোঝা যাবে না নদীগুলোর অস্তিত্ব। নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় নৌচলাচলে বিঘœ সৃষ্টির পাশাপাশি সেচ কাজে মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে জেলার কৃষকরা। এদিকে নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অপরিকল্পিতভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদী সংলগ্ন ব্রীজের পিলারগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। মানিকগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে কালীগঙ্গা, ইছামতি, ধলেশ্বরীসহ বিভিন্ন শাখা নদী। জেলা শহরের দণি-পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবাহিত কালীগঙ্গা নদীর অবস্থা খুবই করুণ। বর্ষার তিন মাস নৌকা ও লঞ্চ চলতে পারলেও বাকি নয় মাস এই নদীটি কার্যত: পানিশূন্য থাকে। বিশেষ করে জাবরা, নকিববাড়ী হতে বেউথা ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিঃ মিঃ নদী পথ একেবারে শুকিয়ে পায়ে হাঁটার পথে পরিণত হয়।
শহরের পূর্ব দিকে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদী। পাকিস্তান আমলে এই নদীপথে মানিকগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় লঞ্চ, স্টীমার ও নৌকা যাত্রীসহ মালামাল বোঝাই করে যাতায়াত করত। মানিকগঞ্জ শহরের অদূরে অবস্থিত জাগীর একসময় ছিল বড়নদী বন্দর। পাকিস্তান ও ইংরেজ আমলেও এ বন্দর থেকে বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় হাজার হাজার মণ পাট নিয়ে বড় বড় নৌকা যাতায়াত করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে বন্দরটি এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। ধলেশ্বরীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুধু বর্ষার দুই মাস সেখানে মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট পানি থাকে। বাকি ১০ মাস শুষ্ক মৌসুমে নাম ছাড়া ধলেশ্বরী নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এছাড়া জেলার শিবালয়সহ বিভিন্ন উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীরও প্রায় একই অবস্থা।
নদীগুলির তরা বিল্টু স্মৃতি হাট ও তরা ব্রীজের প্রায় দুই কিঃ মিঃ এলাকা জুড়ে এক সময় রবি ফসল ও গ্রীষ্মকালীন ফসলের চাষাবাদ হলেও নদীতে চর পড়ায় বালুর আধিক্যের কারণে এখন তাও সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ায় জেলার সর্বত্রই চাষাবাদে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কৃষক। সময়মতো ঃ যথেষ্ট সেচ না দিতে পারায় ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় গভীর-অগভীর নলকূপেও প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এক সময় ঝিটকা, ঘিওর, জাকড়া, বালিরটেক, সিঙ্গাইর, সাটুরিয়া, বায়রা, উথুলী, বরুন্ডী, দৌলতপুর, কাক্তাপাড়া ও লেছড়াগঞ্জসহ অর্ধ শতাধিক হাটবাজারে নৌপথে যাতায়াতই ছিল সহজ পথ। কিন্তু নদীগুলি শুকিয়ে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এসব হাটবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের েেত্র মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কপথে অধিক খরচের জন্য বিক্রেতারা সে পথে পণ্য পরিবহন করছে না। এছাড়া অতীতে মানিকগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদী ও খালবিলের মাছের খ্যাতি থাকলেও সেগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছও হারিয়ে গেছে। এলাকাবাসী নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267




0 comments:

Post a Comment