Thursday, November 28, 2013

দখল হচ্ছে ডিআইটি পুকুর

দখল হচ্ছে ডিআইটি পুকুর
  ফোরকান আলী
রাজধানীসহ সারাদেশে জবর দখলের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে মহানগরীতে সরকারি ভূমির হরিলুট চলছে। সরকারি লেক ও জলাশয়গুলো চরমভাবে অবৈধ দখলদারিত্বের শিকার হচ্ছে। কয়েকদিন আগে পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়ার ৮৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজ ও শেখ রাসেল মাদ্রাসার নামে রাজউকের কয়েকশ’ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় পাঁচ একর পরিমাণের একটি জলাশয় দখল করে নিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই জলাশয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গেন্ডারিয়া ডিআইটি পুকুর নামে পরিচিত। বর্তমানে শুধু কাগজ-কলমে রাজউক এই বিশাল সম্পত্তির মালিক।
রাজউক সূত্র জানায়, তৎকালীন ডিআইটি কর্তৃপ ১৯৬২ সালে ১৩৭ নম্বর এল এ কেস মূলে গেন্ডারিয়ার একটি বিশাল এলাকা অধিগ্রহণ করে। সেই থেকে এই এলাকা গেন্ডারিয়া ডিআইটি প্লট এলাকা হিসাবে পরিচিত। ওই এলাকার ডিআইটি পুকুর নামে পরিচিত এই বিশাল জলাশয়ের মালিক রাজউক বলে জানান খোদ সংস্থার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান । অথচ গেন্ডারিয়ার একটি প্রভাবশালী চক্র ব্যক্তিস্বার্থ সিদ্ধির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিগ্রী কলেজ, শেখ রাসেল মাদ্রাসা ও মসজিদ এবং ৮৩ নম্বর ওয়ার্ড মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে বিশাল এই সরকারি জলাশয়টি দখল করে নিয়েছে। ডিআইটি পুকুর পাড়ে স্থাপিত সাইনবোর্ডটির নিচে লেখা রয়েছে, ‘উক্ত প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত স্থানের জমির বায়নাসূত্রে মালিক আরিফুর রহমান গং।’ এ ব্যাপারে প্রকাশিত পত্রিকার প থেকে আরিফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং ৮৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার সাইদুর রহমান সহিদের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিআইটির পুকুর দখলকারী আরিফুর রহমান কমিশনারের আপন শ্যালক। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিশাল এই জলাশয়টির পাড় দখল করে ইমারত নির্মাণ, শ্রমিক ইউনিয়নের সূত্রাপুর কার্যালয় ভবন, ফার্নিচারের দোকান, ফার্নিচারের শো রুম, লেপ-তোশকের দোকান, চায়ের দোকান, জেনারেটর ঘর, মৎস্য খামার অফিস, ডেকোরেটর, খানকা শরীফসহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। পুকুরের পার্শ্ববর্তী বাড়ির মালিকরা পুকুরে মাটি ভরাট করে এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। প্রতিমাসে প্রতিটি দোকান থেকে ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, পুকুরের পূর্ব পাশে ইট, সুড়কি ও বালি ফেলে একটি বিরাট অংশ দখল করে নিয়েছে ৮৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেওয়ান দেলু। এছাড়া জলাশয়ের উত্তর এবং পূর্ব পাশে ভরাট করে মামুন, সানোয়ার, জামাল, নান্নু মিয়া, সাইদুর রহমান, খোকন, মাহাবুবসহ পাশের একাধিক বাড়ির মালিক দখলকৃত পুকুর পাড় গ্রিল দিয়ে ঘিরে রেখেছে। ক্রমাগতভাবে ভরাট হয়ে যাচ্ছে পুকুরের চারপাশের তীর। পুকুরের পশ্চিম-দণি অংশে ময়লা-আবর্জনা, গরুর পচা নাড়ি-ভূড়ি, গোবর ফেলে পুকুরের তীর ভরাট করা হচ্ছে। করা হচ্ছে পুকুরের পরিবেশ। প্রকাশ্যেই ইট, সুরকি, বালি ফেলা হচ্ছে। পুকুর পাড় দখল করে বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী মজুদ করে রাখা হয়েছে। শিগগিরই নতুন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করার প্রস্তুতি চলছে। অথচ প্রতিদিনই হরিলুট হয়ে যাওয়া বিশাল এই সরকারি সম্পত্তিটি রা করার যেন কেউ নেই। স্থানীয়রা অবাক দৃষ্টিতে অবৈধ দখলদারদের তাণ্ডবলীলা দেখে চলেছে অসহায়ের মতো।স্থানীয় বাসিন্দাদের ােভ স্থানীয় বাসিন্দারা বিশাল এই পুকুরটির দুরবস্থা নিয়ে ােভ প্রকাশ করেন। স্থানীয় মামুন-উর-রহমান বলেন, জলাশয়ের চারপাশে গড়ে উঠা অধিকাংশ বাড়ির মালিকই এক সময় বিশুদ্ধ বায়ু সেবনের আশায় এর চারপাশে বাড়ি-ঘর-দালান-কোঠা গড়ে তোলে। কিন্তু স্থানীয় একটি শক্তিশালী ভূমিদস্যু চক্র সরকারের এই বিশাল সম্পত্তিটি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বাইরে থেকে ময়লা এনে পুকুরে ফেলা হচ্ছে। পানি পচে কালো বিবর্ণ হয়ে গেছে। দূষিত পচা পানি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বাতাসে সেই দুর্গন্ধ পুকুরের আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন। ভুক্তভোগীরা সরকারের এই বিশাল পুকুরটি দখল ও দূষণমুক্ত করতে সরকার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। ইতিপূর্বে বহুবার মানববন্ধনও হয়েছে পুকুরটি রার জন্যই। পুকুরে গোসল করছে শত শত মানুষ ঐতিহ্যবাহী গেন্ডারিয়া ডিআইটি পুকুরের স্বচ্ছ পানি এক সময় স্থানীয় বাসিন্দারা পান করতেন। সুপেয় এই পানি দিয়ে রান্নাবান্নাসহ চলতো হাজারো কাজ। এখন পানি দেখলেই ঘৃণা হয়। এক মুহূর্ত পাড়ে দাঁড়ালেই পচা পানির দুর্গন্ধে পেট ফুলে উঠে। মাথা ঘোরায়, বমিবমি ভাব লাগে বলে জানালেন পুকুর পাড়ের বাসিন্দা বৃদ্ধা আমেনা বেগম। তিনি যে কোন মূল্যে স্মৃতিময় এই প্রাকৃতিক জলাধারটি রার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতেই প্রতিদিন শত শত মানুষ গোসল করছেন। কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে নানা কাজ করছেন। পুকুর পাড় দখল করে গড়ে উঠা চন্দ্রপুরী পীর সাহেবের নামে ‘‘খানকায়ে সুলতানিয়া, তরিকায়ে নকশা বন্দি মোজাদ্দেদী’’ নামের একটি বিশাল খানকা শরীফও গড়ে তোলা হয়েছে। খানকার মোতোয়াল্লি আলিমুদ্দিন জানান, তিনি শৈশবে মা-বাবার হাত ধরে শরিয়তপুর থেকে এখানে এসেছেন। তিনি গেন্ডারিয়া এলাকার বহু ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাী। এক সময় এই এলাকার মানুষের এই পুকুরটির পানির উপর নির্ভর করতে হতো। স্বচ্ছ সুপেয় পানি দিয়ে চলতো সংসারের রান্না-বান্না থেকে খাওয়ার কাজও। পুকুর পাড়ে দাঁড়ালে স্বচ্ছ পানির ভিতরে থাকা মাছও দেখা যেত। এখন এসব কেবলি স্মৃতি। তাকে রাতদিন সারাণই এই খানকায় কাটাতে হয়। পানি পচা দুর্গন্ধে প্রতিদিনই তার শ্বাস কষ্ট বাড়ে। শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারপরও অভাবী ও হতদরিদ্র শত শত মানুষ প্রতিদিনই ডিআইটি পুকুর পাড়ে গোসল করতে আসে। এদেরই একজন আমেনা বেগম জানান, পুকুরের পশ্চিম পাড়ের একটি বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকেন। পশ্চিম পাড়ে একটি সানবাঁধা ঘাট ছিল। স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার সাইদুর রহমান সহিদের শ্যালক আরিফুর রহমান বাঁশের বেড়া দিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছে। গোসল করতে দেয়া হচ্ছে না কাউকেই। এছাড়া গোসল করতে আসা তরুণীদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে। মানুষ যাতে সেখানে না যায় তার জন্য পুকুর পাড়ে গরুর পচা নাড়ি-ভুঁড়ি ও গোবরসহ নানা ময়লা-আবর্জনা স্তুপ করে রাখা হয়েছে। পুকুরের পশ্চিম পাড়ের পুরো অংশই এখন ভূমিদস্যুদের দখলে। মাছ চাষের নামে পুকুর দখল
স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে রাজউকের অনুমতি ছাড়াই জলাশয়ে মাছ চাষ হচ্ছে। অথচ রাজউক এ সম্পর্কে কিছুই জানে না। স্থানীয়রা জানান, মাছ চাষের কারণে পুকুরের পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে বদ্ধ এই জলাশয়ের পানিতে প্রতিদিনই দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। দূষণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। ভুক্তভোগীরা এই অসহনীয় পরিবেশ থেকে মুক্তি চান। ডিআইটি পুকুরের ফাইল উধাও এদিকে রাজউকে গত সাত দিন ঘোরাঘুরি করেও গেন্ডারিয়াস্থ ডিআইটি পুকুরের ফাইলটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাজউকের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে প্রথমে বলা হয় পুকুরটি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) সম্পত্তি। ডিসিসি’র সাথে যোগাযোগ করা হলে এস্টেট বিভাগ থেকে জানানো হয় পুকুরটি ঢাকা ওয়াসার সম্পত্তি। এ ব্যাপারে কারওয়ান বাজারস্থ ঢাকা ওয়াসা ভবনে যোগাযোগ করা হলে ওয়াসা কর্তৃপ গেন্ডারিয়ার ডিআইটি পুকুরটি রাজউকের সম্পত্তি বলে নিশ্চিত করেন। অবশেষে একটি মামলার সূত্র ধরে রাজউক স্বীকার করে ডিআইটির বিশাল পুকুরটির মালিক তারা। যার বাজার মূল্য কয়েকশ’ কোটি টাকা। পরে চেয়ারম্যানের হস্তেেপ সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা বহু খোঁজাখুঁজির পরও ওই পুকুরের ফাইলটি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। তারা বলেন, রাজউকের এস্টেট বিভাগে গেন্ডারিয়া ডিআইটি পুকুরের ফাইলটি জমা আছে। সেখানে খুঁজলেই পাওয়া যাবে। কেউ কেউ বলেন, মামলার কারণে ফাইলটি আদালতে জমা থাকতে পারে। তবে রাজউকের আরেকটি সূত্র জানায়, একটি প্রভাবশালী মহল মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ডিআইটি পুকুরের ফাইলটি উধাও করে ফেলেছে। রাজউকের চেয়ারম্যান ফাইলটি জরুরি ভিত্তিতে খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
উচ্ছেদ অভিযানে গড়িমসি:
রাজধানীর অভিজাত এলাকায় রাজউকের উচ্ছেদ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও পুরানো ঢাকার েেত্র তা হয় না। তবে সরকারের উপরের মহলের নির্দেশে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। এরপর রাজউক কর্তৃপ পুরানো ঢাকা থেকে তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন। আর এই সুযোগে ভূমি দখলকারী চক্র আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। একের পর এক চলে ভূমি দখলের মহোৎসব।
ওয়ার্ড কমিশনারের বক্তব্য গেন্ডারিয়ার ৮৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার সদ্য কারামুক্ত সাইদুর রহমান সহিদ পুকুর দখল সম্পর্কে বলেন, এটা ঠিক দখল নয়। ডিআইটি পুকুরের প্রকৃত মালিক ছিলেন ইউনুস আহমেদ চৌধুরী। তার ওয়ারিশদের কাছ থেকে আমার শ্যালক আরিফুর রহমান তা বায়নামা সূত্রে মালিক। মালিকানা বলেই তিনি পুকুরে সাইন বোর্ড স্থাপন করেছেন। কমিশনার সহিদ পুকুর দখলের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ১৯৬২/৬৩ সালে তৎকালীন ডিআইটি পুকুরসহ ইউনুস আহমেদ চৌধুরীর প্রায় ১০ একর সম্পত্তি ১৩৭/৬২ এল এ কেস মূলে অধিগ্রহণ করে। তৎকালীন ডিআইটি অন্যান্য সম্পত্তির উন্নয়ন করলেও পুকুরটি এর বাইরে থাকে। তিনি বলেন, ডিআইটির ‘রুলস অফ রেজুলেশন’ অনুযায়ী ১২ বছরের মধ্যে অধিগ্রহণকৃত জমির উন্নয়ন করা না হলে তা প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য। সে অনুযায়ী এই ইউনুস আহমেদ চৌধুরীর জামাতা জাকির হোসেন আম-মোক্তার নামা বলে ওই সম্পত্তির মালিক হন। তিনি অনুন্নয়নকৃত ৭৮, ৭৯, ৮৪, ৮৬ ও ৮৭ নং সি এস প্লট ফেরত চেয়ে রাজউকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেন। এক পর্যায়ে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় লাভ করেন। সুপ্রিম কোর্ট সর্বশেষ রায়ে ৬০ দিনের মধ্যে জমি প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেও বর্তমান রাজউক দীর্ঘ দিনেও ওই জমি বা পুকুর প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দিচ্ছে না।
 মূল ওয়ারিশদের বক্তব্য:
 মৃত ইউনুস আহমেদ চৌধুরীর ওয়ারিশ দাবিদার জাকির হোসেন বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও রাজউক ‘ছাড়পত্র’ দেয়ার নামে বছরের পর বছর তাদের হয়রানি করছে। ২০০৭ সালে ছাড়পত্র দেয়ার আশ্বাস দিয়ে রাজউকের আইন শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের নামে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করলেও ছাড়পত্র দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে রাজউকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে একাধিক আবেদন করা হয়েছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গঠিত রাজউকের টাস্কফোর্স এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিমত:
স্থানীয় বাসিন্দারা যে কোন মূল্যে এই সম্পত্তি অবৈধ দখলদারদের আগ্রাসন থেকে রার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, বিশাল এই জলাধারটি গেন্ডারিয়ার প্রাকৃতিক শোভা বর্ধন করে চলেছে। স্থানীয় একাধিক ভূমি দুর্বৃত্তচক্র সরকারের শত শত কোটি টাকা মূল্যের এই বিশাল প্রাকৃতিক জলাধারটি গ্রাস করতে রাজউকের এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্য ও পরো সহায়তায় ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। সূত্রাপুর থানা ও গেন্ডারিয়া ওয়ার্ড পর্যায়ের একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ডিআইটি পুকুর দখল করে তাতে বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। কেন্দ্র থেকেও তাদের উপর এ ধরনের কোন নির্দেশনা নেই। ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্যই একটি স্বার্থান্বেষী মহল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ রাসেলের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের অভিমত:
ভূমি বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান জানান, আদালতের রায় আছে। এখন রাজউকের সদিচ্ছা থাকলে ২০০০ সালের জলাধার সংরণ আইনের বলে ডিআইটির বিশাল পুকুরটিকে ভূমি-দস্যুদের আগ্রাসনের কবল থেকে রা করা সম্ভব। তিনি বলেন, রাজউকের আইন শাখার কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নিরবতার কারণে প্রতি বছর সরকারের শত শত কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাচ্ছে। তিনি এসব মূল্যবান সম্পত্তি রায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আরো কঠোর হবার পরামর্শ দেন।
পরিবেশবিদের ভাষ্য:
প্রখ্যাত পরিবেশবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, গেন্ডারিয়া ডিআইটি পুকুরটি শত বছরের ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে চলেছে। এক সময় আমরা বিশুদ্ধ বায়ু সেবন করতে বিকালে দলে-বলে ছুটে যেতাম এই পুকুর পাড়ে। এর প্রাকৃতিক নৈসর্গিক শোভা আমাদের মুগ্ধ করতো। তিনি যে কোন মূল্যে এসব মহামূল্যবান সম্পদ রা করতে সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান। অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ বলেন, ভূমি দুর্বত্তরা সরকারি সম্পদ লুণ্ঠনে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ওদের প্রকৃতপে কোনই জাত-পাত নেই। যে সরকার আসে তাদের নাম ব্যবহার করে ওরা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করে। এতে সরকারের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়। তিনি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
রাজউকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানান, পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়ার (ডিআইটি) বিশাল পুকুরটির মালিক রাজউক। তৎকালীন ডিআইটি কর্তৃপ ১৯৬২/৬৩ সালে ১৩৭ নম্বর এলএ কেস মূলে পোস্তগোলা বাস্তুহারা পুনর্বাসনের জন্য গেন্ডারিয়ার শতবর্ষী পুকুরটিসহ কয়েকশ’ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করে। উক্ত পুকুরটি সংরণের দাবিতে পরিবেশবাদী ৪টি সংগঠনসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান আদালতে মামলা করেছে। মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া আরও এক ব্যক্তি পুকুরটির মালিকানা দাবি করে হাইকোর্টে ১৪২১ নম্বর একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। জমির মালিকদের প হয়ে স্থানীয় কমিশনার রাজউকের ‘রুলস অফ রেজুলেশন’ সম্পর্কে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা সঠিক নয়। এই মর্মে কোন ছাড়পত্রও দেয়া হয়নি। পুকুরটি রায় রাজউক আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আদালতের রায়ের প্রতি আমরা সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। তবে ২০০০ সালে প্রণীত জলাধার সংরণ আইন অনুযায়ী পুকুর, জলাশয়, লেক, খাল-বিল, নদী-নালা ভরাট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাজধানীতে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য পার্ক ও জলাধারগুলো সংরণ করা জরুরি। তিনি জলাধার রায় রাজউকের পাশাপাশি জনগণের সম্পৃক্ততা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। রাজউক চেয়ারম্যান আরো বলেন, অবৈধ দখলদার যত মতার মালিকই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। শিগগিরই গুঁড়িয়ে দেয়া হবে ডিআইটি পুকুর পাড়ে গড়ে উঠা সকল অবৈধ স্থাপনা। একই সঙ্গে ওই পুকুরপাড় বাঁধাই করে একাধিক শানবাঁধানো ঘাট, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ভ্রমণবিলাসীদের জন্য বসার সুব্যবস্থাসহ সবুজ বেষ্টনী তৈরির মাধ্যমে পুকুরটিকে নান্দনিক করার যাবতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করবে রাজউক। আমরা ডিআইটির পদপে দেখার অপোয় রইলাম।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267



0 comments:

Post a Comment