তিতাস নদী এখন মরা খাল
ফোরকান আলী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিতাস নদী একটি ঐতিহ্যবাহী নদী। প্রখ্যাত উপন্যাসিক অদ্বৈত মল্ল বর্মণ লিখেছিলেন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। নামেই সামাজিক প্রোপট নিয়ে দীর্ঘ একটি উপন্যাস। এই উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণও হয়। প্রাচীন তিতাস এখন আর আগের মতো নেই। ধীরে ধীরে তিতাসের নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে। নবীনগর থেকে মনতলা পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার নদীর পানি নাব্যতার কারণে হ্রাস পাওয়ায় নৌ-চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে চলছে নৌযান। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগরে মেঘনার তিতাস নদীতে নবীনগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, ভৈরব, ও নরসিংদী নৌরুটে সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতির অভাবসহ ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চালানো হচ্ছে। এ রুটে প্রতিদিন ২০টি লঞ্চ চলাচল করে। এসব লঞ্চ মালিকরা সুকানি নামেমাত্র রাখলেও লঞ্চ চালায় অদ অনভিজ্ঞ হেলপার দিয়ে। ফলে অহরহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ নৌরুটে ২০০০ সালের পহেলা মে একই দিনে স্মরণকালের দুটি বড় লঞ্চডুবিতে প্রাণ হারিয়েছিল ১৫০ মানুষ। এর পরে ও লঞ্চ, নৌকা পাশাপাশি অতিক্রম করার সময় নৌকা উল্টে ১০ জনের প্রাণ হারায়। এসব দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে, ফিটনেসবিহীন বেশ কিছু লঞ্চ অবাধে চলাচল করছে। এসব লঞ্চের সারেং সুকানিবিহীন চলানোরও অভিযোগ উঠছে। লঞ্চ ঘাটে সিকিং লঞ্চের সারেং সঙ্গে কথা হয়। তিনি তার সারেংয়ের সার্টিফিকেট দেখিয়ে বলেন, ২৫ বছর ধরে এই রুটে চলাচল করছি, অনেক সময় সারেংরা ছুটিতে থাকলে হেলপাররা লঞ্চ চালায়। ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সঙ্কেতের রেডিও ছাড়া লঞ্চের আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি নেই। সারেং ছুটিতে থাকলে লঞ্চ চালায় সুকানি। সুকানি হচ্ছে সারেংয়ের সহযোগী। শুষ্ক মৌসুমে নবীনগর থেকে মনতলা পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার নদীর নাব্যতাকে সম্প্রতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহিৃত করা হয়েছে। এরকম বেশ কিছু লঞ্চে গিয়ে দেখা গেছে সারেং আছে সুকানি নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন হেলপার জানান, একজন অভিজ্ঞ সারেংকে বেতন দিতে হয় ন্যূনতম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। আমাদের মতো হেলপার দিয়ে লঞ্চ চালালে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দেয়। এতে মালিকদের সাশ্রয় হচ্ছে। অনেক লঞ্চেই পর্যাপ্ত পরিমাণ স্টাফ নেই। কমপে ৮ জন স্টাফ থাকার কথা থাকলেও কোনোটিতে ৫-৬ জন দেখা যায়। অনেক লঞ্চে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও অপ্রতুল প্রায়। বয়া প্রয়োজনীয় বালতি পানি সেচের জন্য টিউব-ওয়েল ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত রাখা হয় না। এদিকে নবীনগর থেকে মনতলা পর্যন্ত তিতাস নদীর প্রায় ৩ কিলোমিটার নৌরুট একেবারেই সংকীর্ণ। ওই রুটে বিপরীতমুখী নৌযানকে ক্রসিং করা দুষ্কর হয়ে পড়ে ফলে সংঘর্ষ বেধে দুর্ঘটনা ঘটে। নদীর দুপাড় দখল হয়ে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এখনই ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা না করলে তিতাস নদীর চিহ্নই হয়তো হারিয়ে যাবে একদিন। অবৈধ ট্রলারগুলোও এখন নৌরুটের সমস্যার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কেউ ট্রলার নামিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার করছে। এই রুটে প্রায়ই নৌ-ডাকাতির ঘটনাও ঘটছে। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অনেকেই। ২০০৪ সালে ড্রেজিং আনা হলেও সঠিক ড্রেজিং না করার ফলে আবারো তিতাস নদী বিলীন হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, এসব ঝুঁকিপূর্ণ জীবন রাকারী প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ছাড়াও অনভিজ্ঞ-অদ সারেং দিয়ে লঞ্চ চালানো ও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং এ নিয়ে লঞ্চ কেরানিদের সঙ্গে যাত্রীদের ঝগড়া প্রায়ই হয়। এ নৌরুটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে নজর দেয়া জরুরি। সাধারণ যাত্রীরা ােভের সঙ্গে জানানÑ তিতাস নদীর খনন, নদীতে অবৈধ মাছ ধরার ঘের, অবৈধ নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করে এই নৌরুট চলাচলের উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি নৌরুটে লঞ্চের নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্তের জোর দাবি জানায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে দ্রুত দৃষ্টি দেয়া উচিত। এই শাখা নদীটির নাব্যতা হ্রাস করা নয়তো ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্রায়ন জেলার ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদীটি একদিন হারিয়ে যাবে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেেিত স্থানীয় লঞ্চ মালিকরা বলেন, টার্মিনালগুলোর জরাজীর্ণতার কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নাব্যতার কারণে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় লঞ্চ চলাচলের বিঘœ সৃষ্টি হওয়া নদীর পথে পুলিশ টহলের অপ্রতুলতার কারণে ডাকাতি হওয়া কিছু ব্যবসায়ী অবৈধ ট্রলার দিয়ে যাত্রী পারাপারের কারণে লঞ্চ যাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়া ইত্যাদি নানাবিদ সমস্যায় সম্মুখীন হতে হচ্ছে লঞ্চ মালিকদেও।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment