ফোরকান আলী
সুষ্ঠু তদারকি ও রাণাবেণের অভাবে ফের দখল হতে চলেছে তুরাগ নদ। টঙ্গী নদের দুই পাড়ে একদিকে উচ্ছেদ, আরেকদিকে দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ে ক্রমশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে এককালের প্রমত্তা এই নদের গতিধারা। নদটির নাব্যতা হ্রাসের কারণে সরকারের শত কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। অবশ্য নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেছেন, ঢাকার নৌ পথটিকে সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে রাজধানীর যানজট কমবে। পাশাপাশি যাত্রী পারাপার ও নৌ পথে পণ্য পরিবহনে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানে তুরাগ তীরের যেসব জায়গা উদ্ধার হয়েছিল সেগুলো আবার দখল হচ্ছে। উদ্ধারকৃত নদের উভয় তীর পুনরায় ভূমি আগ্রাসনের কবলে পড়ছে। তুরাগ তীরকে ঘিরে শতাধিক ইট-ভাটা ও নদী ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে হাউজিং প্রকল্প। ইট ও বালুর শত শত অবৈধ গদিসহ বিনোদন পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এদিকে সরকার প্রধানের কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও কিছুতেই যেন ঠেকানো যাচ্ছে না নদী পাড়ের অবৈধ জবর-দখল। নদী সংরণ ও তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থা বিআইডব্লিউটিএ একদিকে নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও অন্যদিক বেদখল হয়ে যাচ্ছে। নদীর তীর দখল যেন আপোষরফার পাতানো খেলায় পরিণত হয়েছে।বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপ, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও নদী বিশেজ্ঞরা বলছেন, নদী পাড়ের অবৈধ স্থাপনা ধ্বংস বা উচ্ছেদ করা যতো সহজ, নদী পাড়ের ভরাট করা অংশের মাটি বা বালু অপসারণ করা ততো কঠিন। এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে সরকারের হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের নদ-নদীগুলোর পাড়ের ভরাট অংশের মাটি স্থায়ীভাবে অপসারণ করা না গেলে শুধু নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদী রা করা যাবে না। নদী ভরাটকারীদের দিয়েই ভরাট অংশের বালু ও মাটি অপসারণে বাধ্য করতে হবে। প্রয়োজনে এর জন্য নতুন করে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ প্রয়োগ এবং সর্বোপরি মানুষের সচেতনতাই দেশের নদ-নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারে।
তুরাগ তীর প্রভাবশালীদের দখলে ঃ মিরপুর এক নম্বর ভেড়ি বাঁধের কাছেই সিন্নিরটেক ল্যান্ডিং স্টেশন। যা স্থানীয়দের কাছে দিয়াবাড়ি ঘাট নামে পরিচিত। এই ল্যান্ডিং স্টেশনের বিপরীতে তুরাগ নদের অর্ধেক মাটি ভরাট করে দখল করে নিয়েছে মতাসীন প্রভাবশালী একটি মহল। তুরাগ নদের প্রায় ৫ একর জমি দখল করে তা ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। ভরাট করা অংশে নদের মালিকানা দাবি করে একাধিক সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়েছে। বিশাল এই দখল প্রক্রিয়া তুরাগের অর্ধেকেরও বেশি গ্রাস করে ফেলেছে। তীরে মিরপুর বাঁধ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে শত শত বালুর গদি। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই নদটির কোন না কোন অংশ অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান বলেন, তুরাগ তীরের সীমানা নির্ধারণের জন্য হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ বাস্তবায়নে ঢাকা ও গাজীপুর জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছেন। নদপাড়ের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। বর্তমানেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (অপারেশন ও নৌ বন্দর) বলেন, সিন্নিরটেক ল্যান্ডিং স্টেশনের কাছে নদী দখলকারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় সরকারি জমিতে স্থাপিত সাইনবোর্ড একাধিকবার জব্দ করা হলেও তা পুনরায় লাগানো হয়েছে বলে তিনি জানান।মিরপুর ভেড়ি বাঁধের কাছে সিন্নিরটেক থেকে শুরু হয়েছে তুরাগ দখল প্রক্রিয়া। কয়েক বছর আগেও তুরাগ নদের পানি দিয়ে রান্না ও গোসল সারতেন স্থানীয়রা। নদটিতে নৌকা চলতো, মাছ ধরতেন জেলেরা। কিন্তু বর্তমানে এলাকার ময়লা আবর্জনাসহ স্যুয়ারেজ লাইনের সব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদটিতে। পাশাপাশি চলছে চর দখলের মতো প্রতিযোগিতা। সীমানা চিহ্নিত করে নদটি উদ্ধার করা না গেলে পুরো তুরাগ ভূমিদস্যুদের কবলে চলে যাবে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গতঃ ইতিপূর্বে বিআইডব্লিউটিএ ও ঢাকা জেলা প্রশাসন তুরাগ নদে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সহস্্রাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে। বর্তমানে নদটির উভর তীরে নতুন করে আরো কয়েক শ’ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। ক্রমশঃ মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে নদটির তীর।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment