Monday, November 25, 2013

সুরমা ও কুশিয়ারার ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে

সুরমা ও কুশিয়ারার ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে
 ফোরকান আলী
সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার আয়তন কমে যাচ্ছে । সুরমা-কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বদলে যাচ্ছে দেশের মানচিত্র। হারিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ, শিা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন। উপজেলার হাজার হাজার মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়ছেন। নদী তীরের নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে প্রতিবছর দেখা দিচ্ছে ভয়াবহ বন্যা। জলাবদ্ধতা থাকছে বছরের প্রায় ৯ মাস। এক সময়ের দুফসলি জমিগুলোও থাকছে অনাবাদি। নদী তীরের এলাকা তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় ঢুকে পড়া পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রতি বছরই সৃষ্টি হয় দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় কর্তৃপ বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন রোধে ও নদী ভরাটে ব্যবস্থা গ্রহণ করায় বাংলাদেশ তীরবর্তী খরস্রোতা সুরমা-কুশিয়ারার ভাঙন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠেছে। ভারতের মণিপুর-আসাম রাজ্য হয়ে বয়ে আসা বরাক নদী আসাম প্রদেশের করিমগঞ্জ জেলার ভাঙ্গা এলাকায় এসে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নাম ধারণ করে। এ দুই নদীর বেষ্টনীতে পড়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের দুই ইউনিয়ন। জকিগঞ্জের আমলসিদ এলাকায় এসে দণি দিকে প্রবাহিত হয় কুশিয়ারা এবং উত্তর দিক দিয়ে প্রাবহিত হয় সুরমা নদী। এ দুই নদীর মধ্যখানে অবস্থিত জকিগঞ্জ উপজেলা ও কানাইঘাট উপজেলার একাংশ ভাঙনের কবলে পড়ে ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে।  ২০০৯ সালের দিকে জকিগঞ্জে কসকনকপুর ইউনিয়নে মুন্সিবাজার মাদ্রাসা সংলগ্ন সুরমা নদীর তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে মারাত্মক ধস দেখা দেয়। নভেম্বর মাসের প্রথম থেকে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে পূর্ব সিলেটের প্রাচীনতম ইসলামী বিদ্যাপীঠ জামেয়া ফয়জে আম মাদ্রাসা। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি জনচলাচলের একমাত্র রাস্তা হওয়ায় উপজেলার সীমান্তবর্তী চিনির চক, মৌলভীর চক, বলরামের চক, আইয়র, উত্তর আইয়র, লক্ষ্মীরার চক, দিঘালী গ্রাম, ছালেপুর, নিয়াগুল, উত্তরকুল গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ভাঙনের শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া ওয়াজেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুন্সিপাড়া বালিকা মাদ্রাসা, জামেয়া ইসলামীয়া ফয়জে আম মুন্সিবাজার মাদ্রাসা, মুন্সিবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লক্ষ্মীরার চক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী সম্প্রতি সরেজমিন নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেও ভাঙন রোধে তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। একইভাবে ২০০৯ সালে উপজেলার বিরশ্রী ইউনিয়নের বড়চালিয়া গ্রাম সংলগ্ন কুশিয়ারা নদী তীরে হঠাৎ ধস নেমে এলে প্রায় ১০০ মিটার জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার বড়চালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বাড়িঘর। এদিকে সুরমা নদীর ভাঙনে পড়ে কানাইঘাট উপজেলার দীঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের বাল্লা গ্রাম, পশ্চিম দর্পনগর, কুল গ্রাম, দীঘিরপাড়, সাতবাক ইউনিয়নের চরিপাড়া, বায়মপুর, রামপুর, জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের শাহবাগ, শাহগলী বাজার প্রভৃতি এলাকার অনেক ঘরবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, দোকানপাঠ, স্কুল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কুশিয়ারার ভাঙনে প্রতিবছর সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার বহু গ্রামের বাড়িঘর, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও শিাপ্রতিষ্ঠানসহ শত শত একর জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বারবার বাড়ি বদল করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন কুশিয়ারা তীরের মানুষ। কুশিয়ারাপাড়ের বড়চালিয়া, উজিরপুর, বারজনি, পিয়াইপুর, নিয়াগুল, কাপনা, লোহারমহল, হাইদ্রাবণ, মাঝর গ্রামসহ প্রায় ৩৫টি গ্রাম ও জনপদ নদী ভাঙনের মুখে। সীমান্তবর্তী সুরমার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মুন্সিবাজার মাদ্রাসাসহ এলাকাবাসীর প থেকে স্মারকলিপির মাধ্যমে বর্তমান সরকার কর্তৃপকে আবহিত করা হয়েছে।
 পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, জকিগঞ্জ সীমান্তের কুশিয়ারা নদীর ১৯ পয়েন্টে ৪ কিলোমিটার এলাকা ব্লকের কাজ করা জরুরি; কিন্তু বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে জানানোর পরও কোনো কাজ হচ্ছে না। জকিগঞ্জের ডাইক মেরামত ছাড়া নদী ভাঙন রোধে এ সরকারের আমলে এ পর্যন্ত কোনো প্রকল্পই হাতে নেয়া হয়নি। বিষয়টি ইতিমধ্যে জেলা সমন্বয় কমিটির সভা, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267



0 comments:

Post a Comment