Monday, November 25, 2013

রাজধানীর সুতি খাল অস্তিত্ব হারাচ্ছে

রাজধানীর সুতি খাল অস্তিত্ব হারাচ্ছে
 ফোরকান আলী
রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের মূল পথ সুতি খালের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শত শত কাঁচা পাকা ও আধা পাকা স্থাপনা। বুড়িগঙ্গা থেকে সৃস্ট এই খালটির আজ করুণ দশা। খালটি রায় কেউই এগিয়ে আসছে না। প্রতিদিনই খালের কোন না কোন অংশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। গড়ে উঠছে স্থাপনা। এসব দেখার কেউ নেই। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হচ্ছে না। খালের জমি উদ্ধার ও রণাবেণের বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে। স্থানীয়রা বললেন, শত বছরে প্রবহমান সুতি খাল অস্তিত সংকটে পড়েছে। ভূমি দখলদার চক্র জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সুতি খাল ও সরকারি জলাশয় দখল অব্যাহত রেখেছে। ওয়াসা সূত্র জানায়, নব্বইয়ের দশকে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপ রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দূর করতে সায়দাবাদ থেকে পশ্চিম যাত্রাবাড়ী হয়ে কাজলা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে সুতি খালে ড্রেনেজ কাম রাস্তা নির্মাণ করে। খালের অবশিষ্ট অংশ দখল হয়ে যাচ্ছে। খালের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের পর দখলদাররা বেপরোয়া হয়ে উঠে।
সুতি খালপাড়ের বিবির বাগিচা এলাকার বিশাল সরকারি ঝিলে দুর্বৃত্তদের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে। সুতি খালের পর এবার দখল হতে চলেছে বিশাল ঝিল। স্থানীয় একটি চক্র সুতি খাল ও ঝিলের ১০৪ কাঠা জলাভূমি বাশ ও বেড়া দিয়ে মাটি ভরাট করে দখলে নিয়েছে। স্থানীয়রা বললেন, সুতি খাল গেছে বহু আগেই। এখন দখল হতে চলেছে শত একরের সরকারি ঝিলটি। খাল ও ঝিল দখল করে কাঁচা পাকা ও আধা পাকা বহু স্থপনা গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরো বললেন, এই ঝিলে এক সময় মাছ শিকার করা হতো। নির্মল বায়ু সেবনের জন্যও প্রতিদিন মানুষ বেড়াতে আসেন। তারা খালের অবশিষ্ট অংশ ও সরকারি ঝিল রার দাবি জানিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের কাছে লিখিত আবেদন করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না। সুতি খাল ও ঝিলের বিরাট অংশ দখলকারীর কেয়ারটেকার বললেন, খাল ও ঝিল দখলের অভিযোগ সঠিক নয়। তারা সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ডভুক্ত মালিকদের নিকট থেকে ১০৪ কাঠা জমি ক্রয় করে তা ভরাট করছেন। তবে কেয়ারটেকার এ সংক্রান্ত কাগজপত্র বা দলিল দেখাতে পারেনি। আরো একাধিক চক্র ঝিল দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকে মালিকানা দাবি করে একাধিক সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে খাল ও ঝিলের মধ্যে। ঢাকা জেলা প্রশাসক বলেন, সুতি খাল ও ঝিল দখলের ঘটনাটি তার জানা নেই। তবে জলাশয় ভরাট কিংবা খাল দখলের ঘটনা ঘটে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও সরকারি সম্পদ উদ্ধার করা হবে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র বলেন, ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বৃষ্টির পানিসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে সুতি খাল ও শত একরের বিবির বাগিচা জলাশয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিরাট ভূমিকা পালন করে চলেছে। মেয়র বিশাল এই খাল ও জলাশয় রার তাগিদ জানিয়ে বলেন, মূলত সুতি খাল ও জলাশয়ের মালিক জেলা প্রশাসন। খালের তত্ত্বাবধানে রয়েছে ঢাকা ওয়াসা। খাল উদ্ধার ও রণাবেণের দায়িত্ব তাদের। ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান বলেন: খাল, বিল, নদী-নালা, জলাশয় রায় সরকার প্রধানের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সে মোতাবেক রাজধানীর মধ্য দিয়ে প্রবহমান খালগুলো উদ্ধারে ঢাকা ওয়াসা বদ্ধপরিকর। খাল উদ্ধার সরকারের একটি চলমান প্রক্রিয়া। সুতি খালসহ পর্যায়ক্রমে রাজধানীর হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি খাল উদ্ধার করা হবে। আমরা ও আশাকরি ঢাকা শহরের প্রতিটি খাল পুন: উদ্ধার হোক।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267




0 comments:

Post a Comment