Wednesday, November 20, 2013

বাঁশখালীর মানুষ সাগর ও নদীর ভাঙনে আতঙ্কিত

বাঁশখালীর মানুষ সাগর ও নদীর ভাঙনে আতঙ্কিত
 ফোরকান আলী
চট্টগ্রামের উপকূলীয় বাঁশখালীর কয়েক হাজার পরিবার সাগর ও নদীর ভাঙনে আতঙ্কে রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে সাগর ও নদীর ভাঙনে এ উপজেলার বাহারছড়া, খানখানাবাদ, কাথারিয়া, পুকুরিয়ার অন্তত ১০ হাজার পরিবার উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। জমি-জিরাত হারিয়ে তারা আজ নিঃসহায়। দিন দিন সাগর উত্তাল হয়ে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। যে কোনো সময় সাগরের উত্তাল তরঙ্গের আঘাতে খানখানাবাদ ইউনিয়নের খানখানাবাদ বাজার সংলগ্ন হযরত আজিম উদ্দীন শাহ (রহ.) এর বাড়িসহ অন্তত ১৬টি পরিবারের শেষ সহায় সম্বল বসত ভিটে সাগরগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। সরেজমিনে দেখা গেছে, খানখানাবাদ বাজার সংলগ্ন ভেড়িবাঁধের পাশে অবস্থিত এ ১৬টি পরিবার দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই সাগরের গর্জনের মধ্য দিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ে আবার সকালে আবার সাগরের গর্জনেই জেগে ওঠে। অন্তত ৭-৮ বার সাগরের ভাঙন কবলিত অসহায় হয়ে পড়া এসব পরিবারের একজন মৌলভী আজিজ আহমেদ বাহারী (৫৫) বলেন, ‘৭-৮ বার সাগরের ভাঙনে জমি-জিরাত সবই হারিয়েছি। এখন কোনোভাবে বেঁচে আছি। যে কোনো মুহূর্তে সাগরবে তলিয়ে যাবে আমাদের এ পরিবারগুলো।’ দুই ছেলে চার মেয়ে সন্তানের জনক আজিজ আহমেদ তাই একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে সাগরে সবকিছু কেড়ে নিলেও সরকারি-বেসরকারি কোনো সাহায্য পাননি বলেও তিনি জানান। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল মোস্তফা জানান, এ ইউনিয়নের প্রেমাসিয়া, রায়ছটা, মৌলভী পাড়া, রোশাং গিরিপাড়া ও সন্দ্বীপপাড়ার প্রায় ১ হাজার পরিবার সাগরের ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান, ভেড়িবাঁধের পাশে হযরত আজিম উদ্দীন শাহ (রহ.) এর বাড়ির মৌলভী আজিজ আহমেদ বাহারী, রফিক, সুলতান, জাফর আহমদ, আবদুল আজিম, আহমদ কবির, ফিরোজ, ছগির আহমদ, লায়লা বেগম, সরোয়ার, জামাল, জালাল আহমেদ, মোহাম্মদ হারুন, জাহানারা বেগম, সালেহ আকবর, আলী আকবর ও আবু নাসেরের বসতভিটে যে কোনো সময় সাগরবক্ষে তলিয়ে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কাও করছেন তিনি। পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম জানান, বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত এ ইউনিয়নের ১নং খালিয়াপাড়ার অন্তত ২৫০ পরিবার ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে। তিনি জানান, ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতি বছরই ছোট হয়ে আসছে এ ইউনিয়নটি। পুকুরিয়া ইউপির চেয়ারম্যান নুরুল আমিন সিকদার জানান, নদীর ভাঙন ঠেকানোর স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় এ ইউনিয়নের প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার পরিবার ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267



0 comments:

Post a Comment