ফোরকান আলী
১’শ বছরের গ্যারান্টি দেয়া বাঁধ মাত্র ১০ বছরেই ধসে গেল। যমুনার করাল গ্রাসের সর্বশেষ যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা শুধু উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার । রীতিমত আতংকের বলা যায়। মাত্র সাতদিনের মাথায় সিরাজগঞ্জ শহররা বাঁধে আবারো ধস নেমেছে। ভয়াবহ এ ধসে হার্ড পয়েন্টের কমপে ২০০ মিটার (৬০০ ফুট) যমুনা নদীগর্ভে চলে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্রমিকরা এখন পুরনো ধস সারানো বাদ দিয়ে নতুন ধস ঠেকাতে ব্যস্ত। কারণ যমুনার যে মতিগতি বা স্রোতের যে উন্মত্ততা তাতে কেবল সিরাজগঞ্জ শহর নয়, যমুনা সেতুও হুমকির মুখে পড়ার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ডিসি, এসপি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাল পতাকা টাঙিয়ে হ্যান্ডমাইক দিয়ে বিপজ্জনক স্থান থেকে জনগণকে সরিয়ে নিচ্ছেন। উল্লেখ্য, মাত্র সপ্তাহখানেক আগে ধস এলাকা পরিদর্শন করে এসেছেন খোদ পানিসম্পদমন্ত্রী। নতুন করে যেন আর ধস না নামে তার জন্য সরকারের সব প্রস্তুতি আছে বলে জানিয়ে সিরাজগঞ্জবাসীকে তিনি আশ্বস্ত করেন এবং হার্ড পয়েন্টের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিদেশী হুন্দাই কোম্পানিকে ১০০ বছরের গ্যারান্টির হার্ড পয়েন্ট কেন ১০ বছরের মাথায় ধস নামলো তার জন্য কৈফিয়ত তলব করা হবে বলেও জানান। কিন্তু মন্ত্রীর পরিদর্শন ও আশ্বাস সিরাজগঞ্জবাসীর কোনো উপকারে আসেনি। ঘটনা যা ঘটার ঘটেই গেছে এবং আরো ঘটবে বলেও আশংকা করা হচ্ছে। ঘটনার এখানেই শেষ নয়। যমুনা গ্রাস করছে অন্যান্য এলাকাও। বগুড়ার সারিয়াকান্দির চন্দনবাইশায় যমুনা নদীর মিনি গ্রোয়েন বাঁধের ৩৮ মিটার ধসে গেছে। অপরদিকে পাবনার বেড়া ও সুজানগর উপজেলার শতাধিক বাড়িঘর যমুনার গর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের তীব্রতা এতই যে, মানুষজন তাদের ঘড়বাড়ি ও জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়ার সুযোগও পাচ্ছে না। এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে নদ-নদীর ভাঙন। বস্তুত নদী ভাঙন আমাদের দেশের ভয়াবহ এক অভিশাপ। স্মরণাতীতকাল থেকেই এ ভাঙন চলে আসছে। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ফসলের মাঠ, বেচা-কেনার হাট, বসতবাড়ি, অফিস-আদালতসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল নদীগর্ভে বিলীনও হয়ে গেছে। দেশের ভাসমান বা ছিন্নমূল মানুষের গরিষ্ঠ অংশই নদী ভাঙনের অসহায় শিকার। বেসরকারি এক জরিপ মতে, নদী ভাঙনের ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ফি-বছর দু’লাখ করে বাড়ছে। সরকার নদী ভাঙন রোধে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করছে সত্য, কিন্তু কাজের কাজ কি হচ্ছে তা সিরাজগঞ্জ শহররা বাঁধের অবস্থা থেকেই আঁচ করা যায়। ১০০ বছরের গ্যারান্টি দেয়া বাঁধ মাত্র ১০ বছরেই ধসে গেল। এতে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে শুধু কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করলেই হবে না, দরকার হচ্ছে প্রকৌশলগত ত্র“টি ও দুর্নীতি দূর করা। স্ক্যান্ডেন্যাভিয়ান দেশগুলোতে নদী ভাঙন রোধে বহু উন্নত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেসব দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে এ অভিশাপ মোচন বোধকরি অসম্ভব নয়। বিশেষ করে এটা তো সহজ হিসাব, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অন্যরা যদি সফল হতে পারে তাহলে আমরা পারবো না কেন? তবে সবার আগে দরকার দুর্নীতির মানসিকতা দূর করা। সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ ধসে পড়ার কারণ অনুসন্ধানে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তা যেন ফাইলচাপা না পড়ে সেটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে শুধু শাস্তি দেয়া নয়, তাদের কাছ থেকে তিপূরণও আদায় করা দরকার।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment