Monday, November 25, 2013

কিশোরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের ২১ গ্রাম নদীগর্ভে


কিশোরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের ২১ গ্রাম নদীগর্ভে
 ফোরকান আলী
কুড়িগ্রামে কয়েকটি নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে নদীর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ উজান থেকে নেমে আসা পানি এবং প্রচণ্ড বাতাসে সৃষ্ট প্রচণ্ড ঢেউয়ে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এই দুই জেলায় ২১টি গ্রামের প্রায় ৪৫০টি পরিবারের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে প্রায় তিন হাজার পরিবার তাদের বসতবাড়ি হারাবে। এসব নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতন জীবন যাপন করছে। নদী ভাঙ্গনের শিকার অসহায় লোকজন তাদের পুনর্বাসন এবং সেই সাথে নদী ভাঙ্গন রোধে প্রশাসনকে এগিয়ে আসাসহ তাদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন।
জানাযায়, কুড়িগ্রাম জেলায় ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমোর ও সোনাভরি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রবল ভাঙ্গনে পাঁচটি উপজেলায় ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে ২৯৩টি পরিবার। এর মধ্যে রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি মোহনগঞ্জ ও রাজীবপুর সদরের ৮টি গ্রামের ৭০টি পরিবার নদী ভাঙ্গনে তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছে। নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলোর প্রায় দেড় সহস্রাধিক মানুষ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ-রাস্তাসহ প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে গাবুরজান থেকে অনন্তপুর গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলেমিটার এলাকা জুড়ে বাঁক খেয়ে হাতিয়া বাজারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে তীব্র ভাঙ্গন। ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে ৩৫০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, হাতিয়া বাজার, ঐতিহ্যবাহী পুরাতন অনন্তপুর বাজার, হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাতিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বাগুয়া অনন্তপুর মহাবিদ্যালয়, বাগুয়া অনন্তপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হাতিয়া ভবেশ বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, হাতিয়া গণহত্যার শহীদদের স্মৃতি স্তম্ভসহ বহু মূল্যবান স্থাপনা। এখানে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে নিঃস্ব হয়েছে গাবুরজান গ্রামের ৩২টি ও অনন্তপুর গ্রামে ৪০টি পরিবার এবং ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর প্রায় আড়াই হাজার পরিবার। বেগমগঞ্জ ও সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দুইটি গ্রামের ১৮টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে গৃহহীন হয়েছে ১০টি পরিবার। আকস্মিকভাবে ধরলার ভাঙ্গনে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ও ঘোগাদহ ইউনিয়নের ৫টি গ্রামে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে ২৩টি পরিবার।
উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোতে এবং প্রচণ্ড বাতাসে সৃষ্ট ভয়াবহ ঢেউয়ে বাজিতপুর উপজেলার দীঘিরপাড় ইউনিয়নের ৩টি গ্রামের ১৫০টি পরিবারের বাড়িঘর নদী ভাঙ্গনে-ঘোড়াউত্রা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত সোমবার রাত হতে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত ৩টি গ্রাম হচ্ছে- আহছানপুর, চেঙ্গারহাটি ও লালখারচর। চেঙ্গারহাটি উত্তরপাড়া জামে মসজিদটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ঘোড়াউত্রা নদী তীরবর্তী আহছানপুর গ্রামের ১০০টি পরিবারের এবং চেঙ্গারহাটি ও লালখারচর গ্রামের ৫০টি পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনে বসতবাটিহারা পরিবারগুলো যে যেখানে পারছে আশ্রয় নিয়েছে।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267





0 comments:

Post a Comment