ফোরকান আলী
দণি-পশ্চিমাঞ্চলে খরস্রোতা নদীগুলো ভরাট হওয়ায় নদীর বুকজুড়ে চাষ হচ্ছে নানা ধরনের ফসল। তৈরি করা হচ্ছে রাস্তাঘাট, চলছে যানবাহন। কালক্রমে হারিয়ে যাওয়ায় নদীতে আর পালতোলা নৌকা চলে না। জেগে ওঠা চরগুলো দখল করেছে প্রভাবশালী মহল। খুলনা বিভাগসহ দণি-পশ্চিমাঞ্চলের নৌ যোগাযোগও এখন বন্ধ প্রায়। খুলনা ও বাগেরহাটের রূপসাসহ ৩-৪টি নদীতে পানির প্রবাহ থাকলেও ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরাসহ অন্য জেলাগুলোর নদী এখন মৃত। প্রায় ৪০টি নদ-নদীর মধ্যে ৩০টির বেশি হারিয়ে যাচ্ছে মানচিত্র থেকে। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবেই এসব নদী এখন শুকিয়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। নদীগুলো মারা যাওয়ায় প্রতি বছর সেচ সংকট দেখা যায়। পরিবেশগত ভারসাম্যতেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফলে দণি-পশ্চিমাঞ্চল মরু এলাকায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন এ অঞ্চলের পানিসম্পদ উন্নয়নে তাদের কোনো প্রকল্প নেই। সরজমিনে জানা গেছে, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মাগুরার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীসহ নবগঙ্গা, বেগবতি, ফটকি, মহেশপুরের ভৈরব, ইছামতি, কুদলা, কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর উপজেলার চিত্রা, শৈলকুপা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে গড়াই, কুমার, কালী, ডাকুয়াসহ অনেক নদীই এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। শুধু ীণ প্রবাহ রয়েছে কোথাও কোথাও। বর্তমানে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ার ওপর দিয়ে প্রবাহিত একমাত্র জীবিত নদী গড়াই। ফারাক্কার প্রভাবে দীর্ঘদিনে পলি জমে উৎসমুখ ভরাটের পথে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে গড়াই শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়। একমাত্র গড়াইই দণি-পশ্চিমাঞ্চলে মিঠা পানির উৎস। পদ্মা থেকে উৎপত্তি হয়ে ভাটিতে মধুমতি নাম নিয়ে শিবসা হয়ে সাগরে মিশেছে এটি। গড়াইয়ের ৯০ কিলোমিটার বুকজুড়ে শুষ্ক মৌসুমে সৃষ্টি হয় ধু ধু বালুচরের। পরিবেশবাদীদের প থেকে গড়াই পুনঃখননের দাবি উঠেছে। অন্যদিকে দণি-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বেশিরভাগ নদ-নদীর পানির উৎস ছিল পদ্মার প্রধান শাখা মাথাভাঙ্গা কিন্তু এই সীমান্ত নদীটি আজ মরুপথে। নদীর উৎস মুখে জেগেছে বিশাল চর। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ একেবারেই থাকে না। মাথাভাঙ্গা থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা ও হাটবোয়ালিয়া থেকে কুমারের উৎপত্তি। কুমার চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ জেলার ওপর দিয়ে ভাটিতে মধুমতি নদীতে মিশেছে। অনেক বছর আগেই মাথাভাঙ্গা থেকে কুমারের পানিপ্রাপ্তি বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর ডাকুয়া ও কালী নদী দিয়ে গড়াই থেকে কুমার পানির প্রবাহ পেতো। কিন্তু ৬০-এর দশকে জিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকালে কালী ও ডাকুয়া নদীর উৎস মুখে ক্রসড্যাম (আরিবাঁধ) দেয়া হয়। ফলে কুমার এখন কোনো উৎস থেকেই পানি পায় না। বর্তমানে একটি মৃত নদীতে পরিণত হয়েছে কুমার। সারা বছর ধরে নদীবে চাষাবাদ হয়। বিভিন্ন স্থানে নদীব দখল করে বাজার ও বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। নবগঙ্গা হচ্ছে দীর্ঘ একটি নদী। এ নদীরও উৎপত্তিস্থল মাথাভাঙ্গা। চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ-মাগুরা জেলার ওপর দিয়ে নবগঙ্গা মধুমতিতে মিশেছে। সংস্কারের অভাবে উৎস মুখ ভরাট হয়ে নবগঙ্গার পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। নদীবজুড়ে চাষাবাদ চলছে। আরেক নদী বেগবতির বেগ অনেক আগেই থেমে গেছে। ৪০০ বছর আগে মুগোল সেনাপতি মানসিংহ বঙ্গদেশ থেকে এ নদীপথে রাজমহল যাওয়ার বিবরণ ইতিহাসে পাওয়া যায়। বেগবতি আজ একটি মৃত নদীর তালিকায়। ইছামতি নদীটির উৎপত্তি স্থান ভারতে। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত নদীটি। জীবিত থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না। মহেশপুরের অপর সীমান্ত নদী কোদলারও একই অবস্থা। নদীর অনেক স্থান ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বেদখল করে পুকুর খনন ও বাড়িঘর নির্মাণ পর্যন্ত হয়ে গেছে। ভৈরবও একটি মৃত নদীতে পরিণত হয়েছে। অনেক দিন আগে ভৈরবের ভৈরবী গর্জন থেমে গেছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এককালে ভৈরব নদীতে লঞ্চ-স্টিমার চলতো। কলকাতার সঙ্গে ভৈরব নদীপথে দণিবঙ্গের যোগাযোগ ছিল। ঝিনাইদহের দিকে ভৈরব মরে গেলেও ভাটিতে লোয়ার ভৈরব যশোরের নওয়াপাড়া থেকে জীবিত আছে এবং জোয়ার-ভাটা হয়। চিত্রাও এ অঞ্চলের অন্যতম নদী। এ নদীটিরও উৎপত্তিস্থল মাথাভাঙ্গা। চুয়াডাঙ্গা জেলার চিত্রার ওপর ক্রসড্যাম নির্মাণের পর আর কোনো পানিপ্রবাহ পায় না। চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার অংশে চিত্রা আজ মৃত। তবে ভাটিতে নড়াইল জেলার অংশে জীবিত আছে ছোট নদী ফটকি নবগঙ্গা থেকে উৎপত্তি হয়ে চিত্রায় মিশেছে। এ নদীটিও আজ মৃতের তালিকায়। প্রবীণদের মুখে শোনা যায় ফারাক্কা বাঁধ দেয়ার আগে নদীগুলো জীবিত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে হাটবাজার ও জনপদ গড়ে উঠে এসব নদ-নদীকে ঘিরে। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধ দেয়ার পর এর বিরূপ প্রভাবে এ এলাকার নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিক মাছেরও সংকট দেখা দিয়েছে। জীববৈচিত্র্য ও ধ্বংসের মুখে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরের নিুমুখিতা রোধ, ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ বৃদ্ধি, পরিবেশ ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রার জন্য এ অঞ্চলে সমন্বিত পানিসম্পদ উন্নয়নে প্রকল্প প্রণয়নের তাগিদ অনুভব করছেন পরিবেশবাদী ও পানি বিশেষজ্ঞরা।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment