Monday, November 25, 2013

ধানসিঁড়ি নদীএখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না

ধানসিঁড়ি নদীএখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না
 ফোরকান আলী
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দের ধানসিঁড়ি নদী আজ কেবল ইতিহাস। লঞ্চ, স্টিমার চলাচলকারী এক সময়ের খরস্রোতা নদীটি অস্তিত্ব হারিয়ে আজ ডিঙ্গি নৌকাও চলাচল করতে পারেনা। জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় আবার আসতে চেয়েছিলেন এই ধানসিঁড়ি’র তীরে। হয়তো তার কবি দৃষ্টি আগাম দেখতে পেরেছিল আজকের ধানসিঁড়ির ছবি। আর তাই তিনি শঙ্খচিল শালিকের বেশে নদী তীরে আসার কথা বলেছিলেন। দিনে দিনে নদীটি নাব্যতা হারিয়ে মিলিয়ে গেছে জমির সাথে। ক্রমে ক্রমে শীর্ণ হয়ে পড়ায় ধানসিঁড়ি এখন খালে পরিণত হয়েছে। ১১ মাইল দীর্ঘ ধানসিঁড়ি নদী ভরাট হয়ে ৪ মাইলে ঠেকেছে। ধানসিঁড়ির প্রথম নাম ছিল ধানসিদ্ধ নদী। জীবনানন্দের ধানসিঁড়ি কবিতার মাধ্যমেই এর নাম বদলে ধানসিদ্ধ থেকে ধানসিঁিড় পরিচিতি পায়। স্টিমারযোগে জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় পড়াশুনা ও চাকরির সুবাদে এ নদীর বুক দিয়ে যাতায়াত করতেন। তখন নদীর দু’ধারের নৈসর্গিক সৌন্দর্য কবি খুব কাছে থেকে উপলব্ধি করেছেন। অপার সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে তিনি লিখেছেন “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে।” অনেকের মতে, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার দিকে বয়ে যাওয়া এ নদীটি পারাপারে এক ডোঙ্গা ধান সিদ্ধ হওয়ার সমপরিমান সময় লাগতো বলে এর নাম ছিল ধানসিদ্ধ নদী। আবার কেউ কেউ বলেন, রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি এলাকায় তৎকালীন সময়ে শ শ ডোঙ্গায় ধান সিদ্ধ করা হতো। বিভিন্ন স্থানের লোকজন এখানে ধান সিদ্ধ করার জন্য নৌকায় করে ধান নিয়ে আসতো। এ কারণেই এ নদীর নাম ধানসিদ্ধ নদী। প্রবাদে এসব কথার প্রচলন থাকলেও “ঋতুসংহারে জীবনানন্দ” বইয়ে ভিন্ন ধরনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। উপজেলার বিষখালী নদীর মোহনা থেকে শুরু হয়ে মাঝখানে জাঙ্গালিয়া নদীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আবার বিষখালীতেই ধানসিঁড়ির শেষ। তৎকালীন বনজঙ্গলে ঘেরা এই এলাকার বটবৃক্ষতলে ধ্যানস্থ অবস্থায় এক ঋষি বহু বছর বসেছিলেন। ঋষির ধ্যান ভঙ্গ করেছিল এক ভূস্বামীর রক্ষিতা। এই রক্ষিতা যতদূর পর্যন্ত হেঁটে গিয়েছিল ততদূর পর্যন্ত নদীর সৃষ্টি হয়। যা জঙ্গলিয়া, বর্তমান জাঙ্গালিয়া নামে পরিচিত। ধ্যানভঙ্গের পরে ঋষি চোখ খুলে প্রথম যে নিঃশ্বাস ছাড়েন সেই বিষাক্ত নিঃশ্বাস দক্ষিণ দিকে বাতাস হয়ে মাটিতে বইলে দীর্ঘ জলপ্রবাহ তৈরি হয়। ঋষি রক্ষিতা মেয়েটিকে স্বর্গের দেবী ভেবে ভালবাসার দৃষ্টিতে তাকালে তৈরি হওয়া জলপ্রবাহ থেকে বিষের অংশ খালি হয়ে যায়। আর তখন থেকে জলপ্রবাহের নাম হয় বিষখালী নদী। পরে ঋষি যখন বুঝতে পারেন এই নারী ছলনাময়ী, তখন অভিশাপ দিলে ধানক্ষেতের সমস্ত ধান সিদ্ধ হয়ে যায়। এরপর ঋষি ধ্যানের জন্য চোখ বুঁজলেও কিছুতেই ধ্যানস্থ না হওয়ায় এক যুগ ধরে তার অশ্রুপাতে যে নদীর জন্ম হয়,তাই ধানসিদ্ধ নদী। ধান ও তৃণ সিদ্ধ হয়ে যায় বলে সৃষ্ট জলধারাকেই ধানসিদ্ধ নদী বলা হয়। যা পরবর্র্তীতে জীবনানন্দের দেয়া নাম ধানসিঁড়ি হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। এ ব্যাপারে ঋতুসংহারে জীবনানন্দ বইয়ের লেখক, ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক, রাজাপুরের ধানসিঁড়ি সাহিত্য সৈকতের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কবি শামীম রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঋষি এবং রক্ষিতার বিষয়টি নিছক লোককথা। তবে ধানসিদ্ধ নামের প্রকৃত কারণ কোথাও সুস্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নদীটির নাব্যতা রক্ষার জন্য কিছু অংশ খনন করা হয়েছিল। এরপর অযতœ-অবহেলায় নদীটি রক্ষাকল্পে আর কেউ পদপে নেয়নি। সড়কপথ তৈরির আগে ঝালকাঠি জেলা সদরের সাথে রাজাপুর উপজেলার সব ধরনের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল ধানসিঁড়ি নদী। অতীতে এই নদী দিয়ে এক্রপ্রেস সার্ভিসের স্টিমার খুলনা হয়ে কলকাতায় যেত। বড় বড় মালবাহী পালতোলা নৌকা এবং সাম্পানও চলাচল করত ধানসিঁড়ি নদীতে। বর্তমানে রাজাপুর উপজেলার পাড়েরহাট এলাকা থেকে ভরাট হয়ে ধানী জমির সঙ্গে মিশে গেছে ধানসিঁড়ি নদীর বাকি অংশ। ধানসিঁড়ি নদী খাল হয়ে যাওয়ায় প্রকৃতি ও কবিতাপ্রেমিক অনেক পর্যটক এখানে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267




0 comments:

Post a Comment