ফোরকান আলী
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপ (বিআইডব্লিউটিএ) বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশ থেকে পলিথিন ব্যাগ, নারকেলের ছোবড়া ও বিভিন্ন ধরনের ২৫ হাজার ৪২৫ ঘনমিটার বর্জ্য তুলেছে। কিন্তু উভয় তীরের বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, হাসপাতাল ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নদীতে ফেলা অব্যাহত রয়েছে। যদি এ অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে বর্জ্য অপসারণের সুফল পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর উদ্যোগে বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য তোলা শুরু হয়। মোট ৪টি গ্র“পে ৭টি গ্রাব ও ১১টি বার্জের সাহায্যে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। ১ নং গ্র“পে ২টি গ্রাব ও ৪টি বার্জ, ২ নং গ্র“পে ১টি গ্রাব ও ১টি বার্জ, ৩ নং গ্র“পে ২টি গ্রাব ও ৩টি বার্জ এবং ৪ নং গ্র“পে ২টি গ্রাব ও ৩টি বার্জ বর্জ্য তোলার কাজে নিয়োজিত ছিল। ২৫ হাজার ৪২৫ ঘনমিটার বর্জ্য তোলা ও ২৫ হাজার ২৩০ ঘনমিটার বর্জ্য বিভিন্ন ডাম্পিং স্থানে নিপে করা হয়েছে বলে একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর তীর ঘেঁষে ঢাকা ও টঙ্গীর ব্যবসা কেন্দ্র এবং শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনার ট্যানারি, ডায়িং ফ্যাক্টরি, শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ির গৃহস্থালি এবং হাসপাতালের মেডিকেল বর্জ্য নদীতে নিপে করা হয়েছে। এ কারণে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে ১০/১২ ফুট উঁচু হয়ে গেছে। পরিণতিতে নদীর পরিবেশ বিপন্ন এবং নদীগুলোর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই দুটি নদীর পানির গুণগত মান এতোই খারাপ হয়ে গেছে যে, এখানে কোনো জীববৈচিত্র নেই। সরকার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। তারই পরিপ্রেেিত বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর তলদেশ থেকে পলিথিনসহ গার্বেজ, নারকেলের ছোবড়া, কাদামাটি, বালু ও অন্যান্য আবর্জনা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে বিআইডব্লিউটিএ পাইলট ভিত্তিতে বুড়িগঙ্গা নদীর বাবুবাজার ব্রিজের উভয় পার্শ্বে এক কিলোমিটার এলাকার মোট ৩ লাখ ঘনমিটার বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম হাতে নেয়। সঙ্গে সঙ্গে নদীর উভয় তীরে জমা করা আবর্জনা কায়িকভাবে ও এসক্যাভেটরের সাহায্যে অপসারণেরও কার্যক্রম হাতে নেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপ। প্রকাশিত খবর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নদীর তলদেশ থেকে গ্রাব এসকাভেটরের সাহায্যে বর্জ্য তুলে বার্জ ও ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে ঢাকা সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারিত ডাম্পিং স্পটে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু নদীর উভয় পাড়ের বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, হাসপাতাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। যদি নদীতে বর্জ্য নিক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তাহলে বর্জ্য অপসারণের সুফল পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপরে এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার, শিল্প, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং অধীন সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সভা করেছে। নদীতে বর্জ্য নিপে বন্ধ করার লক্ষ্যে পদপে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তাছাড়া গৃহস্থালি, মেডিকেল ও কারখানার বর্জ্য যাতে নদীতে ফেলা না হয়, সে ল্েয প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, টঙ্গী পৌরসভা ও কেরানিগঞ্জ উপজেলা পরিষদকে অনুরোধ করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীর বাবুবাজার ব্রিজ হতে কামরাঙ্গীরচর মসজিদ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এবং তুরাগ নদীর টঙ্গী বাজার এলাকায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় জমা হওয়া বর্জ্য অপসারণ এবং নদী তীরের ময়লা পরিষ্কার করার ল্েয ২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থে ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন আছে।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment