ফোরকান আলী
দেশের ১৬৩টি নদী রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের আগ্রাসনের শিকার হওয়ার যে খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। খবরে যে চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে তার সারকথা হচ্ছে, প্রভাবশালীরা তাদের ভাগ্য গড়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে নদীগুলোকে। তারা নদীর বিরাট অংশ দখল করে সেখানে মার্কেট, বাড়ি-ঘর ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তুলে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, প্লট বানিয়ে তা বিক্রিও করছে। এ ব্যবসা এত লাভজনক হয়ে উঠেছে যে, তারা দখল-পাল্টা দখলের ঘটনায় খুন-খারাবির ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করছে না। রাজশাহীতে বালুমহাল দখলের ঘটনায় একজন খুন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নদীগুলোর যে অংশ এখনো দখল হয়নি তার অবস্থাও ভাল নয়। কারণ প্রায় প্রতিটি নদীর দখলমুক্ত অংশ দূষণের সর্বশেষ অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে। খোদ রাজধানী ও তার আশপাশের তিনটি নদীর দখল ঠেকাতে গত সাত বছরে ১৩ বার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কিছুই। উল্টো দিনের পর দিন বেদখল হয়ে যাচ্ছে নদী ও শাখা নদীর অংশ। খবরে যেসব তথ্য-উপাত্ত থেকে স্পষ্ট যে, দখলকারীদের খুঁটির জোর অতন্ত বেশী। তারা দেশের আইন-আদালতকে পর্যন্ত আমলে নিচ্ছে না। ঢাকার নদীগুলোকে রার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, নদীগুলোকে কেন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার আদেশ দেয়া হবে না, তার কারণও জানাতে বলা হয়েছে। ওই ঘটনার পর সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা হাইকোর্টের কাছে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সত্য, কিন্তু বাস্তবে দখল ও দূষণ আগের মতোই চলছে। প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের উচ্চ আদালতের আদেশের পরও যদি পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন না ঘটে তাহলে উপায় কি? আসলে ভূত রয়েছে সর্ষের ভেতরেই। ভূত যদি সর্ষের ভেতরেই থাকে তাহলে তা দিয়ে ভূত তাড়ানো যায় নাÑএটা সকলেরই জানা কথা। যারা নদীগুলো দখল করেছে এবং এখনো দখল করছে তাদের পেছনে যদি প্রশাসনের মদদ থাকে তাহলে সেগুলো যে কখনোই দখলমুক্ত করা সম্ভব হবে না। তাই সবকিছুর আগে প্রয়োজন সর্ষেকে ভূতমুক্ত করা। কিন্তু সরকার কি সেটা পারবে? পারবেকি, দখলকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, তাদের কবল থেকে নদীগুলোকে উদ্ধার করতে? দিন বদলের স্লোগান দিয়ে বর্তমান সরকার মতাসীন হয়েছে। সেই দিন বদলের অর্থ কি নদীগুলোকে দখল করে নেয়া, না সেগুলো পুনরুদ্ধার করাÑসেটাই হচ্ছে এখন ভাবার বিষয়। কিন্তু দেশকে বাঁচাতে হলে নদীগুলোকে বাঁচানোর কোনো বিকল্প নেইÑ এই সত্য সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের উপলব্ধি করা জরুরি। কারণ, নদ-নদীগুলোকে অবলম্বন করেই গড়ে উঠেছে জনপদ, শহর-বন্দর। সে েেত্র নদ-নদীগুলো যদি দিনে দিনে নিঃশেষ হয়ে যায় তাহলে মানুষতো বটেই, সকল প্রাণীর অস্তিত্বই সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আমাদের দেশে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে তিনশ’ দশটি নদী রয়েছে। এর মধ্যে যেগুলো পাহাড় পর্বত থেকে নেমে এসেছে সেগুলো হচ্ছে নদী আর যেগুলোর উৎপত্তিস্থল হৃদ বা সরোবর সেগুলো হচ্ছে নদ। ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি তিব্বতের মানস সরোবরে। অপরদিকে কপোতা নদের উৎপত্তি যশোরের কালিদহ বিল। মোট নদ-নদীর ৫৪টি এসেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক এসব নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণই আমাদের দেশের নদ-নদীগুলোর দুরবস্থার মূল কারণ। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর উপযুক্ত ড্রেজিং যেখানে জরুরি, সেখানে সেগুলো যদি দখল করে ইন্ডাস্ট্রি, মার্কেট, বসতবাড়ি গড়ে তোলা হয় তাহলে তার পরিণাম ভয়াবহ হতে বাধ্য। দেশের নদ-নদীগুলোকে বাঁচানোর ব্যাপারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠুক এবং সরকার এ বিষয়ে আন্তরিকতার পরিচয় দিক এটাই আমাদের কাম্য।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment