ফোরকান আলী
শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার না থাকায় অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য খালের পানিতে মিশছে। সেই সাথে নগরের প্রায় শতকরা আশি ভাগ পয়ঃবর্জ্যও গিয়ে পড়ছে খালগুলোতে। ফলে এই দুই ধরনের বর্জ্যরে কারণে নগরীর খালগুলো দূষণের কবলে পড়ায় পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়,ঢাকা নগরীতে রয়েছে ২৬টি ছোট-বড় খাল। এর মধ্যে দু’একটি খাল ছাড়া বাকি সব খালেই ধূষিত পানির প্রবাহ বইছে। এসব খালের দূষিত পানির দুর্গন্ধে খালপালের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মিরপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি প্রবাহিত হয় কল্যাণপুর খাল দিয়ে। মিরপুর, কল্যাণপুর, আদাবর এলাকায় কল্যাণপুরের প্রধান ও পাঁচটি শাখা খালের পানিই দূষিত। খাল দূষণের কারণে বেশি দুর্ভোগে আছে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের মানুষ। বেগুনবাড়ি খাল, জিরানী খাল, মান্ডা খাল, দেবদোলাই খালের দূষিত পানির কারণে নাসিরাবাদ, দণিগাঁও ও মান্ডা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের পরিবেশ হুমকির মুখে।
ঢাকা ওয়াসার একটি সূেত্র জানা গেছে, শিল্পকারখানা, হাসপাতাল ও বাসাবাড়ির বর্জ্য মিলিয়ে রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার টন ময়লা জমে। সিটি করপোরেশনের মালবাহী গাড়ির মাধ্যমে এই ময়লার অর্ধেক অংশ অপসারণ করা সম্ভব। এছাড়া কিছু অংশ পুড়িয়ে ফেলার ব্যবস্থা করেন তার। আর বাকি অর্ধেক ময়লা-আবর্জনা প্রত্য ও পরোভাবে খালগুলোতে গিয়ে পড়ে। নগরীর খালগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষণে শিকার হাজারীবাগ খাল। পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি তথ্য মতে, হাজরীবাগের ট্যানারিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার কিউবিক মিটার বিষাক্ত তরল বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এই তরল বর্জ্য খালের মাধ্যমে বড়িগঙ্গায় গিয়ে মিশে। ট্যানারিগুলো থেকে উৎপন্ন শিল্পবর্জ্য হাজারীবাগ খালে পড়ে। তেজগাঁও শিল্প এলাকার বিভিন্ন শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত অপরিশোধিত কারখানার বর্জ্য বিভিন্ন পানির নালা দিয়ে বেগুনবাড়ি ও মহাখালী খালে গিয়ে পড়ছে। বৃহত্তম মিরপুরসহ নগরীর অন্যান্য এলাকার বিভিন্ন পোশাক ও ডাইনিংয়ের কারখানা থেকেও বিভিন্নরকম রাসায়নিক মিশ্রিত পানি মিরপুর এলাকার খালগুলো দূষিত করছে। বেগুনবাড়ি খালের দূশিত পানির দুর্গন্ধে রামপুরা, উলন, বেগুনবাড়ি, মগবাজার ও ইস্কাটন এলাকার বাসিন্দারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বেগুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ‘খালের এই দূষিত পানির কারণে আমাদের বাড়িতে সারাবছরই দুর্গন্ধ থাকে। দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে থাকতে আমাদের ঘ্রানশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে।’
বড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতল্যা, বালু-এ চারটি নদীকে পানি দূষণের হটস্পট বলা হয়। এসব নদীর পানিতে দূষণের মাত্রা অতিরিক্ত এবং এ কারণে এসব নদীতে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব নদীকে এ কারণে বায়োলোজিক্যাল ডেড বা জৈবিকভাবে মৃত বলা হয়। পরিবেশ আইন ও বিধি অনুযায়ী শিল্পবর্জ্য উৎপন্ন করে- এমন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোই বর্জ্য শোধনাগার করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু রাজধানীর শতকরা ৯০ ভাগ শিল্প কারখানারই কোনো বর্জ্য শোধনাগার নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সূত্রে জানা গেছে, খাল ও নদীর পানি দূষণ রোধে তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে শিল্পমন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে শিল্প কারখানায় ইফুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান (ইটিপি) সস্থাপনের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও কোনো শিল্প-কারখানায় ইটিপি স্থাপন করেননি। ফলে কারখানাগুলোর অপরিশোধিত বর্জ্যরে নির্গমন বন্ধও হয়নি। পয়ঃনালার ময়লাও নগরীর খালগুলোর দূষণের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা ওয়াসার সূত্র মতে, গত ১৫ বছরে রাজধানীর লোকজন দ্বিগুণ হলেও পয়ঃবর্জ্য অপসারণের লাইন বাড়েনি। বরং বিভিন্ন জায়গায় পয়নালা বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, বিভিন্ন সময় খালগুলোর পানি পরীা করে তাতে মার্কারি ক্যাডমিয়াম এজব্যাস্টস, কপার, জিংক ও ক্রোমিয়ামের মতো বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এ সব পদার্থের উপস্থিতিতে খালগুলোর জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এই সব উপাদান মানব স্বাস্থ্যের জন্য মরিাত্মক ক্ষতিকর। নগরীর নদী ও খালগুলো মারাত্মক দূষণের শিকার- একথা শিকার করে নাম প্রকাশে অনিচচ্ছুক পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, খালের এই দূষণ নগরীর সার্বিক পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলছে। একটা সময় আসবে তখন লোকজনের কর্মকক্ষমতা কমে যাবে, কৃষি উৎপাদন কমে যাবে, স্বাসস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়বে। খাল ও নদীর পানি দূষণের কারণে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হবে বলে পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন। ঢাকার পরিবেশ বাঁচাতে খালগুলোর দূষণমুক্ত করার জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে সরকার তথা রাজনীতিবিদদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে বলে তারা মনে করেন।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment