দোহার-নবাবগঞ্জের প্রাণ ইছামতি নদীকে রক্ষা করুন
দোহার-নবাবগঞ্জের প্রাণ ইছামতি নদীকে রক্ষা করুন
ফোরকান আলী
ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার বান্ধুরা ইউনিয়ন থেকে ইছামতি নদী দোহার থানার কার্তিকপুর বাজার পর্যন্ত গেছে। নদীটির শাখা বান্ধুরা বাজার থেকে কাইশাখালি বোয়ালি বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছেছে। দোহার ও নবাবগঞ্জ থানার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীর গুরুত্ব গ্রামবাসী আজ বুঝতে শুরু করেছেন। এতদিন নদীটি ছিল ভরা। ছিল প্রাণের স্পন্দন। জনসচেতনতা ও কর্তৃপক্ষীয় অবহেলার কারণে প্রাকৃতিক সম্পদ দীর্ঘ ওই নদীটির অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। শুকিয়ে নাব্যতা হারানোর পর পরই দোহার ও নবাবগঞ্জ গ্রামের হাজার হাজার লোকের আহাজারি শুরু হয়েছে নদীকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘ নদীটির উভয় পাশে রয়েছে হাসনাবাদ, মৌলভীডাঙ্গি, ইমাননগর, নয়ানগর, ইকরাশি, কাচারিঘাট বাজার, বাস্তা বাজার, বৌবাজারসহ অসংখ্য গ্রাম। নদীটির শাখা নদীর উভয় পাশে রয়েছে নয়নশ্রী, কলাকোপা, তুইতাম, শিকারীপাড়া বাজার, বাইরাখালি, কাইশাখালি, ধাপারি, কুমোইরগঞ্জ ও বোয়ালী বাঁধ। শুষ্ক ঋতুতে এই নদীতে কয়েক পুরুষ পানি থাকতো বছর কয়েক আগেও। দোহার ও নবাবগঞ্জে দেখতাম শীতের সময়ও ইছামতির বুকে যাত্রিবাহী লঞ্চ ও মালবাহী ট্রলার বিনা বাধায় চলাচল করছে। লঞ্চ ও ট্রলারের ঢেউ নদীর উভয় তীরে আছড়িয়ে পড়তো। টেউয়ের আঘাতে নদীর তীরে বিভিন্ন ধরনের মাছ লাফালাফি করতো। এই দৃশ্য দেখে গোসলরত ছোট-বড় সকল গ্রামবাসী আনন্দে ধ্বনি দিতো। নদীতে জেলেরা জাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরতো ও নিকটস্থ বাজারে সেগুলো বিক্রি হতো। নদী থেকে সেচ দিত পার্শ্ববর্তী কৃষি জমিতে।এককালের স্রোতস্বিনী ইছামতির বর্তমান অবস্থা দেখলে মনে হয় যেন শুকিয়ে ড্রেন হয়ে গেছে। নদীতে নেই পানি, নেই মাছ, নেই নাব্যতা। শুকিয়ে যাওয়ার কারণে নদীর প্রশস্ততাও কমে গেছে। উভয় তীরে কৃষি জমিগুলোতে সেচের ব্যবস্থাও নষ্ট হয়ে গেছে। মানবদেহের ধমনী ও শিরা-উপশিরার মতো ইছামতি নদী এতোদিন গ্রামের মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছে। শুকিয়ে যাওয়াতে গ্রামের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। নদীর শাখাগুলো বালু দিয়ে ভরাট করে ইতিমধ্যে অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণ করায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মক ব্যাহত হয়। এর ফলেও নদীর নাব্যতা ও প্রাণের স্পন্দন কমে যাচ্ছে। এই নদীতে অসংখ্য লোক গোসল করতো। বর্তমানে গোসল তো দূরের কথা এপার থেকে ওপারে হেঁটে যাওয়া যায়। দোহার-নবাবগঞ্জ থানার হাজার হাজার গ্রামবাসীর আবেদন, অবিলম্বে ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা রক্ষা করতে হবে। নদীর শাখাগুলো আর যেন ভরাট করে রা¯স্তা নির্মাণ করা না হয়। নদীটির সীমানা নির্ধারণ করে তা দখল থেকে রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি, সেচ, মৎস্য, যোগাযোগ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার অমূল্য সম্পদ মায়াবি এ নদীটি গ্রামবাসীদের জীবন। জনসচেতনতার পাশাপাশি মৃতপ্রায় ইছামতিকে রক্ষার সরকারি পদক্ষেপ আশা করি।
লেখক: ড.ফোরকান আলী
গবেষক ও সাবেক অধ্যক্ষ
৩৬ গগনবাবু রোড়,খুলনা
০১৭১১৫৭৯২৬৭
0 comments:
Post a Comment