Saturday, November 16, 2013

বেদখল হয়ে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী

বেদখল হয়ে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী
ফোরকান আলী
ভরাট ও বেদখল হয়ে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জ শহরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী। এখন এটিকে নদী মনে হয় না। ভরা বর্ষা মৌসুমেও সরু খাল বলে ভ্রম হয়। শুকনো মৌসুমে নদীর বুকে চাষাবাদ চলে। নদীগ্রাসীরা যেন নদীটিকে গিলে গিলে খাচ্ছে। অথচ অর্ধ শতক বছর আগেও এটি ছিল প্রবল স্রোতস্বিনী একটি নদী। হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া উপজেলার সীমানার নিকট ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উৎপত্তি হয়ে ইটনা উপজেলার বাদলার নিকট ধনু নদীর সঙ্গে এই নদীটি সংযুক্ত হয়েছে। মূল নরসুন্দা নদীটি প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। নরসুন্দা নদীটি কিশোরগঞ্জ শহরেরর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শহরকে দ্বিখণ্ডিত করে একসময় শহরটিকে অপার সৌন্দর্যে ভরপুর করে তুলেছিল। এই নদীকে ঘিরেই কিশোরগঞ্জ একসময় অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। শহরের ভিতরেই নদীটির গভীরতা ছিল ১৫/২০ ফুট। মহাজনী নৌকা এসে ভিড়ত নদীটির বিভিন্ন ঘাটে ঘাটে। আবার এখান থেকে পণ্য বোঝাই হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করত। বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ দিক ছাড়াও মৎস্য সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল এই নদীটি। এই নদী থেকে মৎস্য আহরণ করে শত শত জেলে পরিবার তাদের জীবিকানির্বাহ করত। সেইসব জেলেদের জীবন আজ দুর্বিষহ। মাঝি-মাল্লারাও নিজস্ব পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছে। কালের বিবর্তনে দেশের অন্য নদীগুলোর মতোই নরসুন্দা নদীও এর নাব্যতা হারিয়েছে। সারা বছরই যে নদীর বুকে রঙিন পাল তোলা নৌকার আনাগোনা ছিল সেই নদীর রেখাটিও আজ অনেক স্থানে মুছে গেছে। ভরা বর্ষাকালেও সেই নদীতে এখন আর জলতরঙ্গের দেখা মেলে না, জাগে না প্রাণের স্পন্দন।
বহুকাল সংস্কার না হওয়ায় পলি পড়ে ভরাট হতে হতে অনেক স্থানে পাড়ের জমি এবং নদীবক্ষ সমান হয়ে গেছে। আর এই সুযোগে নদীখোর দখলদার শ্রেণীটি করায়ত্ত করে নিয়েছে নরসুন্দার জায়গা জমিন। তারা সেখানে নির্মাণ করেছে বাড়ি-ঘর, দোকানপাট। কোন কোন েেত্র সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজনদের ‘ম্যানেজ’ করে পত্তন এনে কায়েম করেছে দখলিস্বত্ব। শহরের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটির কোন কোন অংশ ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় এবং মশা-মাছির প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বিপর্যস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। একসময় শহরবাসীরা নরসুন্দা নদীটি রার দাবিতে সংগঠিত হয়েছিল। ‘নরসুন্দা বাঁচাও’-এর ব্যানারে মিছিল-সমাবেশ এমনকি হরতালও পালন করেছিল। ওয়ান-ইলেভেনের পর জবরদখলকারীরা কিছুটা আতংকের মধ্যে ছিল। রাস্তাঘাট দখলকারীদের স্থাপনা ভেঙ্গে দেয়া হলেও নদীখোরদের ব্যাপারে কোন পদপে নেয়া হয়নি। শহরবাসীরা অবিলম্বে নদীটি খনন ও জবরদখলকারীদের উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267


0 comments:

Post a Comment