Tuesday, November 19, 2013

নৌপথ ও নদনদীর নাব্যতা সংকট

নৌপথ ও নদনদীর নাব্যতা সংকট
 ফোরকান আলী
দণি অঞ্চলে ১৮টি নৌরুট বন্ধ। এদিকে দেশের নদনদীগুলির নাব্যতা হ্রাস নৌচলাচলের েেত্র একটি বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতি বছরই এরকম হয়, সেজন্যই এর প্রতিকার প্রয়োজন। কয়েক দশকে ১৭টি নদী বিলীন হয়ে যাওয়ার তথ্য সম্বলিত একটি প্রতিবেদনও ছাপা হয়েছে পত্রিকায়। আরো অনেকগুলি নদী ইতিমধ্যেই ধারা হারাতে বসেছে। এদিকে অসংখ্য ডুবোচর ও নাব্যতা হ্রাসে দণিাঞ্চলের নৌরুট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নদনদীসমূহের এই নাব্যতা হারানোর প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর পদপে গ্রহণ করা না গেলে আগামী ১০/১৫ বছরের মধ্যে দেশের নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা পুরাপুরি অচল হয়ে পড়বে। পত্র-পত্রিকায় নদনদীর নাব্যতা হ্রাস সংক্রান্ত যেসব রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে কেবল এর শিরোনাম তুলে ধরলেই বোঝা যাবে গোটা দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থা সামনের দিনগুলিতে কী ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে। শিরোনামগুলির কয়েকটি হচেছ-ঢাকা-নবাবগঞ্জ-গোপালদী নৌচলাচল ব্যাহত, ইছামতি-ধলেশ্বরী নদীতে পানি হ্রাস, নাব্যতা হ্রাসে কাজীরহাট-পাটুরিয়া রুটে নৌচলাচল ব্যাহত, আঠারো-বেকি নদীপথে এখন ফসল ফলছে, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে ৫ নদীর দুইশত মাইল শুকিয়ে গেছে ইত্যাদি। এরকম আরো কয়েকশত হেডিং তুলে ধরা যেতে পারে। এতে হতাশা ও দুঃখ হয়তো প্রকাশ পাবে, কিন্তু নদনদীর নাব্যতা হ্রাসের যেসব বাস্তব কারণ বিদ্যমান তার প্রতিকার ও প্রতিবিধান মিলবে না। নদীমাতৃক এই দেশের নদনদীর হালহকিকত কারো অজানা নয়। এসব নদী উজান দিয়ে প্রতি বছর ল ল ঘনফুট পলিমাটি বয়ে আসে। যার সবটাই সমুদ্রগর্ভে যায় না। ফলে নদীর তলদেশ ক্রমান্বয়ে স্ফীত হতে থাকে। আধুনিক যুগে নদী খননের জন্য চালু হয়েছে ড্রেজিং ব্যবস্থা। অর্ধশতাব্দী আগেও এদেশে যতো নদনদী ছিলো বর্তমানে তার প্রায় অর্ধেক হ্রাস  পেয়ে ২৩০টিতে দাঁড়িয়েছে । এসব নদীতে প্রতি বছর পলি জমে ৫৫২ ল ঘনফুট। নদীগুলির নাব্যতা রার জন্য ড্রেজিং-এর প্রয়োজন ৫১৮ ল ঘনমিটার। অথচ বর্তমানে দেশের ড্রেজারসমূহের মতা মাত্র ৮৭ ল ঘনমিটার। আমরা গোড়া থেকেই আমাদের নদীমাতৃক দেশের জন্য সর্বাধুনিক ড্রেজিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলি আসছি। কেবল সরকারি পর্যায়ে সম্ভব না হলেও বেসরকারি পর্যায়ের ড্রেজারের সহায়তায় নদীগুলিকে নাব্য রাখার নিয়মিত উদ্যোগ গ্রহণ আবশ্যক। দেশের নদনদীর নাব্যতা হ্রাস আদৌ কোনো নতুন বিষয় নয়। বড়ো বড়ো নদীসমূহের সাথে ছোটে ছোটো শাখা নদীসমূহের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া, উজান থেকে সৃষ্ট হওয়া প্রতিকূল পরিবেশ ইত্যাদি কারণে নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদনদীসমূহ সংকটের সম্মুখীন। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, এ পর্যন্ত দেশের প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার নদীপথ নাব্যতা হারিয়েছে। দণিাঞ্চলের বহু নদীপথ এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সমস্যা ও সংকটের মধ্য দিয়েই দেশের নৌচলাচল অব্যাহত আছে। দিন দিনই এই সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নৌচলাচলের েেত্র নদনদীর নাব্যতা হ্রাসের বিষয়টি একটি বড়ো বাধা হয়ে দেখা দেয়। এর প্রতিবিধান প্রয়োজন। নদনদীর নাব্যতা হ্রাসের সমস্যা দূরীকরণে যতো দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় ততোই ভালো। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ বিষয়টির প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে সচেষ্ট হবেন।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267




0 comments:

Post a Comment