Wednesday, November 20, 2013

ড্রেজিং কাজে ধীরগতি অনাকাক্সিত

ড্রেজিং কাজে ধীরগতি অনাকাক্সিত
 ফোরকান আলী
ড্রেজিং কার্যক্রমে গতি নেই। আর ড্রেজার সংগ্রহের েেত্রও রয়েছে স্থবিরতা। এসব েেত্র সরকার প্রধানের প্রবল আগ্রহও গুরুত্ব পাচ্ছে না। চলছে ‘অনাকাক্সিত দীর্ঘসূত্রতা’। আমলাতন্ত্রের বেড়াজালে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদনে চলছে কালপেণ। এ সংক্রান্ত অর্থ সংগ্রহের কাজের গতি অনেকটাই শ্লথ। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের ওপর ুব্ধ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ড্রেজিং সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদিত হয়নি। কালপেণ আর দীর্ঘসূত্রতার কারণে ড্রেজিং কার্যক্রমের বেহাল দশা কাটিয়ে উঠতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারের ৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে। পানি খাত ও ড্রেজিং সংক্রান্ত প্রকল্প দ্রুত অনুমোদনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানানোর নির্দেশনা দেয়া হয়। এসব বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সহসাই একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরই প্রস্তুতিমূলক সভা ১৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোঃ আবদুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ড্রেজিং ও পানি খাত প্রকল্প অনুমোদনের করুণদশা ফুটে উঠেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ আর পুরনো ড্রেজিং দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে নৌপথের নাব্যতা রার চেষ্টা। বর্তমানে বিআইডবিউটিএ’র ড্রেজার আছে ৭টি। এর সবগুলোই ইতিমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজারের সংখ্যা ১১টি। এর মধ্যে ২টি কর্ণফুলী শিপইয়ার্ডে ইতিমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। সরকার চাইছে এখন ১৭টি ড্রেজার আমদানি করতে। ওই সভায় জানানো হয়, ড্রেজার সংগ্রহের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর প্রবল আগ্রহ রয়েছে। সেখানে ‘অনাকাক্সিত দীর্ঘসূত্রতা’ কোনভাবেই কাম্য নয়। ওই সভার ১৩টি সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। বুধবার সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এসব নির্দেশনা পৌঁছেছে। এসব মন্ত্রণালয় হচ্ছেÑ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশন। সূত্র জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, নেদারল্যান্ডস সরকারের কাছ থেকে ড্রেজার সংগ্রহের জন্য সক্রিয় করা হচ্ছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। ভারত থেকে ড্রেজার সংগ্রহের েেত্র ইআরডি, অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনকে নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। কুয়েত থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে এমন ২টি ড্রেজার সংগ্রহের অর্থায়ন বিষয়ে যোগাযোগ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নৌমন্ত্রণালয়কে। সূত্র জানায়, ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ৬টি ড্রেজার প্রকল্পের অনুমোদন হয় ১৭ আগস্ট। কিন্তু ঋণের শর্তাবলী নির্ধারণ না হওয়ায় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ড্রেজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণী পৌঁছতেও কালপেণ হচ্ছে অনেক। ৫৩টি নৌপথের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও ধরে রাখা সংক্রান্ত ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের েেত্রই এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতা চলছে। এর কার্যবিবরণী পেতে সময় পার হয়ে গেছে ২২ দিন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং অন ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ’ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় কাজ শুরুর কথা ছিল জানুয়ারিতে। আর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু এখনও কাজ শুরু করা যায়নি। প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ৩ হাজার ৪৯০ কিলোমিটারের নৌপথের ৮৭৬ কিলোমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় আনা হবে। আর ড্রেজিং করা হবে ১ হাজার ৩৭৭ লাখ ঘনফুট। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ হবে ৫১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ও বিদেশী সহায়তা ৩ হাজার ৮৭৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, মেঘনা, শাহবাজপুর, হাতিয়া চ্যানেল, কর্ণফুলী, সুরমা, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী চ্যানেল, বাগখালী, নাফ, আড়িয়ালখাঁ, কীর্ত্তনখোলা, শিবসা, যমুনা, বরাল, তিতাস, শীতল্যা, মধুমতি নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন উভয় রুটে ড্রেজিং চলবে। প্রসঙ্গত বাংলাদেশে নৌপথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। ১৯৬৩ সালে নাব্যতা ছিল ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথে। ১৯৮৯ সালে একটি জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, এ পথ সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার কিলোমিটারে। জানা গেছে, দেশের ৫৩টি নৌপথ ও মৃতপ্রায় নদ-নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য একটি ড্রেজিং মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ তা বাস্তবায়িত হবে।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267



0 comments:

Post a Comment