পাগলা নদী হারিয়ে যাচ্ছে
ফোরকান আলী
নদ-নদীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এককালের খরস্রোতা পাগলা নদী। পাগলা নদীর উৎসমুখ ভারতের মালদহ জেলায়। সেই উৎসমুখে মাটি ভরাট করে গড়ে উঠেছে জনবসতি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা এবং শাহবাজপুরের মধ্য দিয়ে কানসাট হয়ে এই নদীটি পদ্মা ও মহানন্দা নদীর সাথে মিশেছে একই উপজেলার কালিনগরের সঙ্গমস্থল মোহনা নামক স্থানে। পাগলা নদীটি পূর্বেও এ উপজেলার কানসাট, শিবগঞ্জ, রামচন্দ্রপুর হাটে গড়ে উঠেছিল নদী বন্দর। এই নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল বাংলার পুরাতন রাজধানী গৌড়, কানসাটে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার কুঁজে রাজার জমিদারি এবং রামচন্দ্রপুর হাটে বৃটিশ বেনীয়দের গড়ে উঠেছিল নীলকুঠি। যার দগদগে দাগ এখনও রয়েছে পাগলা নদীর তীরে। নদীটি সংস্কার না করায় প্রতি বছর পলি পড়ে এবং নদীর পাড় বন্দোবস্ত দেয়ায় অবৈধ বন্দোবস্তকারিরা নদীর পাড় কেটে আবাদ করছে। ফলে বর্তমানে নদীটি নালার মত প্রবাহিত হচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে নৌ চলাচল এবং হারিয়ে গেছে দেশী প্রজাতির সুস্বাদু মাছ। বেকার হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের জেলেরা। পাগলা নদীর উপর নির্ভরশীল শিবগঞ্জ উপজেলার তেলকুপি, কয়লার দিয়াড়, শ্যামপুর, কানসাট, শিবগঞ্জ, তক্তিপুর, মোহদিপুর, ছত্রাজিতপুর, চকঘোড়াপাখিয়া, রশিকনগর, কমলাকান্তপুর, সদর উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া, রামচন্দ্রপুর সুন্দরপুর, কালীনগরসহ বহু সংখ্যক গ্রাম। এই নদী দিয়ে এককালে আম চালান যেত ঢাকাইয়া নৌকায়। গ্রামসমূহের লোকজনকে গোসলের জন্য যেতে হয় এখন পদ্মা নদীতে। রাজস্ব বিভাগের নদী পাড়ে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার কারণে বন্যার পানি কমার সাথে সাথে ওই অবৈধ বন্দোবস্তকারিরা পাড়ের মাটি কেটে নদী ভরাট করে। দেখার কেউ নাই। পাগলা নদীর তীরে তক্তিপুর নামক স্থানে জাহ্নমণির আশ্রম। প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমা উপলে তক্তিপুর ও কানসাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের হয় গঙ্গাস্নান। পানি কমে যাওয়ায় হিন্দু সম্প্রদায় গঙ্গাস্নানে অসুবিধা হয়। নদী পাড়ের বিলগুলোও পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশী প্রজাতির মাছ এখন আর পাওয়া যায় না। পাগলা নদীটি ড্রেজিং করে স্বাভাবিক নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে নদী পাড়ের বাসিন্দারা।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment