Monday, November 25, 2013

বাংলাদেশের নদ নদীর বিবরণী প্রণয়ন করুন

বাংলাদেশের নদ নদীর বিবরণী প্রণয়ন করুন
 ফোরকান আলী
বাংলাদেশ মৌসুমী অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানে মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় বর্ষাকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়ে থাকে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারত, বার্মা, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান ও মৌসুমী অঞ্চলের অন্তর্গত এবং বর্ষাকালে এসব অঞ্চলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়। বাংলাদেশ নদী প্রধান দেশ। এর মধ্যে প্রধান নদ-নদী যেমন পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি নদী আন্তর্জাতিক নদী আর কতগুলো নদী আন্তঃদেশীয় নদী, আর কতগুলো নদীও রয়েছে যেগুলো বড় নদীর শাখা নদী এবং দেশের মধ্যেই প্রবাহিত হয়েছে। এ নদীগুলোর পানি প্রবাহিত হয়ে তার পানি অধিকাংশ বঙ্গোপসাগরে নিপতিত হয়ে থাকে। বর্ষাকালের বৃষ্টিপাত ধরে রাখার মত নদীর অবস্থা না থাকলে তার পাড় উপচে বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন নদীর পানি বর্ষাকালে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে অনুপ্রবেশ করে তা এদেশের নদ-নদী উপচে স্থল ভূমিতে বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভারত শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি সংরণের জন্য বিভিন্ন বাঁধ দিয়ে পানি সংরণ ও ব্যবহার করে, কিন্তু বর্ষাকালে প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাতের দরুন নদীর বিপুল জলরাশি ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়লে তারা সেসব পানি বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। এজন্য বাংলাদেশের নদ-নদী, খালের পানি ধারণ ক্ষমতা, এর ব্যবহার, নদ-নদীর অবয়ব, গভীরতা, নদীর তীর, নদীর পাড়, নদীর ঘাট, পরিবহন ব্যবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা বিশেষ প্রয়োজন। এ সঙ্গে বর্ষাকালে নদী সংশ্লিষ্ট এলাকার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বিভিন্ন নদী বা ত্রে থেকে সংশ্লিষ্ট নদীতে নিপতিত পানির পরিমাণ, ভারত থেকে বর্ষাকালে আগত নদীর পানির পরিমাণ, ভারত থেকে কোন নদী বা কোন স্থানের পানি বাংলাদেশের কোন নদীর মাধ্যমে কি পরিমাণ কত সময়ে আসে তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কি সে সবের সুষ্ঠু বিবরণ সংগ্রহ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের নদ-নদীর পরিবেশ পরিস্থিতি জানার জন্য আমাদের আন্তর্জাতিক নদ-নদী ও আন্তঃদেশীয় নদীর প্রবাহ, জলস্রোত, নদ-নদীর উৎপত্তি স্থল, প্রবাহ ক্ষেত্র, নদ-নদীতে নির্মিত বাঁধ, গ্রোয়েন, নদীর পানির ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনবসতি, কৃষি, শিল্প, বন ইত্যাদি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। এজন্য আমাদের ভারত, নেপাল, ভুটান, বার্মার নদ-নদী, প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদীর বিভিন্ন অবকাঠামো, সেত,ু বাঁধ ইত্যাদি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। শীতকালে বাংলাদেশের নদীগুলোর প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদীগুলোর প্রশস্থতা, নদীর তীর, পানি ধারণ মতা ও পানির পরিমাণ, শীতকালে নদীর পানির বিবিধ ব্যবহার, নদীতে পতিত পলির পরিমাণ, নদীর ভূমি গঠন, নদীর উপর নির্মিত সড়ক, সেতু, বাঁধ, গ্রোয়েন ইত্যাদি সম্পর্কে প্রগাঢ় তথ্য বিবরণী সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এ সঙ্গে আন্তঃদেশীয় ও আন্তর্জাতিক নদীর সংযোগের কারণে কি পরিমাণ পানি অন্য নদী বা অন্য দেশ থেকে আসে তাও নিরূপণ করা প্রয়োজন। বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশের নদ-নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা, নদীর গভীরতা, নদীর তীর, পাড়, বর্ষাকালে পাড় উপচে নদীর পানি স্থল ভূমিতে গমনের পরিমাণ, বৃষ্টির পরিমাণ, বন্যায় প্লাবিত এলাকার পরিমাণ, জনজীবনে ও পরিবেশে এর ফলাফল, য়তি ইত্যাদি সম্পর্কে প্রগাঢ়ভাবে তথ্য বিবরণী প্রণয়ন করা বিশেষ প্রয়োজন। এসব ব্যাপারে প্রতিটি নদীর েেত্র একটা পৃথক পৃথক সংগৃহীত বিজ্ঞান ভিত্তিক সচিত্র তথ্য-উপাত্ত থাকা প্রয়োজন। এসব বিবরণী পরবর্তী সময়ে যৌথ নদ-নদী, আন্তঃদেশীয় নদ-নদী, আন্তর্জাতিক নদ-নদী সম্পর্কে সংযোজন-বিয়োজন করা যাবে। বাংলাদেশের বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য দেশের প্রতিটি নদ-নদীর উপর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ-সমন্বয় করা বিশেষ প্রয়োজন। সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, পর্যবেণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, জন জীবনের ওপর এর ফলাফল ইত্যাদি সম্পর্কে সংগৃহীত তথ্য বাংলাদেশে বন্যা দুর্যোগ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে।এসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সমন্বয় ও তথ্য চিত্র, নক্সা, মানচিত্র তৈরিতে দেশের অবসরপ্রাপ্ত ভূমি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়-এর অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিবেশবিদ, প্রকৌশলী, সুশিতি বেকার ছাত্রছাত্রী সহযোগিতা করতে পারে। সরকার বাংলাদেশের প্রতিটি নদ-নদীর উপর পৃথক তথ্য বিবরণী প্রণয়ন করে দেশের নদ-নদী তথা পানি সম্পর্কে নিয়ন্ত্রণ, সদ্ব্যবহারে সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। এছাড়া এদেশের নাগরিকগণ এতদ সংক্রান্ত তথ্য বিবরণী পাঠে নদী সম্পদ উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে বস্তুনিষ্ঠ সহযোগিতা করতে সম হবেন।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267




0 comments:

Post a Comment