Monday, November 25, 2013

নদ-নদীর অস্তিত্ব সংকট

নদ-নদীর অস্তিত্ব সংকট
 ফোরকান আলী
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর অস্তিত্ব অনেক আগে থেকেই সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। বুড়িগঙ্গা, শীতল্যা, তুরাগ, বালু ও ধলেশ্বরীসহ দেশের নদীগুলোকে দখল, দূষণ ও নাব্যসংকট থেকে উদ্ধার করতে সরকার অনেক আগেই একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করলেও তাদের কর্মকা- তেমন ল্যণীয় হয়ে উঠেনি। নদীর দখল ও দূষণমুক্তির জন্য এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের নাগরিক সমাজের পরিবেশ আন্দোলন ও দাবী-দাওয়ার প্রেেিত টাস্কফোর্স, নৌপরিবহন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প থেকে বিভিন্ন সময়ে নদী রায় নানা উদ্যোগ ও অভিযানের ঘোষণা দেয়া হলেও রহস্যজনকভাবে তা যেন শুরু হওয়ার আগেই থমকে যাচ্ছে বার বার। রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীগুলোর অস্তিত্ব সংকটের পাশাপাশি ইতোমধ্যে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাণপ্রবাহ কর্ণফুলী নদীও মারাত্মক দূষণ ও দখলের কবলে চলে যাওয়ার খবর ইতিমধ্যে বিভিন্ন সময়ে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত খবরে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম নদী ভৈরব নদ মারাত্মক শিল্প দূষণ ও দখলের কবলে অস্তিত্ব সংকটে উপনীত হওয়ার কথা জানা গেছে। যশোরের শিল্পশহর নওয়াপাড়ায় একসময়ের স্বচ্ছসলিলা, প্রমত্তা ভৈরব নদ এখন একদিকে মারাত্মক শিল্প দূষণের শিকার, অন্যদিকে প্রভাবশালীদের হাতে দখল ও ভরাট হয়ে বর্তমানে তা যেন একটি ীণস্রোতা নালায় পরিণত হয়েছে।
গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত শত শত নদী এ দেশের কৃষিভিত্তিক সভ্যতা ও অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ। নদ-নদীর পানি প্রবাহ ও নাব্যতার সাথে আমাদের পরিবেশ, কৃষিব্যবস্থা, ব্যবসায়-বাণিজ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, জীব-বৈচিত্র্য তথা প্রাণের অস্তিত্বের সম্পর্ক বিদ্যমান। আমাদের প্রধান নদীগুলোর প্রায় সবই আন্তর্জাতিক নদী হওয়া সত্ত্বেও  গত চার দশকে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ অধিকাংশ নদী উজানে ভারতীয় পানি আগ্রাসন ও একতরফা নিয়ন্ত্রণের শিকার হওয়ায় এদের পানি প্রবাহ তথা নাব্যতা ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। ভারতের ফারাক্কা বাঁধ, গজলডোবা বাঁধ, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার ইত্যাদি কর্মকা-ের কারণে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার পরও অবশিষ্ট পানিপ্রবাহ এখন মারাত্মক দূষণ ও যথেচ্ছ দখলবাজির শিকার হয়ে অধিকাংশই এখন মরে গেছে অথবা মৃতপ্রায় নালায় পরিণত হয়েছে। পদ্মার বিশাল অংশ ইতিমধ্যে শুকিয়ে ধু-ধু বালির চরে পরিণত হওয়ার পর এখন ভৈরব নদের অবস্থাও দূষণে ও দখলে অস্তিত্ব সংকটের কবলে পতিত হতে দেখা যাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। তবে নদ-নদী দখল করে, ভরাট করে গড়ে তোলা শিল্প-কারখানা ও শিল্পবর্জ্য যেভাবে নদীগুলোকে অস্তিত্বের সংকটে ফেলেছে, তা’ অদূর ভবিষ্যতে আমাদের ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অস্তিত্বকেই মারাত্মক হুমকির মধ্যে ঠেলে দেবে।
রাজধানী ঢাকার বুড়িগঙ্গা, শীতল্যা, বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, যশোরের ভৈরবসহ যে সকল নদীকে ঘিরে দেশের প্রধান প্রধান শহর ও শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল, সেসব নদীর দূষণ, দখল ও অস্তিত্ব সংকটের বর্তমান বাস্তবতা প্রায় একই রকম। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সারাদেশের সব নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করার ল্েয গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের কর্মকা- গত চারবছরেও আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠতে পারেনি। একদিকে নদী তীরের অবৈধ দখলের উচ্ছেদ করা হচ্ছে অন্যদিকে তা পুনরায় বেদখল হয়ে যাচ্ছে। বুড়িগঙ্গার একপাড়ে ইতিমধ্যে সীমানা দেয়াল ও অ্যাপ্রোচ রাস্তা নির্মাণ করা হলেও কোটি কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ খরচ করার পরও বুড়িগঙ্গা দূষণমুক্ত করার উদ্যোগগুলো সফল হয়নি। একইভাবে কর্ণফুলী নদীও ক্রমাগত দূষণ ও দখলের করালগ্রাস থেকে রার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষতঃ যশোরের ভৈরবসহ যেসব নদ-নদীর অস্তিত্ব সংকট তৈরী হয়েছে, সে সবের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রভাবশালী দখলদার ও দূষণকারীদের হাত থেকে নদী রায় গঠিত টাস্কফোর্সকে প্রকৃত অর্থে কার্যকর দেখতে চায় জনগণ। পাশাপাশি যৌথ নদীর পানির হিস্যা আদায়ের সাথে সাথে মহাপরিকল্পনার আওতায় নদীগুলোর ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে হবে।   


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267



0 comments:

Post a Comment