ফোরকান আলী
বিশাল নদীতে নৌকা বাইতে গিয়ে মাঝিদের কণ্ঠে এই গান বহুবার শুনেছি। ঈশ্বরদীর পাশেই পদ্মা নদী। ১৯৭৬ সালে এই পদ্মাকে দেখেছি বিশাল। এপার থেকে ওপার ধু ধু দেখা যেতো। পদ্মার বিশালতা দেখে ভয় লাগতো। প্রায় ৪০ বছর পরে সম্প্রতি ঈশ্বরদীতে বেড়াতে গিয়ে দেখলাম, পদ্মা ছোট হয়ে এসেছে। নদীর অনেকাংশ জায়গা জুড়ে চর জেগে উঠেছে। সেখানে চাষ করা হচ্ছে নানান ধরনের ফসল। নদীর নাব্যতা নেই, দূরত্ব কমে গেছে।। সে জন্য এপার থেকে ওপার পর্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখতে পেলাম। ঈশ্বরদীর কাছাকাছি পদ্মা নদীই শুধু নয়, ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন নদী, ঝালকাঠির গাবখান নদী, কুষ্টিয়ার গড়াই নদী, বগুড়ার করতোয়া নদী, দিনাজপুরের পুনর্ভবা নদী, কুড়িগ্রামের ধরলা নদী; গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী, যশোরের সাগরদাঁড়ির কপোতা নদসহ দেশের অসংখ্য নদী নাব্যতা হারিয়ে ছোট হয়ে এসেছে। ঠাকুর গাঁওয়ের টাঙ্গন নদী তো শীত-বসন্তে পানি শূন্য হয়ে যায়, ঠিক তেমনি কুষ্টিয়ার গড়াই নদী পানি শূন্য হয়ে গড়াই সেন বিশাল চরে পরিণত হয়। তখন এপার থেকে ওপারে পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়। নদীটি যদি পুনঃখনন করা না হয় তাহলে অচিরে এখানে বাড়িঘর ধানী জমি উঠে গড়াই নদী নামটি পালটে গিয়ে গড়াই গ্রাম হলে হতেও পারে।দিন যতোই যাচ্ছে আমাদের দেশের এক সময়ের বিশাল নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। পানি শুকিয়ে গিয়ে নদীগুলো চরে রূপান্তরিত হচ্ছে। জমি চাষাবাদ, ফসল উৎপাদনে নদীর গুরুত্ব বলে শেষ করা যায় না। যদি এসব নদী অতি সত্বর ড্রেজিং বা খনন না করা হয় তাহলে আমাদের দেশটি হয়তো দিন দিন পানি শূন্য হয়ে মরুভূমির মতো রূপ নেবে। আমরা হারিয়ে ফেলবো সুজলা শস্য শ্যামলা বাংলার রূপ। মরে যাওয়া নদীগুলো যদি খনন করা হতো তাহলে এহেন দৈন্যদশা হতো না। নদীর গভীরতা ঠিক থাকতো। স্বভাবত লঞ্চ, স্টিমার, নৌযান চলাচলে কোনো বিঘœ ঘটতো না। একদা ঢাকা থেকে বরিশাল, ঝালকাঠি, হুলারহাট হয়ে বড় বড় স্টিমার যেতো খুলনায়। নদীতে চর জাগাতে, পানি কমে যাওয়াতে স্টিমার সার্ভিসও আজ বন্ধ প্রায়। বর্ষা মৌসুম এলে স্টিমার চললেও নদীর এখানে-ওখানে চর জেগে ওঠায় গভীর রাতে চরে লঞ্চ-স্টিমার আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলো ড্রেজিং বা পুনঃখনন করা জরুরী হয়ে পড়েছে। মালামাল ও যাত্রী পরিবহনের জন্যই শুধু নদীগুলো টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন নয়। নদীর প্রয়োজন রয়েছে ফসল চাষাবাদে পানি পাওয়ার জন্য, মৎস্য ও অন্যান্য জলজ সম্পদ টিকিয়ে রাখার জন্য। নদী থাকা মানেই দেশের সর্বত্র সবুজ শ্যামল রূপ বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। তাই দেশের সকল নদীর নাব্যতা, প্রশস্ততা, বিশালতা টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment