Friday, November 22, 2013

শেরপুরের অনেক নদীর অস্তিত্ব বিলুপ্ত

শেরপুরের অনেক নদীর অস্তিত্ব বিলুপ্ত
 ফোরকান আলী
নাব্যতা হারিয়ে বিলীন হয়ে গেছে শেরপুরের অনেক নদী খাল বিল। সেইসাথে কালের বিবর্তনে জেলার বেশ কয়েকটি প্রধান নদীর নামের পরিবর্তন ঘটেছে। প্রায় দেড়শ’ বছর আগে শেরপুরের জমিদার হরচন্দ্র রায় চৌধুরীর লেখা “ শেরপুরের বিবরণ” বইয়ে জেলায় ১৬টি প্রধান নদী ও ৯াট ুদ্র নদীর কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এর মধ্যে কয়েকটি পরিবর্তিত নাম নিয়ে মোট ৮টি নদী কোনমতে টিকে আছে। অন্য নদীগুলো বিলুপ্তি। প্রাচীন ইতিহাসটিতে যে ১৬টি প্রধান নদীর নাম উল্লিখিত আছে সেগুলো হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র, মালিঝি, সোমেশ্বরী, মৃগী, নেত্রবতী, মহাঋষি, থলঙ্গ, ভোগবতী, খারুয়া, দর্শা, ভূরাঘাট, বলেশ্বরী, সুতী মরাখড়িয়া, বৃদ্ধ ভোগবতী ও খড়িয়া। এর মধ্যে বর্তমানে জেলায় ৮টি নদী প্রবহমান রয়েছে। অন্য ৮টি হারিয়ে গেছে। কালের সঙ্গে যুদ্ধ করে যে ৮টি নদী টিকে রয়েছে তার মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, মৃগী, সোমেশ্বরী ও মালিঝি পূর্ব নামেই এখনো পরিচিত। এ ছাড়া দশানী নামে নতুন একটি নদীর সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে কালের বিবর্তনে যে ৪টি নদীর নাম পরিবর্তিত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে ভোগবতী থেকে ভোগাই, মহাঋষি থেকে মহারশি, থলঙ্গ থেকে চেল্লাখালী এবং নেত্রবতী থেকে নেতাই নদী। পরবর্তিতে নেতাই নদী নেতাই খালে রূপান্তরিত হয়ে হারিয়ে গেছে। অথচ এ নদীটি সাবেক শেরপুর পরগনার মধ্যে ৪৩ মাইল দীর্ঘ নদী ছিল বলে ইতিহাস স্যা দেয়। এছাড়া মৃগী নদীর দৈর্ঘ্য ২৯ মাইল, ব্রহ্মপুত্র নদ সাড়ে ১০ মাইল, মালিঝি সাড়ে ৩৫ মাইল, চেল্লাখালী ১২ মাইল, সোমেশ্বরী সাড়ে ১৮ মাইল, মহারশী ১৫ মাইল এবং ভোগাই নদী ১৬ মাইল দীর্ঘ ছিল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, একমাত্র ব্রহ্মপুত্র নদ ছাড়া সবগুলো নদীর উৎস গারো পাহাড়ে আর এসব নদী অধিকাংশই পূর্বমুখী। অসংখ্য নদী খাল বিল জলাশয়ের বিলুপ্তি ও নাব্যতা হারানো প্রসঙ্গে জেলার কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে আলাপচারিতায় এবং নাগবংশের ইতিবৃত্ত ও শেরপুর টাউনের সংপ্তি ইতিহাস বইসূত্রে জানা গেছে ১৮৮৫, ১৮৯৭ এবং ১৯১৮ সনে প্রবল ভূমিকম্পে শেরপুরের নদ নদী খাল বিলসমূহের গতি পরিবর্তিত ও ভরাট হয়ে যায়। বিশেষতঃ ১৮৯৭ সনের ১২ জুন বিকেলের ভূমিকম্প ছিল ভয়াবহ। অপরদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় অঞ্চলের প্রবীণ আদিবাসী নেতা জাগেন্দ্র কোচ জানান, পঞ্চাশের দশকে গারো পাহাড় এলাকায় নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস এবং পাহাড়ি টিলা খুঁড়ে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। এর ফলে পাহাড়ি ঢলের পানিবাহিত বালি জমে জেলার নদীগুলোর তলদেশ দ্রুত ভরাট হয়ে যেতে শুরু করে। এছাড়াও বর্তমানে আবহাওয়াজনিত কারণে নদীর উৎসমুখ ঝোড়া (ছড়া) সমূহ শুকিয়ে পানির প্রবাহ মারাত্মক হ্রাস পেয়েছে।
এ ব্যাপারে নদ নদী খাল বিল জলাশয় অধ্যুষিত এলাকাবাসীর অভিমত অবিলম্বে এসব নদ নদী খাল বিল জলাশয়গুলো খনন করে পানির প্রবাহ ও ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267



0 comments:

Post a Comment