Wednesday, November 27, 2013

তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় ১৩ নদীর প্রবাহ বন্ধ

তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় ১৩ নদীর প্রবাহ বন্ধ
 ফোরকান আলী
তিস্তা নদী অববাহিকার ৬ জেলার ৩৫ উপজেলায় লাখ লাখ কৃষকের মাঝে এখন পানির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। উত্তরাঞ্চল জুড়ে পানির অভাবে চলতি মৌসুমের বোরো আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। তিস্তা ব্যারেজের উজানে ভারতের গজলডোবা বাঁধে একতরফা পানি প্রত্যাহার করার কারণে তিস্তায় পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে নেমে যাওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ব্যারেজের ভাটিতে বিস্তীর্ণ এলাকা ধু-ধু বালু চরে পরিণত হয়েছে। খরিপ-২ মৌসুমে তিস্তা ব্যারেজের অধীনে নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, জয়পুরহাট ও লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ১ লাখ ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যান্য বছরের এ সময়ে তিস্তা নদীতে সামান্য পরিমাণ পানি প্রবাহিত হলেও এ বছর একফোঁটা পানিও পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালন ও রণাবেণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে এ অঞ্চলে বড় ও মাঝারি আয়তনের ১৭টি নদ-নদীর মধ্যে ১৩টিরই এখন করুণ দশা। নদীর এ করুণ দশায় তিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি, নৌচলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তিস্তার পানি প্রবাহ ৫শ’ থেকে ৫শ’ ২৫ কিউসেকে এসে দাঁড়িয়েছে। যা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে সর্বনিম্ন ও বিপজ্জনক। সূত্র জানায়, বাংলাদেশের তিস্তা নদীর নাব্যতা রার জন্য তিস্তা ব্যারেজের উজানে ৭ হাজার কিউসেক পানির প্রবাহ প্রয়োজন। ৯৯ সালের জানুয়ারীতে পানি প্রবাহ ছিল ১০৩৩ কিউসেক। ২০০০ সালে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের একাধিক বৈঠকের পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫৩০ কিউসেকে। ২০০১ সালের জানুয়ারীতে তা নেমে আসে ১৪০৬, ২০০২ সালের জানুয়ারী ১০০০, ২০০৩ সালের জানুয়ারী ১১০০ এবং ২০০৬ সালের নভেম্বরে ৯শ’ ৫০ কিউসেক পানিতে এসে দাঁড়ায়। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে তিস্তার পানি প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৫শ’ ২৫ কিউসেকে। এর ফলে চলতি বোরো মৌসুমে উত্তরাঞ্চলে কয়েক হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থেকে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে তিস্তা ব্যারেজে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যারেজের মূল ৪৪টি গেট বন্ধ। ১২টি সাব গেট দিয়ে মূল ক্যানেলে পানি তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা। গত আমন মৌসুমে খরার কারণে তি পুষিয়ে নিতে এবারের বোরো মৌসুমে কোমর বেঁধে কৃষকরা মাঠে নেমেছে। কিন্তু মূল ক্যানেলে পানি না থাকায় চরম হতাশায় পড়েছে কৃষকরা। পানির জন্য ওই অঞ্চলের কৃষকরা সারাদিন ধরনা দিচ্ছে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ার কার্যালয়ে। অপরদিকে প্রয়োজনীয় পানি প্রবাহ না থাকায় উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘতম নদী প্রমত্তা তিস্তা ধীরে ধীরে শীর্ণ খালে পরিণত হচ্ছে। তিস্তার বিরূপ প্রভাব পড়েছে এই অঞ্চলের আরও ৩টি প্রধান নদী আত্রাই, করতোয়া ও পুনর্ভবার ওপর। তিস্তার দু’টি শাখা নদী বাঙালী ও ঘাঘট শুকিয়ে গেছে। তিস্তার বুক জুড়ে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। ইতিমধ্যে নাব্যতা সংকটের কারণে এ অঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনায় জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তেল বহনকারী জাহাজগুলো নাব্যতা সংকটের কারণে চলাচল করতে না পারায় বালাসী ও চিলমারীর ভাসমান ডিপো দু’টি তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। একই কারণে বালাসী-বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌরুটে বার্জ চলাচল করতে না পারায় মালবাহী রেল ওয়াগান পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে। পানি না থাকায় ব্রক্ষ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, করতোয়া, দুধকমল, জিঞ্জিরা, ধরলা, বাঙালী, ঘাঘট, আত্রাই, আখিরা, মানাস, কাটাখালি, ইছামতি, পুনর্ভবা, বুড়িঘরা, ডাহুক নদ-নদীর মধ্যে ১৩টি নদী এখন পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া তিস্তায় প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে মৎস্যজীবীদের আয়-রোজগার। সংশ্লিষ্ট কতৃপ ষিয়টির প্রতি অধিকতর গুরুত্ব দেবেন বলে আমরা আশাকরি।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267



0 comments:

Post a Comment