Wednesday, November 27, 2013

নদীর জন্য প্রার্থনা

নদীর জন্য প্রার্থনা
  ফোরকান আলী
প্রায় নীরবে চলে গেল জাতিসংঘ ঘোষিত নদী দিবস। সেপ্টেম্বরের শেষ রোববার বিশ্ব নদী দিবস। ২০০৫ সালে এ দিবসটি জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে। কানাডিয়ান নদী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক এঞ্জেলোর উদ্যোগে কানাডা ও আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে নদী দিবস পালিত হতো। পৃথিবীর দেশে দেশে নদী বাঁচাও আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে এ দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব বাড়ছে। পৃথিবীব্যাপী নদী উদ্ধার, নদীর স্বাভাবিক স্বাস্থ্যরা, নদীর সুস্বাস্থ্যের জন্য আন্দোলন, পৃথিবীর জন্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য নদী যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এ দিবসটি এখন গুরুত্বপূণ একটি দিবস হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যখন আমরা আমাদের নদীরায় নানারকম কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি, আমাদের ভরাট হয়ে যাওয়া নদী, দখল হয়ে যাওয়া নদী, দূষিত হয়ে যাওয়া নদী, লুট হয়ে যাওয়া নদী এবং নাব্যতা রায় যখন আমরা আমাদের বিপন্ন জীবনের মতো বিপন্ন নদীর পাশে দাঁড়াচ্ছি তখন নদী দিবসকে সামনে রেখে সরকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সচেতন জনগণ এ দিনটিকে আরো কার্যকর গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে এলে ভালো হতো। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোর করুণ মৃত্যুর জন্য ভারত কর্তৃক একক পানি প্রত্যাহার যেমন দায়ী, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর পুঁজির আগ্রাসন নদীর মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে। তাছাড়া ষাটের দশকে অধিক খাদ্য ফলানোর স্লোগান নিয়ে নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহারের নামে নদীশাসন, নদীর স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করেছে। সে সময় যত্রতত্র বাঁধ, পোল্ডার, এমব্যাঙ্কমেন্ট অবকাঠামো নির্মাণ। সাময়িক কিছু সুফল পাওয়া গেলেও প্রকল্পভুক্ত এলাকাগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে থাকে। উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্প এলাকায় হাজার হাজার মাইলের বাঁধ। ওই সময় এলাকায় পোল্ডার-সুইসগেট তৈরির সময় নদীর গতিপথ নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা হয়নি। ফলে নদীর নাব্যতায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যার ফলে আমরা নদী নিয়ে নানারকম জটিলতার মধ্যে পড়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে দেশের ১৭টি নদী পুরোপুরি মরে গেছে। এর মধ্যে দেশের বেশিরভাগ নদী হলো উত্তর ও দণিাঞ্চলের নদী। মরে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে আরো ৮টি নদী। নদীমাতৃক বাংলাদেশের যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল, তেমনি নদী বাংলাদেশকে দিয়েছে রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা। নদীর মুমূর্ষু ও দুর্দশার কারণে সেই নিরাপত্তাও ঘুচতে বসেছে। স্বাধীনতার পর উন্নয়নের নামে, দাতাদের পরামর্শে, প্রতিবেশীদের লোলুপ দৃষ্টিতে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদীপথ হারিয়েছি, আরো হারাচ্ছি। এছাড়া আমাদের দখল, দূষণ, ভরাট, বালি উত্তোলন করে আমরা আমাদের নদীগুলোর মৃত্যু নিশ্চিত করতে মেতে উঠেছি। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। নদীকে কেন্দ্র করেই ঢাকা হয়ে উঠেছিল বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। জনপ্রিয় বাণিজ্য কেন্দ্র হয়েছিল মসলিনকে কেন্দ্র করে। উত্তাল বুড়িগঙ্গা, শীতল্যা, তুরাগ, বালু নদী এগুলোর পাশ দিয়েই প্রমত্তা পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র এগুলোর উন্মাতাল জলরাশি এখন স্মৃতিময় বেদনাকাতর কবিতার পঙ্ক্তির মতো। শুধু নদী নয়, ঢাকার আশপাশে এবং ভেতরের খালগুলো লুট হয়ে গেছে। গত দশকেও যে ধোলাইখালের ওপর দিয়ে নৌকাবাইচ হতো সে ধোলাইখালের লুট হয়ে যাওয়া আমাদের সময়েই ঘটে গেল। ক্যারাভান রিভার কোথায়! এখন তো শুধু কারওয়ানবাজার। নদীর জন্য কান্না আর প্রার্থনা ছাড়া বুঝি আমাদের করার কিছুই নেই। আসুন আমরা সবাই নদীর জন্য প্রার্থনা করি। আগামী দিনগুলোতে নদী আন্দোলনকে বেগবান করি। নদীর সুস্থতার জন্য চলুন গণসচেতনতা বৃদ্ধি করি। নদীরায় এগিয়ে আসি। নদী বাঁচলে আমরা বাঁচবো। সরকার এবং জনগণকে এখনই নদীরায় কার্যকর গবেষণাধর্মী পন্থা অবলম্বন করতে হবে এবং তা নতুন প্রজন্মের স্বার্থে।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267



0 comments:

Post a Comment