Friday, November 22, 2013

নদ-নদী না বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে না

নদ-নদী না বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে না
 ফোরকান আলী
নদ-নদী না বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে না। নদীর সঙ্গে এ দেশের মানুষের সম্পর্ক শোনিত ধারার মতো। বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি নদীøাত। সে জন্যই বংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়ে থাকে। এ দেশের নদীকে বাঁচাতে হলে রাজনৈতিক ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমঝোতার বিকল্প নেই। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসকাবে ‘টিপাইমুখ বাঁধ : বাংলাদেশের নদ-নদী ও নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট নাগরিকরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এমএন ক্রিয়েশন্স ও পাকি নদীর কথা আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে ভারতের প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধের সম্ভাব্য পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া এমএন ক্রিয়েশনও একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করে। ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে সংসদ সদস্য ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব সোস্যাল ওয়েল ফেয়ারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মাহবুব ইসলাম রুনু, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মোহাম্মদ এ আরাফাত, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের জাহাজ জরিপকারক ও অভ্যন্তরীণ জাহাজ নিবন্ধক প্রকৌশলী মোঃ মুঈন উদ্দিন জুলফিকার, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বাদল, লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া, অয়েল ট্যাংকার এসোসিয়েশনের সহসভাপতি হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক এবং পাক্ষিক নদীর কথা সম্পাদক সাহাব উদ্দিন মিলন বক্তব্য রাখেন। গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেন, সম্প্রতি জাতীয় সংসদের একটি প্রতিনিধিদল ভারতের প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ভারত সরকার টিপাইমুখে এখনো পর্যন্ত কোনো স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেনি। তবে তারা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। টিপাইমুখ বাঁধ বন্ধ করতে হলে ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা শুরু করতে হবে। সাংসদ গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেন, আমাদের নদীগুলো আজ মৃতপ্রায়। এ জন্য আমরাও কম দায়ী নই। নদীর দিকে কারো কোনো খেয়াল নেই। আমাদের লঞ্চ মালিকদের কঠোর অনুশাসনে রাখতে যে পরিমাণ আইন সরকার করছে তার মাত্র ৫ ভাগ বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে করলে বুড়িগঙ্গার চেহারা আজ এরকম হতো না।শ্যামল দত্ত বলেন, বাংলাদেশের নদ-নদী ও নৌ-পরিবহন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। এই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় নৌপথের উন্নয়ন না করে সড়কপথের দিকেই বিভিন্ন সরকারের নীতিনির্ধারকদের নজর বেশি। সরকারের উদাসীনতা ও অবহেলায় বুড়িগঙ্গার নিচে ৬ ফুট পলিথিনের স্তর জমে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সাহাব উদ্দিন মিলন বলেন, ’৭৫ সাল পর্যন্ত দেশে সাতটি ড্রেজার ছিল। তারপর আর কোনো সরকার দেশের জন্য একটিও ড্রেজারও কেনেনি। কী কারণে ৩৪ বছরে আর ড্রেজার কেনা হলো না তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। নদীর যথাযথ ড্রেজিং করা এবং তার মনিটরিং করা প্রয়োজন। বদিউজ্জামান বাদল বলেন, নদী আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। নৌ, ভূমি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় সঠিকভাবে ড্রেজিংও করা হয় না। মনে হয় ড্রেজার দিয়ে মাটি না কেটে পানি কাটা হয়। এ কাজের কোনো মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও নেই। গোলটেবিল বৈঠকে জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, শিক, ব্যবসায়ী, ছাত্র, সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267

0 comments:

Post a Comment