Friday, November 22, 2013

উত্তরাঞ্চলে শুকিয়ে গেছে বহু নদী

উত্তরাঞ্চলে শুকিয়ে গেছে বহু নদী
 ফোরকান আলী
যমুনা, ইছামতি, হুরাসাগর নদীসহ বেড়া থানার নদীগুলো এখন মৌসুমী নদীতে পরিণত হয়ে পড়েছে। এসব নদী শুকিয়ে যাওয়ায় এবং অব্যাহত পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। কোন কোন নদী শুকিয়ে আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। পানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি নদীগুলো মৎস্যশূন্য হয়ে পড়েছে। প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য তিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা কেন্দ্রসমূহ দিন দিন গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। পদ্মা, যমুনা, হুরাসাগর, ইছামতি, আত্রাই, বাদাই, কাগেশ্বরী নদী আবহমানকাল ধরে এ অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবিকা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাব-পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীগুলো। নদীসমূহে বিপ্তিভাবে অসংখ্য চর, ডুবোচর জেগে উঠেছে। এসব চর, ডুবোচর নদীর গতিধারা ব্যাহত করছে। পাশাপাশি নৌ চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। আর নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে প্রভাব পড়ছে ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর। ডাকবাংলোর কাছে ইছামতি নদীর মুখ বন্ধ করে দেয়ার ফলে ঐতিহ্যবাহী বেড়া বন্দর আজ মৃত। এছাড়া যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে নগরবাড়ী ঘাট, আর বন্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর। পদ্মা আর যমুনা নদীর বুক জুড়ে চর, ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় কাজীরহাট-আরিচা, গোয়ালন্দ, সিরাজগঞ্জে চলাচলকারী শত শত নৌযানকে সতর্কতার সাথে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া আত্রাই বাদাই, কাগেশ্বরী নদীর অস্তিত্ব কোথাও কোথাও খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। নদীর বুক জুড়ে রোপন করা হয়েছে ধান।
অপরদিকে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন নদী শুকিয়ে অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। যমুনা, করতোয়া, বড়াল, ইছামতি নদীর বুক জুড়ে চলছে ফসলের আবাদ। নদীগুলিতে অসংখ্য চর জেগে উঠায় নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতের অভাবে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।বিয়াড়া চরের আয়নাল হক জানায়, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় তাদের নানাবিধ সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে যাতায়াতের েেত্র। কারণ পানি না থাকায় দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া রোগীদের েেত্র সমস্যা আরো বেশি। অনেক সময় রোগী পরিবহনে সমস্যার কারণে স্থানীয়ভাবে ঝাড়-ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। যে কারণে অনেক রোগীই মারা যায়। তাছাড়া বেশির ভাগ চরেই ওষুধের দোকান নেই, ডাক্তার তো দূরে থাক। ফলে চরবাসীর সমস্যার শেষ নেই। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই তিস্তা নদী শুকিয়ে গেছে। নদীর মধ্যে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ৪টি উপজেলার সাথে সরাসরি নৌচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নৌচলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হওয়ায় বাজারে পণ্যসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বেলকা, হরিপুর, জিগাবাড়ি ও চিলমারী ঘাট থেকে পানি সরে যাওয়ায় বিশাল চরের সৃষ্টি হয়েছে। পায়ে হেঁটে নদী পার হচ্ছে মানুষ। ঘাটের ইজারাদার জানায়, নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ছোট-বড় চরে নৌযান আটকা পড়ছে। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় জেলেরাও মাছ ধরতে পারছে না। এক সময়ের খরস্রোতা প্রমত্তা তিস্তার বুক জুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। নৌ-পথে বাণিজ্য প্রায় বন্ধ। একই অস্থা রাজশাহীর পবার এক সময়ের খরস্রোতা বারনই নদীর। যা এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সেচ কাজ ও নদীপথে ব্যবসা-বাণিজ্য।
রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে পবার এই বারনই নদীর ওপরেই নির্মিত হচ্ছে রাজশাহীর নওহাটা সেতু। নওহাটা সেতু ও বেইলি ব্রিজের নিচেই বর্তমানে পানিশূন্য। অথচ বারনই নদী দিয়েই এক সময় চলতো পাল তোলা নৌকা। জেলেরা সারা বছর নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। এই নদী একদিন বৃহত্তর রাজশাহীর জনপদকে করেছিল সমৃদ্ধ। নওহাটা ব্রিজের পাশেই নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছিল নদীবন্দর। বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীপথে নৌকাযোগে বিভিন্ন ধরনের মালামাল এসে জমা হতো নওহাটার নদীবন্দরে এবং সেখান থেকে এই মালামাল সরবরাহ হতো রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায়। অন্যদিকে নদীর দু’ধারে জমিতে কৃষকেরা সেচ দিয়ে ধান, আলু, রসুন পিঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করতো। এসব এখন শুধুই স্মৃতি। বর্তমানে বারনই নদীর সেই স্রোত নেই, নদী হারিয়েছে তার গতিপথ। পরিণত হয়েছে মরা খালে। হারিয়ে গেছে নওহাটা নদীবন্দরের অস্তিত্ব। নদী আজ নাব্যতা হারিয়ে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ৩/৪ মাস নদীর প্রকৃত রূপ দেখা গেলেও পরে ৭/৮ মাসই নদী থাকে প্রায় পানিশূন্য।
 চাটমোহর উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া বড়াল ও খরস্রোতা গুমানী নদীর ও একই করুন দশা।  শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই শুকিয়ে এখন মৃতপ্রায়। এককালে এই দু’টি নদীতে সওদাগরের পাল তোলা নৌকার আনাগোনা ছিল। ঘাটে ঘাটে ভিড় করতো মালবাহী বড় বড় নৌকা। কুমাররা ভরা মৌসুমে মাটির কলস, হাঁড়ি, পাতিল নিয়ে ঘাটে ঘাটে নোঙর ফেলতো। এখন বড়াল ও গুমানী নদী নানা স্থানে প্রশস্ততা হারিযে সরুখালে পরিণত হয়েছে। এককালের খরস্রোতা নদী দু’টির বুকে হচ্ছে ফসলের আবাদ। প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে নিচ্ছে দু’পাড়ের জায়গা। ভরা মৌসুমে যেমন নদীর দু’কূল প্লাবিত হয়ে ফসলের জমি তলিয়ে যায়, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি থাকে না। ফলে নদী পাড়ের কৃষক সেচ সংকটে পড়ে। পলি পড়ে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘকাল নদী দু’টির সংস্কার করা হয়নি। খনন কার্যের জন্য প্রকল্প নেয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। দু’টি নদী সংস্কার বা খনন করা হলে এলাকার ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।


†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267




0 comments:

Post a Comment