Friday, November 22, 2013

পিরোজপুরে মৎস্য বন্দর চরম নাব্যতা সংকট চরমে

পিরোজপুরে মৎস্য বন্দর চরম নাব্যতা সংকট চরমে
 ফোরকান আলী
বঙ্গোপসাগর উপকূলের নিকটবর্তী অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাড়েরহাট বন্দর নাব্যতা সংকটে নিপতিত হয়েছে। কঁচা নদীর তীরে অবস্থিত এই মৎস্য বন্দরটি তথা দণিাঞ্চলের প্রসিদ্ধ ব্যবসা কেন্দ্র পাড়েরহাটের দেিণ বিরাট চর পড়ায় এই নাব্যতা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ২৫ বছর আগে বিলুপ্ত এখানের লঞ্চঘাটটি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কর্তৃপীয় সিদ্ধান্তও এ সংকটের কারণে বাচ্চবায়িত হচ্ছে না। স্বাধীনতার পর পর পাড়েরহাটের বাদুরায় স্থানীয় মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের উদ্যোগে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। উপকূলের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন সংস্থা (বিএফডিসি) সরকারীভাবে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপন করলেও গুরুত্বপূর্ণ এ পাড়েরহাটে স্থানীয়রা বেসরকারীভাবে এ কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছে। মৎসজীবিরা একান্ত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এখানে আড়ৎ, বরফ কল, ডক ইয়ার্ড, ফোট তৈরীর মেশিন, লেদ মেশিন, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি রয়েছে মৎস্য শিকারের নানা উপকরণ, যথা- জাল, দড়ি, বড়শি, ফোট, নোঙ্গর এবং নৌ-যানের জ্বালানী, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশসহ জেলেদের নানা রসদ বিক্রির ছোট-বড় অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ১৮৫৯ সালে পিরোজপুর মহাকুমা প্রতিষ্ঠার আগে পাড়েরহাটের অদূরে টগড়ায় একটি জল থানা ছিল। যার উত্তরসূরী হিসেবে পাড়েরহাটে রয়েছে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি এবং এর সুদৃশ্য একটি দ্বিতল ভবন। যুগ যুগ ধরে পাড়েরহাট দক্ষিণাঞ্চলের প্রধানতম ব্যণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিগনিত। সময়ের প্রয়োজনে একদা এ পাড়েরহাটে স্টিমার ঘাটও ছিল এবং এখনও সেখানে বিআইডব্লিউটিসি’র ৫৩ শতাংশ জায়গা রয়েছে। পাড়েরহাট রাজলক্ষী হাই স্কুলের পূর্ব পাশে এ জমির অবস্থান যা বর্তমানে প্রবাহিত কচা নদীর তীর থেকে এক কিলোমিটারের বেশী দূরত্বে এবং পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ব্রিটিশ আমলের আইজিএন-আরএসএন কোম্পানী নির্মিত স্টিমার ঘাট ও অফিস ভবনের ভগ্নাবশেষ এ জায়গার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়। কচা নদীর চর সৃষ্টি হওয়ায় এ পাড়েরহাট স্টিমার ষ্টেশন এখন নদীর অপর পারে চরখালীতে স্থানান্তরিত হয়েছে। পাশাপাশি নদী থেকে উৎসারিত খালটি সরু হয়ে যাওয়ায় বিআইডব্লিউটিএ’র লঞ্চ পল্টুনটি ও বছর বিশেক আগে উঠে গেছে। এখন আর যাত্রী পরিবহনের জন্য কোন নৌযান ষ্টেশন পাড়েরহাটে নাই। কিন্তু বাণিজ্য কেন্দ্র ও মৎস্য বন্দরের প্রয়োজনে প্রতিদিন বহু ফিশিং বোট, কার্গো, মিনি কার্গো ও অন্যান্য ছোট নৌ-যান পাড়েরহাটে আসা-যাওয়া করে। নৌ-টহল ফাঁড়ি থাকায় রাত-বিরাতে নৌ-যানে চেপে পুলিশকে অভিযানে বেরোতে হয়। পাশাপাশি পিরোজপুর জেলা শহর থেকে সড়ক পথের সামান্তরাল যে ভারানি খালটি প্রবাহিত সেটিও একই নৌ-পথ। মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, কাঠালিয়া, বামনা, পাথরঘাটা, শরণখোলা, জিয়ানগর প্রভৃতি অঞ্চল থেকে এই নৌ-পথ ব্যবহার করে বিকল্প রুটে জেলা সদরে আসা যাওয়া করা হয়। একদা এসব এলাকা থেকে ঐতিহ্যবাহী গয়না, বজরা, পানশীতে চড়ে নানা কাজে মহাকুমা সদরে এখাল দিয়ে আসতে হত। নানা কারণে গুরুত্ববহ এবং এই নৌ চলাচলের একমাত্র ভরসা কচা নদী থেকে উৎসারিত খালটি চরের কারণে দু’পাশে ভরাট ও সরু হয়ে গেছে। উমেদপুর ও চিথলিয়ায় মৌজায় বিরাট চর পড়ে নদীর উত্তর পারে উত্থিত নতুন ভূমিতে বনায়ন, ভেরিবাধ নির্মাণ, চাষাবাদ এবং ডকইয়ার্ড ও ঘরবাড়ী নির্মাণ করে পাড়েরহাটের নাব্যতা সংকটকে স্থায়ী রূপ দেয়া হচ্ছে। নদী থেকে বন্দরে ঢোকার খালটির মোহনা ক্রমাগত পলি পড়ে যেমন সরু হয়ে গেছে তেমনি সৃষ্টি হয়েছে ডুবো চরের। নদী এবং খালের এ সঙ্গম স্থলে বিশেষতঃ ভাটির সময় নৌ-যান সমূহ ডুবো চরে আটকেও যায়। রাতে সাগর থেকে মাছ নিয়ে আসা ট্রলার বা ফিশিং বোটের েেত্র প্রায়শই এ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর ও বাণিজ্য কেন্দ্রের অচ্চিত্বের সাথে সম্পৃক্ত উক্ত খালটিসহ মোহনা এলাকা ড্রেজিং করা প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা জোর দাবী জানিয়েছেন। প্রায় ২৪ বছর আগে উঠে যাওয়া বিআইডব্লিউটিএ’র লঞ্চ ঘাট পুর্নৃাপনে তিন বছর আগে কর্তৃপীয় সিদ্ধান্ত এবং পল্টুন বরাদ্দ হয়েছিল। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, শত চেষ্টার পর এ লঞ্চঘাট পুনর্স্থাপনকে কার্যকর করতে উক্ত খাল ও মোহনায় ড্রেজিং অপরিহার্য।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267



0 comments:

Post a Comment