শিল্পোন্নয়নে নারীর ভূমিকা
ড.ফোরকান আলী
ষাটের দশক থেকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রত্যয়টি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়ে আসছে। বলা হয়ে থাকে, উন্নয়ন জনগণের জন্য ও জনগণের দ্বারা। জনগণ নিজেদের সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে নিজেদের যেমন উন্নয়ন ঘটাতে পারে, তেমনি জাতীয় উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারে। আর এর মাধ্যমে আমরা অর্জন করতে পারি স্বনির্ভরতা। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাদের উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রেখে কাক্সিত টেকসই উন্নয়ন আদৌ সম্ভব নয়। শিল্পোন্নয়নে নারীসমাজকে সম্পৃক্ত করা হলো এমন একটি বিষয়, যেখানে নারীসমাজ তাদের মেধা, দতা, প্রজ্ঞা ও আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পোন্নয়নে নিজেদের নিয়োজিত করবে। সম্পৃক্তকরণ বলতে অনেক সময় শুধু অংশগ্রহণকে বোঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু এখানে সম্পৃক্তকরণকে শুধু অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না; বরং অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের মেধা ও দতার প্রয়োগ করে কিছু অর্জন করাই মুখ্য বিষয়। যার অর্থ বিদ্যমান বিষয়ে উন্নয়ন, উৎপাদন, অগ্রগতি কিংবা প্রগতি। নারীসমাজ শিল্পোন্নয়নে নিজেদের ব্যবহার করার মাধ্যমে এ খাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেথএ কথা বহু গবেষণার মাধ্যমেও প্রমাণিত হয়েছে।
দেশকে, দেশের অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে কৃষির পাশাপাশি শিল্প উন্নয়নের ওপর বেশি মাত্রায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গত দুই দশকে শিা ও স্বাস্থ্য েেত্র নারীসমাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে। এমনকি কর্মসংস্থানের েেত্রও নারীর পদচারণে সন্তোষজনক। কিন্তু উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি শিল্পের েেত্র নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এমনকি নারীভিত্তিক শিল্প-কলকারখানা এবং তাতে নারীদের সম্পৃক্তকরণের মাত্রাও কম লণীয়। অথচ নারীসমাজকে এ খাতে সম্পৃক্ত করতে পারলে একদিকে যেমন তাদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় আনা সম্ভব হবে, তেমনি জাতীয় আয়, জাতীয় প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসকরণেও এ উদ্যোগ সফল হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এ কথা সর্বজনস্বীকৃত যে আজ পর্যন্ত আমরা স্বনির্ভর জাতি হিসেবে নিজেদের দাবি করতে পারছি না। এখনো আমাদের দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। দেশের উন্নয়ন বাজেটের এক উল্লেখযোগ্য অংশ দাতা দেশ ও দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে। এ থেকে উত্তরণের অনেক পন্থার মধ্যে একটি হলো নারী শিল্পোদ্যোক্তা বৃদ্ধি এবং শিল্পে নারীদের সম্পৃক্তকরণ, যা স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়ক হবে।
নারীসমাজের সম্পৃক্তকরণের পথে প্রধান বাধা হলো আমাদের প্রচলিত ধ্যান-ধারণা ও বিদ্যমান সমাজ কাঠামো। প্রচলিত ধ্যান-ধারণা কিছুটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক আর সমাজ কাঠামো বৃহৎ সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রচলিত ধ্যান-ধারণার মধ্যে একটি হলো বাবুগিরি পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করা। নারীদের কথা বাদই দিলাম, পুরুষসমাজও আনুষ্ঠানিক বিদ্যা গ্রহণ করার পর চাকরিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে বেশি আগ্রহী। প্রচলিত ধারণা, চাকরি করলে সম্মান বেশি পাওয়া যাবে। শিতি মেয়েদের েেত্র শিল্প স্থাপন কিংবা সেখানে কাজ করা নিতান্তই অসম্মান মনে হতে পারে। আমাদের নিজেদের এ ধরনের ধ্যান-ধারণা থাকাটা মূলত শিল্প-কারখানায় নারীদের সম্পৃক্তকরণে একটি বড় অন্তরায়। যদিও আমাদের দেশের এক বিশাল নারীসমাজ গার্মেন্ট সেক্টরে কাজ করছে; কিন্তু শিল্প স্থাপন কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে নারীকে কম দেখা যাচ্ছে। শিল্পে নারীদের কাজকে আমাদের সমাজব্যবস্থা ভালো দৃষ্টিতে দেখে না। নারীদের শিা গ্রহণের অন্যতম উদ্দেশ্য থাকে সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা। নারী নিজে কিংবা সমাজব্যবস্থাও শিল্পে তাদের সম্পৃক্তকরণকে মর্যাদাহানিকর হিসেবে মনে করতে পারে। কেননা সম্পৃক্তকরণ অর্থ শুধু অংশগ্রহণ নয়। প্রয়োজনে নারীকে দৈহিক শ্রমও প্রদান করতে হয়। বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। আমাদের সমাজব্যবস্থা নারীদের যে দৃষ্টিতে দেখতে চায়, সেই দৃষ্টিভঙ্গি শিল্পোন্নয়নে নারীসমাজের সম্পৃক্তকরণের েেত্র একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সমস্যাও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। এ নিয়ে দ্বিমুখী বক্তব্য পাওয়া যায়। নারী উদ্যোক্তাদের বক্তব্য হলো, তাঁরা ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পান না এবং পেলেও তাঁদের বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হতে হয়। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো বলছে, তারা আগ্রহী নারী উদ্যোক্তাদের পাচ্ছে না বিধায় ঋণ দিতে পারে না। তা যাই হোক, এ েেত্র যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা যেমন সত্য তেমনি এ প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলার জন্য উদ্যোগের েেত্রও যথেষ্ট সমস্যা রয়েছে। রাষ্ট্র কর্তৃক নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহী করার জন্য নেই কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি। যদিও পিআরএসপিতে নারীদের দারিদ্র্য হ্রাসকরণের কথা উল্লেখ আছে; কিন্তু এ েেত্র কর্মকৌশলগুলো অস্বচ্ছ হিসেবে সবার কাছে বিবেচ্য, যার জন্য নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা ক্রমান¦য়ে বাড়ছে না।
বিশ্বের সব দেশই চায় স্বনির্ভরতা অর্জন করতে। দেশ হিসেবে বাংলাদেশও চায়। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করেছি, আমরা কর্মঠ জাতি। আমাদের মেধা ও শ্রম সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আমরা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারলে আমাদের স্বনির্ভরতা মিলবে। আর সেই মেধা ও শ্রম বেশি মাত্রায় শিল্পে নিয়োগ করতে হবে। সম্পৃক্ত করতে হবে দেশের প্রায় অর্ধেক নারীসমাজকে। এ জন্য অনেক করণীয় রয়েছে। প্রথমত, নারীসমাজকে মন ও মানসিকতায় নিজেদের শিল্পে অংশগ্রহণের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। এদের মধ্যে কাউকে কাউকে উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করতে হবে। আর পুরুষকে সহায়তার ভূমিকা পালন করতে হবে। দিতে হবে নারীদের সাহস ও উৎসাহ। নারীদের সাফল্যে নিজেদের গর্বিত হতে হবে। অবশ্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় এমনটা ভাবা খুব স্বাভাবিক নয়। নারীদের মনে করতে হবে, পুরুষরা যে কাজ করতে পারে, নারীও চেষ্টা করলে তা পারবে। নিজেদের খাটো করে দেখলে চলবে না। দ্বিতীয়ত, সমাজব্যবস্থার সহায়তা নারীদের শুধু উৎসাহই করবে না, সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার েেত্র একটি বড় ভূমিকা পালন করবে। নারীদের নারী হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। তৃতীয়ত, প্রয়োজন আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা। সরকারি-বেসরকারিসহ সমাজের বিত্তবানদের আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বিশাল নারী জনগোষ্ঠী যখন শিল্পের মাধ্যমে উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে পারবে তখন জাতীয় আয়ের ওপর তার একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের অর্থনৈতিক চাকা হবে শক্তিশালী, গতিশীল ও সচ্ছল। মাথাপিছু আয় পাবে বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি আমরা স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকে এগিয়ে যাব।
ড.ফোরকান আলী
ষাটের দশক থেকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রত্যয়টি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়ে আসছে। বলা হয়ে থাকে, উন্নয়ন জনগণের জন্য ও জনগণের দ্বারা। জনগণ নিজেদের সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে নিজেদের যেমন উন্নয়ন ঘটাতে পারে, তেমনি জাতীয় উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারে। আর এর মাধ্যমে আমরা অর্জন করতে পারি স্বনির্ভরতা। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাদের উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রেখে কাক্সিত টেকসই উন্নয়ন আদৌ সম্ভব নয়। শিল্পোন্নয়নে নারীসমাজকে সম্পৃক্ত করা হলো এমন একটি বিষয়, যেখানে নারীসমাজ তাদের মেধা, দতা, প্রজ্ঞা ও আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পোন্নয়নে নিজেদের নিয়োজিত করবে। সম্পৃক্তকরণ বলতে অনেক সময় শুধু অংশগ্রহণকে বোঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু এখানে সম্পৃক্তকরণকে শুধু অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না; বরং অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের মেধা ও দতার প্রয়োগ করে কিছু অর্জন করাই মুখ্য বিষয়। যার অর্থ বিদ্যমান বিষয়ে উন্নয়ন, উৎপাদন, অগ্রগতি কিংবা প্রগতি। নারীসমাজ শিল্পোন্নয়নে নিজেদের ব্যবহার করার মাধ্যমে এ খাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেথএ কথা বহু গবেষণার মাধ্যমেও প্রমাণিত হয়েছে।
দেশকে, দেশের অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে কৃষির পাশাপাশি শিল্প উন্নয়নের ওপর বেশি মাত্রায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গত দুই দশকে শিা ও স্বাস্থ্য েেত্র নারীসমাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে। এমনকি কর্মসংস্থানের েেত্রও নারীর পদচারণে সন্তোষজনক। কিন্তু উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি শিল্পের েেত্র নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এমনকি নারীভিত্তিক শিল্প-কলকারখানা এবং তাতে নারীদের সম্পৃক্তকরণের মাত্রাও কম লণীয়। অথচ নারীসমাজকে এ খাতে সম্পৃক্ত করতে পারলে একদিকে যেমন তাদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় আনা সম্ভব হবে, তেমনি জাতীয় আয়, জাতীয় প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসকরণেও এ উদ্যোগ সফল হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এ কথা সর্বজনস্বীকৃত যে আজ পর্যন্ত আমরা স্বনির্ভর জাতি হিসেবে নিজেদের দাবি করতে পারছি না। এখনো আমাদের দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। দেশের উন্নয়ন বাজেটের এক উল্লেখযোগ্য অংশ দাতা দেশ ও দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে। এ থেকে উত্তরণের অনেক পন্থার মধ্যে একটি হলো নারী শিল্পোদ্যোক্তা বৃদ্ধি এবং শিল্পে নারীদের সম্পৃক্তকরণ, যা স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়ক হবে।
নারীসমাজের সম্পৃক্তকরণের পথে প্রধান বাধা হলো আমাদের প্রচলিত ধ্যান-ধারণা ও বিদ্যমান সমাজ কাঠামো। প্রচলিত ধ্যান-ধারণা কিছুটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক আর সমাজ কাঠামো বৃহৎ সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রচলিত ধ্যান-ধারণার মধ্যে একটি হলো বাবুগিরি পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করা। নারীদের কথা বাদই দিলাম, পুরুষসমাজও আনুষ্ঠানিক বিদ্যা গ্রহণ করার পর চাকরিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে বেশি আগ্রহী। প্রচলিত ধারণা, চাকরি করলে সম্মান বেশি পাওয়া যাবে। শিতি মেয়েদের েেত্র শিল্প স্থাপন কিংবা সেখানে কাজ করা নিতান্তই অসম্মান মনে হতে পারে। আমাদের নিজেদের এ ধরনের ধ্যান-ধারণা থাকাটা মূলত শিল্প-কারখানায় নারীদের সম্পৃক্তকরণে একটি বড় অন্তরায়। যদিও আমাদের দেশের এক বিশাল নারীসমাজ গার্মেন্ট সেক্টরে কাজ করছে; কিন্তু শিল্প স্থাপন কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে নারীকে কম দেখা যাচ্ছে। শিল্পে নারীদের কাজকে আমাদের সমাজব্যবস্থা ভালো দৃষ্টিতে দেখে না। নারীদের শিা গ্রহণের অন্যতম উদ্দেশ্য থাকে সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা। নারী নিজে কিংবা সমাজব্যবস্থাও শিল্পে তাদের সম্পৃক্তকরণকে মর্যাদাহানিকর হিসেবে মনে করতে পারে। কেননা সম্পৃক্তকরণ অর্থ শুধু অংশগ্রহণ নয়। প্রয়োজনে নারীকে দৈহিক শ্রমও প্রদান করতে হয়। বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। আমাদের সমাজব্যবস্থা নারীদের যে দৃষ্টিতে দেখতে চায়, সেই দৃষ্টিভঙ্গি শিল্পোন্নয়নে নারীসমাজের সম্পৃক্তকরণের েেত্র একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সমস্যাও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। এ নিয়ে দ্বিমুখী বক্তব্য পাওয়া যায়। নারী উদ্যোক্তাদের বক্তব্য হলো, তাঁরা ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পান না এবং পেলেও তাঁদের বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হতে হয়। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো বলছে, তারা আগ্রহী নারী উদ্যোক্তাদের পাচ্ছে না বিধায় ঋণ দিতে পারে না। তা যাই হোক, এ েেত্র যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা যেমন সত্য তেমনি এ প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলার জন্য উদ্যোগের েেত্রও যথেষ্ট সমস্যা রয়েছে। রাষ্ট্র কর্তৃক নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহী করার জন্য নেই কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি। যদিও পিআরএসপিতে নারীদের দারিদ্র্য হ্রাসকরণের কথা উল্লেখ আছে; কিন্তু এ েেত্র কর্মকৌশলগুলো অস্বচ্ছ হিসেবে সবার কাছে বিবেচ্য, যার জন্য নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা ক্রমান¦য়ে বাড়ছে না।
বিশ্বের সব দেশই চায় স্বনির্ভরতা অর্জন করতে। দেশ হিসেবে বাংলাদেশও চায়। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করেছি, আমরা কর্মঠ জাতি। আমাদের মেধা ও শ্রম সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আমরা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারলে আমাদের স্বনির্ভরতা মিলবে। আর সেই মেধা ও শ্রম বেশি মাত্রায় শিল্পে নিয়োগ করতে হবে। সম্পৃক্ত করতে হবে দেশের প্রায় অর্ধেক নারীসমাজকে। এ জন্য অনেক করণীয় রয়েছে। প্রথমত, নারীসমাজকে মন ও মানসিকতায় নিজেদের শিল্পে অংশগ্রহণের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। এদের মধ্যে কাউকে কাউকে উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করতে হবে। আর পুরুষকে সহায়তার ভূমিকা পালন করতে হবে। দিতে হবে নারীদের সাহস ও উৎসাহ। নারীদের সাফল্যে নিজেদের গর্বিত হতে হবে। অবশ্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় এমনটা ভাবা খুব স্বাভাবিক নয়। নারীদের মনে করতে হবে, পুরুষরা যে কাজ করতে পারে, নারীও চেষ্টা করলে তা পারবে। নিজেদের খাটো করে দেখলে চলবে না। দ্বিতীয়ত, সমাজব্যবস্থার সহায়তা নারীদের শুধু উৎসাহই করবে না, সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার েেত্র একটি বড় ভূমিকা পালন করবে। নারীদের নারী হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। তৃতীয়ত, প্রয়োজন আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা। সরকারি-বেসরকারিসহ সমাজের বিত্তবানদের আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বিশাল নারী জনগোষ্ঠী যখন শিল্পের মাধ্যমে উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে পারবে তখন জাতীয় আয়ের ওপর তার একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের অর্থনৈতিক চাকা হবে শক্তিশালী, গতিশীল ও সচ্ছল। মাথাপিছু আয় পাবে বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি আমরা স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকে এগিয়ে যাব।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment