Saturday, April 21, 2018

স্মরণ: ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল

স্মরণ:  ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল
আলী ফোরকান
জš§ : ১৮২০ সালের ১২ মে 
মৃত্যু: ১৯১০ সালের ১৩ আগস্ট
মানব সভ্যতার দুটি চাকা একটি নারী, অন্যটি পুরুষ। সভ্যতার নানা উত্থান, অর্জন এসেছে নারীর হাত ধরে। শিল্প-সাহিত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান সর্বত্রই নারীর সফল পদচারণা। মানবসেবা ও আবিষ্কারে নারী বরাবরই ইতিহাসে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইতিহাস কাঁপানো বহু নারী খুব সাধারণ অবস্থান থেকে উঠে এসেছেন ইতিহাসের পাতায়। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তারা দেখিয়েছেন একান্ত প্রচেষ্টা থাকলে জয় নিশ্চিত। ইতিহাস কাঁপানো তেমনই এক নারী ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল।
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলকে বলা হয় আধুনিক নার্সিং সেবার অগ্রদূত। তিনি একই সঙ্গে একজন লেখিকা এবং একজন পরিসংখ্যানবিদ। তাকে আধুনিক নার্সিংয়ের জননীও বলা হয়। দ্য লেডি ইউথ দ্য ল্যাম্প নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন। বাবা উইলিয়াম এডওয়ার্ড নাইটিঙ্গেল এবং মা ফ্রান্সিস নাইটিঙ্গেলের অভিজাত পরিবারে ১৮২০ সালের ১২ মে জš§গ্রহণ করেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। ছোটবেলা কেটেছে ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ায়। তিনি ১৮৫৩ সাল থেকে ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত লন্ডনের ‘কেয়ার অব সিক জেন্টলওমেন ইনস্টিটিউট’এর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেন। ১৮৫৫ সালে তিনি নার্স প্রশিক্ষণের জন্য তহবিল সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। নিরলস প্রচেষ্টায় ১৮৫৯ সালে তিনি নাইটিঙ্গেল ফান্ডের জন্য সংগ্রহ করেন প্রায় ৪৫ হাজার পাউন্ড। পরবর্তী সময়ে তিনি ভারতবর্ষের গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর গবেষণা চালান। যা ভারতবর্ষে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবদান রাখে। ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নেও তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৮৫৯ সালে তিনি ‘রয়্যাল স্ট্যাটিসটিক্যাল সোসাইটির’ প্রথম সারির সদস্য নির্বাচিত হন। লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে নার্সিংকে সম্পূর্ণ পেশারূপে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ১৮৬০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাইটিঙ্গেল ট্রেনিং স্কুল’ যার বর্তমান নাম ‘ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল স্কুল অব নার্সিং’। ডা. এলিজাবেথ ব্ল্যাকওয়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ১৮৬৭ সালে নিউইয়র্কে চালু করেন ‘উইমেন্স মেডিকেল কলেজ’। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় নার্সিংয়ের ওপর বইও লিখেছেন। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় নার্সিংয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তিনি। রাতের আঁধারে আহত সৈন্যদের সেবা করার জন্য ‘দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ নামে ডাকা হয় তাকে। গণিতেও ছিলেন পারদর্শী। তিনিই প্রথম পরিসংখ্যানগত তথ্য উপস্থাপনের জন্য ডায়াগ্রামের ব্যবহার করেন। তিনি অসংখ্য পদক আর উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। ১৮৮৩ সালে রানী ভিক্টোরিয়া তাকে ‘রয়েল রেডক্রস’ পদক প্রদান করেন। প্রথম নারী হিসেবে ‘অর্ডার অব মেরিট’ খেতাব লাভ করেন ১৯০৭ সালে। ১৯০৮ সালে লাভ করেন লন্ডন নগরীর ‘অনারারি ফ্রিডম’ উপাধি। এছাড়াও ১৯৭৪ সাল থেকে তার জš§দিন ১২ মে পালিত হয়ে আসছে ‘ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে’। যার মাধ্যমে সম্মান জানানো হয় এক নারীকে যিনি তার কর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছেন- নার্সিং একটি পেশা নয় সেবা। ১৯১০ সালের ১৩ আগস্ট ৯০ বছর বয়সে লন্ডনে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল।

0 comments:

Post a Comment