শিÿায় রাজনৈতিক হ¯Íÿেপ কাম্য নয়
আলী ফোরকান
বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়েও প্রেসিডেন্সির পঠনপাঠন রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত হতে পারবে কিনা, তা নিয়ে জ্ঞানীÐগুণী ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কেমব্রিজের উপাচার্য শুক্রবার কলকাতায় এসে নির্দ্বিধায় জানিয়ে দিলেন, উচ্চমানের শিÿা প্রতিষ্ঠান গড়তে গেলে রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রাখতেই হবে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অ্যালিসন রিচার্ড এ দিন কলকাতায় এসে স্পষ্টই বললেন, “সরকারি অনুদান ছাড়া উচ্চমানের শিÿা প্রতিষ্ঠান সম্ভব নয়। কিন্তু তার জন্য সেখানে রাজনৈতিক হ¯Íÿেপ কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়বদ্ধতা সমাজের প্রতি, রাজনীতির প্রতি নয়।” খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
শিÿা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নতুন নয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিÐনির্ধারক কমিটি সিনেটের সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে প্রায় সাধারণ নির্বাচনের চেহারা দিয়েছিলেন প্রয়াত সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাস। সিনেটের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে শিÿকদের পাশাপাশি স্নাতক, অশিÿক, রাজ-নৈতিক ব্যক্তিরাও উপাচার্য নিয়োগ থেকে শুরু করে যাবতীয় নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকনে। যার দরুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে পড়ে রাজনীতি ও দলতন্ত্রের দাপট। রাজ্যের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও চিত্রটা একই রকম। রাজ্য সরকার সম্প্রতি প্রেসিডেন্সি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেজন্য যে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় বিল তৈরি হয়েছে, তাতেও রাজনৈতিক হ¯Íÿেপের ‘সুবন্দোব¯Í’ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে শিÿাজগতেই।
শুক্রবার কলকাতায় বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন কেমব্রিজের উপাচার্য। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় তিনি বলেন, “অনেকেই কেমব্রিজকে পুরোপুরি বেসরকারি উদ্যোগে চালানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। সরকারি সাহায্যের প্রায়োজন আছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। তবে সেই দায়বদ্ধতা সমাজের প্রতি, করদাতাদের প্রতি। শিÿা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হ¯Íÿেপ মোটেই কাম্য নয়।” ২০০৩ সালে ৩৪৪ তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরে এই নিয়ে তৃতীয়বার ভারতে এলেন অ্যালিসন। ভারতের সঙ্গে আদান-প্রদান বাড়ানোর পাশাপাশি এ দেশের বিভিন্ন শিÿা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কোন কোন ÿেত্রে কেমব্রিজের যোগাযোগ গড়ে উঠতে পারে, সেটা জরিপ করাই তাঁর এই সফরের উদ্দেশ্য বলে জানান অ্যালিসন। এবারের সফরে দিলিøতে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী কপিল সিব্বলের সঙ্গেও দেখা করবেন তিনি। তবে ভারতে এই মুহ‚র্তে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা খোলার কোন পরিকল্পনা তাঁদের নেই বলে জানিয়েছেন অ্যালিসন।
0 comments:
Post a Comment