ভারত পানি প্রত্যাহারে-হুমকির মুখে বাংলাদেশ
আলী ফোরকান
ভারত উজানের পানি প্রত্যাহারে বাংলাদেশ মরুভুমিতে পরিণত হচ্ছে। শুকিয়ে যাচ্ছে দেশের নদ-নদী,খাল,বিল, হাওর ও জলাশয়। হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের নদ-নদীর নাব্যতা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিউবওয়েলে যথারিতী পানি উঠছেনা। বিনষ্ট হচ্ছে কৃষি, জীব বৈচিত্র ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য। দ্রুত পরিবতির্ত হচ্ছে আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি। দ্রুত গতিতে মরুকরণের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পানি উন্নয়ন বোর্ড,পরিবেশবাদী সংগঠন ও পানি বিশেজ্ঞরা জানায়, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা,ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, মহনন্দার মতো নদ-নদীতে পানির প্রবাহ নিম্নস্তরে নেমে আসায় নদী গুলো শুকিয়ে গেছে। মরুকরণ পক্রিয়া ভয়ঙ্কর গতিতে এগিয়ে চলায় দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিঘœ পরিবেশবিদরা। বিশেষজ্ঞরা আরো জানায়, পানি না থাকলে কৃষি থাকবেনা। পানির স্তর নিচে নেমে গেলে দেশ মরুভুমিতে পরিণত হবে। মানুষ খাবার পাবেনা।
পশু-পাখি,জীবজন্তু মরতে শুরু করবে। দেশের পোল্ট্রি ও ফিশারিজ নষ্ট হয়ে যাবে। সামগ্রিকভাবে দেশের জীববৈচিত্র হুমকির মধ্যে পড়বে।
বাঁধ দিয়ে নদী হত্যা: নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহে বাধা দিয়ে এদেশের নদী গুলোকে দিনে দিনে হত্যা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ভেদকারি ৫৭ টি নদীর মধ্যে ভারত ৫৪ টি নদীতেই বাঁধ দিয়ে পানি একতরফাভাবে নিজের দিকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। যেকারণে শুকনো ও বর্ষা উভয় মৌসুমে এদেশকে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহে জন্ম নিয়ে ২২৪০ কিলোমিটার বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে চাপাইনবাবগঞ্জে প্রবেশ করা পদ্মানদীর উপর ১৯৬১-৭৪ সাল সময়ে বাঁধ নির্মাণ করে। এ বাঁধ নিমার্ণ করে ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করায় দেশে মরুকরণ প্রক্রিয়ার সুত্রপাত ঘটে। অবশেষে ১৯৯৬ সালে ভারত ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তিতে সই করে। কিন্তু গঙ্গায় পানি প্রবাহ হ্রাসের অজুহাত দেখিয়ে ভারত বাংলাদেশকে চুক্তি অনুযায়ী পানি দিচ্ছে না। গত ৪৮ বছরে (১৯৪৯-৯৭) এপ্রিল মাসে ফাঁরাক্কা পয়েন্টে গড় পানির প্রবাহ ৬০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে যায়নি। অথছ সর্বশেষ ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ইন্ডিকেটিভ সিডিউল অনুযায়ী চলতি বছরের ১২০ দিনে (১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত প্রায় ৫৯ হাজার কিউসেক পানি কম পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রাপ্য হিস্যা অনুযায়ী দিন দিন পানি প্রবাহ কমেই যাচ্ছে। যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি)-এর তথ্য মতে, ত্রিশ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তির ইন্ডিকেটিভ সিডিউল অনুযায়ী চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পানি পাওয়ার কথা ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫২ কিউসেক। কিন্তু সেখানে পাওয়া গেছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭ কিউসেক পানি। জেআরসির তথ্য থেকে জানা যায়, চুক্তির ইন্ডিকেটিভ সিডিউল অনুযায়ী জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনে ৬৭ হাজার ৫১৬ কিউসেক পানি পাওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে ৫৬ হাজার ৪১৪ কিউসেক। জানুয়ারির দ্বিতীয় ১০ দিনে ৫৭ হাজার ৬৭৩ কিউসেক পানি পাওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে ৫০ হাজার ৬৫৪ কিউসেক। জানুয়ারির শেষ ১০ দিনে ৫০ হাজার ১৫৪ কিউসেক পানি পাওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে ৪৬ হাজার ৯৭৪ কিউসেক। ফেব্রæয়ারির প্রথম ১০ দিনে ৪৬ হাজার ৩২৩ কিউসেক পানি বিপরীতে পাওয়া গেছে ৪১ হাজার ৬৫০ কিউসেক। ফেব্র“য়ারির দ্বিতীয় ১০ দিনে ৪২ হাজার ৮৫৯ কিউসেকের পাওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে ৩৫ হাজার কিউসেক, ফেব্র“য়ারির শেষ ৮ দিনে ৩৯ হাজার ১০৬ কিউসেক পানি পাওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে ৩২ হাজার ৪২৯ কিউসেক। মার্চের প্রথম ১০ দিনে ৩৫ হাজার কিউসেকের বিপরীতে পাওয়া গেছে ৩০ হাজার ৬১৩ কিউসেক পানি। মার্চের দ্বিতীয় ১০ দিনে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা, তা পাওয়া গেলেও মার্চের শেষ ১১ দিনে ২৯ হাজার ৬৮৮ কিউসেক পানির বিপরীতে পাওয়া গেছে ২১ হাজার ১১৪ কিউসেক। এপ্রিলের প্রথম ১০ দিনে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা, তা পাওয়া গেলেও এপ্রিলের দ্বিতীয় ১০ দিনে ২৭ হাজার ৬৩৩ কিউসেক পানির বিপরীতে পাওয়া গেছে ১৯ হাজার ২১৯ কিউসেক পানি। এপ্রিলের শেষ ১০ দিনে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া গেছে। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ১০ মে পর্যন্ত এ নদীর পানি দু দেশের মধ্যে বণ্টন হয়ে থাকে। ফারাক্কা ছাড়াও উত্তর প্রদেশের তেহরি গাড়ওয়াল জেলায় গঙ্গার ওপর বাঁধ নির্মাণ করায় পানি প্রবাহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। তিন বছর আগে এ বাঁধ নির্মাণ শেষ করে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফারাক্কার পাশাপাশি তেহরি বাঁধের কবলে গঙ্গার উজানে ফারাক্কা পয়েন্টে পানি কমে যাচ্ছে। এ ছাড়াও ভাটিতে পানি প্রবাহ কমিয়ে দিতে ভারত উজানে ছোট বড় তিনশ ড্যাম ব্যারেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেছে।
বিশ্বের তাপ মাত্রা প্রত্যেক বছর ২/৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের সব স্থানের বরফ গলছে। হিমালয় তার বাইরে নয়, তাই গঙ্গার পানি প্রবাহ হ্রাসের প্রশ্নই ওঠেনা। নদী বিশেষজ্ঞদের মতে চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ, আরবিটেশন ক্লজ না থাকায় ভারত সুযোগমত এ আচরণ করছে। বাংলাদেশ পানি চুক্তির সময় নেপালকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছিল। কিন্তু ভারত কৌশলে এড়িয়ে যায়। নেপাল পানি চুক্তিতে অর্ন্তভুক্ত থাকলে নেপালে রির্জাভার নির্মাণ করা যেত, যা শুকনো মৌসুমে গঙ্গার পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে সহায়ক ছিল। এমনকি পানি বিদ্যুৎ তৈরিরও সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ভারত সে সময় এসব কথা শোনেও রাখেনি। ১৯৮৬ সালে ভারত তিস্তা-মহানন্দা নামে আরো একটি বাঁধ নির্মাণ করে। এবাঁধের কারণে বাংলাদেশের ১৪ টি নদী মৃত্যুর দিকে পতিত হয়। তিস্তা-মহানন্দা অববাহিকায় হাজার হাজার একর জমি আবাদ অযোগ্য হয়ে পড়ে। ২০০১ সালের মার্চ মাসে নদী কমিশনের বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে ভারত কৌশলে এড়িয়ে যায়। এমন বহু নদীতে বাঁধ দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে মরুভুমিতে পরিণত করছে। দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে বাংলাদেশকে ভারতের সাথে পানিবন্টন নিয়ে বাস্তব ভিত্তিক আলোচনা চালাতে হবে। নদীর পানি বন্টন নিয়ে বির্তক বিশ্বে বিরল নয়। নীল নদের পানি নিয়ে আফ্রিকার ১০ টি দেশের মধ্যে বিরোধ লেগেই আছে। রিওগ্রেনডে নদী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মেক্্িরকোর, জর্ডান নদী নিয়ে ৪টি আরব দেশের, মেকং নদী নিয়ে ৩ টি আসিয়ান দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিশ্বের ১৩ টি নদীর অংশীদার হল ১’শ টি দেশ। একারণে এসমস্যা টি বিশ্বে অস্বাভাবিক নয়। তাই ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ সভায় পাস হওয়া কনভেনশন মতে নদী ব্যবস্থাপনা অববাহিকা ভিত্তিক করলে নদীর পানি সমস্যা সমাধান হওয়ার কথা।
ভারতে ও বাঁধ নিয়ে বিরোধ :ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ মতে, “ফারাক্কা ব্যারাজ প্রকল্পের নাম ছিল ‘দ্য প্রজেক্ট ফর দ্য প্রির্জাভেশন অফ ক্যালকাটা’। ১০ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত দুমাস গঙ্গায় পানি আসে সবচেয়ে কম। এ সময় ফারাক্কা ব্যারেজ থেকে ফিডার ক্যানেলে কম পানি ছাড়া হলে তাৎক্ষনিক সমস্যায় পড়ে এনটি পিসি-র ফারাক্কা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। উৎপাদন ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ ঘাটতির আতঙ্কে প্রবল হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়। কিন্তু পানির অভাবে অত্যন্ত নি:শব্দে আরও অনেক বড় সর্বনাশ ঘটে চলেছে কলকাতা বন্দরের। পানি প্রবাহের অনিশ্চিত নদীতে পলি সঞ্চয় বাড়িয়ে দিয়ে নদীর নাব্যতাই নষ্ট করে দিচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘœ সাময়িক সমস্যা, কিন্তু নাব্যতার অভাবে কলকাতা বন্দরের সমস্যাটি দীর্ঘমেয়াদি। ভারতের বিশিষ্ট নদী বিশেষজ্ঞ ও কলকাতা বন্দরের সাবেক চিফ হাইড্রলিক ইঞ্জিনীয়ার তপোব্রত সান্যাল আনন্দবাজার কে দেয়া স্বাক্ষাতকারে জানায়, ফারাক্কার উপরে অনেক গুলি সেচ প্রকল্প নির্মাণের ফলে পানি প্রবাহ আগের চেয়ে ধারাবাহিক ভাবে কমে এসেছে। ফলে যে রাজ্য নদীর যত উপরে, সে ততই গঙ্গার পানি ব্যবহারের সুযোগ পায়। সবচেয়ে নীচে পশ্চিমবঙ্গ, নদীর উজানের পানি কমতে কমতে ফারাক্কা এসে যে পানি পৌছাঁয় তা পশ্চিমবঙ্গেরই চাহিদা মেটে না। ফলে শুকনো মৌসুমে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা আরো হ্রাস হয় ও পশ্চিমবঙ্গে পানি নিয়ে শুরু হয় হৈ চৈ”।
খরা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ভাটির দেশ: নদীর পানির কারণে সব সময় ভাটির দেশই দুদিক থেকে ক্ষতির শিকার হয়। শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে খরা, আবার বর্ষা মৌসুমে উজানের ছেড়ে দেয়া পানি ও বর্ষার পানিতে ভাটির দেশ বন্যার শিকার হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ কথার ব্যাপক বাস্তবায়ন দেখা যায়। পানির উজান চাপ বন্যার মূল কারণ না হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি বন্যার ভয়াবহতা বৃদ্ধি করে। এর প্রভাবে ১৯৮৮-৯৮ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে জলোচ্ছাসে মাঝে মধ্যে বন্যা দেখা যায়। এছাড়া মেঘনা দিয়ে বর্ষার ৯৬% পানি বঙ্গোপসাগরে পতিত হওয়ায় মেঘনার আশপাশে বন্যা দেখা দেয়। কিন্তু ২০০০ সালে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ৫-৬ টি জেলায় যে বন্যা সৃষ্টি হয়, তা ঘটে পশ্চিমবঙ্গের জলাধার ছেড়ে দেয়া ও বাঁধ কেটে দেয়ার কারণে। আচমকা ভারতের সৃষ্ট এবন্যায় দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উর্বর জমি ও চিংড়ি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ভারত বাঁধ কেটে দেয়া ও জলাধার ছেড়ে দেয়ার কথা পূর্বে বললেও এব্যাপক ক্ষতি এড়ানো যেত। সিলেট অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয় মূলত পাহাড়ী ঢলে। দেশের উত্তর দিকে হিমালয় হতে ৫০ লক্ষ কিউসেক বরফ গলা পানি প্রতি বছর ভারত নেপালের মধ্য দিয়ে এদেশের পদ্মা,মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। এসময় দেশে বৃষ্টিপাতের গড় থাকে প্রায় ২০৩ সেন্টিমিটার। ভারত ও এসময় সুবিধা মত বাঁধ খুলে দিয়ে থাকে। ফলে বৃষ্টির পানি, পাহাড়ী ঢল ও ভারতের পানিতে একাকার হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার কারণে প্রায় প্রতি বছর অবকাঠামাগত ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, ১৯৫৫-৯৮ পর্যন্ত এদেশে সংঘটিত ৪৪ টি বন্যায় ৭০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। বন্যায় পানি দুষিত হয়ে এ সময় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ মহামারি আকার নেয়।
নাব্যতা পুনরুদ্ধার : গঙ্গা অববাহিকায় উত্তর ভারত ও নেপালের বনাঞ্চল নষ্ট হয়ে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধুয়ে বিপুল পরিমাণ পলিমাটি নদীতে গিয়ে পড়ছে। আবার প্রতি বছর পাহাড়ী ঢল থেকে আসা প্রচুর পরিমাণ পলি নদীতে পড়ে নদীর নাব্যতা নষ্ট হারাচ্ছে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীতে প্রতি বছর ২’শ কোটি ৪০ লক্ষ টন পলি পড়ে। একারণে গত ১০ বছরে মোট নৌপথের ১৪’শ কিেিলামিটার নদীপথ নাব্যতা হারিয়েছে। অন্য এক রিপোর্টে মতে এ যাবৎ দেশের ২৪ ’শ কিলোমিটার নদীপথ পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। পলি পড়ে কুড়িগ্রাম থেকে রাজবাড়ী পর্যন্ত ৫ হাজার টি চর ও ডুবোচর পড়েছে। এছাড়া নগরবাড়ি,আরিচা, সিরাজগঞ্জ,ভুয়াপুর, তিস্তামুখ ও বাহাদুরাবাদ নদী পথে ১২’শ চর জেগেছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলার ৩০ টি নদী ইতিমধ্যে নাব্যতা হারিয়ে মৃত নদীতে পরিণত হয়েছে। নদীর নাব্যতা হারানোয় নৌ চলাচলে বিঘœ ঘটছে ও ফেরিঘাট বারবার বদলের কারণে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এক সমীক্ষায় দেখা যায়,এ দেশের নদীপথ দিয়ে ১৪ শতাংশ যাত্রী ও ৩০ শতাংশ মালামাল পরিবহন করা হত। যা বন্ধ হওয়ায় দেশ আজ অর্থনৈতিক ভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীতে পলি পড়ায় অনেক নদীর ওপর দিয়ে এখন হেঁটে চলা যায়। শুধু ২০০০ সালেই ১০ হাজার হেক্টর চাষযোগ্য জমি পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি আজ একারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই নদীর নাব্যতা উদ্ধার করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ২০ বছরের মধ্যে নদীর নাব্যতা উদ্ধারে ড্রেজিং না করা হলে সব নদী বিপদজনকভাবে নাব্যতা হারাবে। আর বাংলাদেশ খুব অল্প সময়ে মরুভুেিত পরিণত হবে। ধ্বংস হয়ে যাবে দেশের প্রাণীকূল। এজন্য এই ইস্যুকে অত্যাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আর বাংলাদেশকে বাঁচাতে সবাইকে এখনই সচেতন হতে হবে ও সরকারকে নিতে হবে বাস্তব পদক্ষেপ ।
0 comments:
Post a Comment