আইন-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা : সমস্যা ও করণীয়
আলী ফোরকান
আজকের দুনিয়ায় অন্ন-বস্ত্র ও বাসস্থানের মতো মানুষের জীবনে মৌলিক চাহিদা হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বিষয়গুলো সহজ সাধ্য নয়, বেশ কঠিন এবং জটিলও হয়ে উঠছে। রাষ্ট্র, সমাজ এবং ব্যক্তিজীবনে আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি কতোখানি বি¯Íৃত, প্রাসঙ্গিক এবং অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছে তা নতুন করে বলার অপেÿা রাখে না। একই সঙ্গে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা, আইন-শৃঙ্খলা সুষ্ঠু স্বাভাবিক রাখা, জীবনযাত্রা সচল রাখা প্রতিটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতার মধ্যে পড়ে। সে কারণে সরকারগুলো এসব ÿেত্রে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। বলা চলে বর্তমান বিশ্ব বা¯Íবতায় আইন-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিধান করতে রাষ্ট্রকে বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। যন্ত্র প্রযুক্তি, মেধার চর্চা ও লোকবল নিয়োগ করতে হচ্ছে। তারপরও উন্নত দুনিয়ার দেশগুলোতেও এ সমস্যাগুলো বেশ জটিল আকার ধারণ করে আছে। অবশ্য এক ধরনের সমাধান পাওয়া গেলেও সেসব দেশে নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটছে। মোদ্দাকথা, আইন শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার বিষয়গুলো প্রতিনিয়ত নতুনভাবে হাজির হচ্ছে, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, বিচার-বিশেøষণ, উদ্যোগ ও আয়োজনে এর সমাধানও দিতে হয়। এখানে সন্তুষ্টি, আত্মতুষ্টি বা স্থায়ী সমাধানের কোন অবকাশ নেই। ফলে বোঝাই যাচ্ছে বর্তমান বিশ্ববা¯Íবতায় সমস্যাগুলোর ধরন ধারণ, চরিত্রসহ নানা বিষয় বেশ দ্রæততার সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে, কোন কোন ÿেত্রে সমস্যা জটিল বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে। সামগ্রিক পরিবর্তনের প্রেÿিত, ধরন-ধারণ, অবস্থান ইত্যাদিকে যারা বুঝতে পারে, সেভাবে নিজেদেরকে প্রস্তুত করে তোলে তাদের কাছে সমস্যা মোকাবেলা, করণীয় নির্ধারণ একভাবে ধরা দেয়, যারা সেভাবে প্রস্তুত থাকে না, গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে নাÐতাদের অবস্থা কী হতে পারে বলাই বাহুল্য। আমরা এক সময় আইন-শৃঙ্খলার বিষয়গুলোকে শহরের মধ্যে গন্ডিবদ্ধ করে ভাবতে অভ্য¯Í ছিলাম, কিছু পুলিশ, থানা, দারোগার বিষয় বলে ভাবতাম, দেখতাম, সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনে শান্তি শৃঙ্খলা, আইন, নিরাপত্তার বিধানগুলো অবহেলিত বা উপেÿিত ছিল। বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এসবের আওতায় খুব বেশি আসতে পারেনি। বিশেষত গ্রামীণ জীবন এসব সুযোগ-সুবিধা ও অধিকারের মধ্যে খুব একটা আসেনি। তখন রাষ্ট্র ও সমাজজীবন অন্যভাবে অভ্য¯Í ছিল। চিরায়ত সামাজিক বিধি-বিধানে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ খুঁজে পেতো। কিন্তু এখন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়, স্বাধীনতা, আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ইত্যাদি বিষয়গুলো বি¯Íৃত হওয়ায় মানুষের ব্যক্তিজীবন দ্রæত পরিবর্তনের ধারায় যুক্ত হয়েছে, সর্বত্র চিন্তা-চেতনাসহ বিনির্মাণের ÿেত্রেও অভ‚তপূর্ব পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তিজীবন খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। পাশাপাশি নানান সম্ভাবনা ও সমস্যার বি¯Íার ঘটছে, জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, নিরসনের উদ্যোগ গৃহীত হচ্ছে। বলা চলে নিরন্তর পরিবর্তনের এই ধারায় আমাদের জীবন, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রেÿাপট এখন সমান্তরালভাবে চলছে। এ ধরনের অবস্থান থেকেই সব দেশে নিজ নিজ নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলার বিষয়গুলোকে দেখতে হবে, বিবেচনা করতে হবে। উপায় খুঁজতে হবে। আমাদের দেশে এক দিকে জনজীবনের চাহিদা, আকাঙÿা, সম্ভাবনা ইত্যাদি ÿেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে, অন্যদিকে নানা সমস্যারও উদ্ভব ঘটছে। স্বাধীনতার পর থেকে আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক ÿেত্রে নিঃসন্দেহে যথেষ্ট অগ্রগতি ঘটেছে। তবে এসব অগ্রগতি উন্নতিতে সমতা ও সাম্যের সমন্বয় ঘটানো সম্ভব হয়নি। ফলে সর্বÿেত্রেই বৈষম্যের বি¯Íার ঘটেছে। সমাধান ঘটেনি। একটি উন্নত দুনিয়ায় উন্নতির ÿেত্রে এসব অবস্থানে দূরত্ব ঘুচিয়ে আনা যতোখানি এখন সম্ভব আমাদের মতো পশ্চাৎপদ সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তা বেশ জটিল ও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে ব্যাপকসংখ্যক মানুষ শিÿা, চিকিৎসা, বাসস্থান, অন্ন-বস্ত্রের মতো মৌলিক চাহিদা থেকে কমবেশি বঞ্চিত হচ্ছে, তাদের জীবন জীবিকা, আচার-আচরণ, অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি এ ÿেত্রে সুষম হচ্ছে না, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে দারিদ্র্য, ÿুধা, বেকারত্ব, অশিÿা, কুশিÿা, জীবনমানের হাজার রকম প্রবণতা ও সমস্যা। দেশের ভেতরে এই সমস্যাগুলো যতো বৃদ্ধি পাচ্ছে, নিরসন না হচ্ছে ততো বেশি এগুলোর প্রত্যÿ ও পরোÿ প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নেই। দেশের আইন-শৃংখলা ও জননিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এসব সমস্যা দ্বারা আক্রান্ত হতে বাধ্য। আমরা প্রতিনিয়ত এসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি, একভাবে চলার চেষ্টা করছি। কিন্তু আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও বিশ্ববা¯Íবতার অবস্থান ও উপাদানসমূহকে গভীরভাবে বিবেচনায় নিয়ে তবেই এসব সমস্যার সমাধান আশা করা যেতে পারে।
দেশে নিঃসন্দেহে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রভৃতি খাতে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে, জনজীবনে এসবের প্রভাবও পড়ছে। আমাদের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীই শুধু নয়, এমনকি নিম্নবর্গের মানুষও এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অবস্থানেও আমাদের লÿ লÿ মানুষ পৃথিবীর দেশে দেশে কর্মসংস্থান করছে। তারপরও ব্যাপক দারিদ্র্য নিরসন হচ্ছে না, কর্মসংস্থান চাহিদা মতো হচ্ছে না, প্রচুর মানুষ বেকার জীবন-যাপন করছে। অশিÿা-কুশিÿার কারণে এ মানুষগুলো রুটি-রুজির চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। দÿ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারছে না। অথচ প্রতিযোগিতা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখীতার এই দিনে তাদেরও বেঁচে থাকতে হচ্ছে, অর্থের সংস্থান করতে হচ্ছে। কিন্তু বিপুল এই অদÿ, দরিদ্র, হতদরিদ্র, বেকার, অর্ধশিÿিত মানুষগুলোর স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, মোটেও সহজ ব্যাপার নয়। এই মানুষগুলো নানা কারণেই ভাগ্যবিড়ম্বিত ও প্রতারিত হয়ে মানবেতর জীবন বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। সবাই এসবকে ভাগ্যের বিষয় বলে চুপ করে বসেও থাকে না। চুরি, ডাকাতি, খুন, ছিনতাই, প্রতারণা, অজ্ঞানপার্টি, মলম পার্টিসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে অনেকেই। অনেকসময় পরিবেশও অনেককে এসব অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হতে ভ‚মিকা রাখছে। ফলে সমাজে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা, স্বাভাবিক চলাফেরা, কাজকর্ম, বসবাস সবকিছুই এক ধরনের হুমকির সম্মুখীন থাকে, ÿতিগ্র¯Í হয়। বলতে দ্বিধা নেই, আমাদের উদীয়মান ও দ্রæত বিকাশমান শহর, উপ-শহর, নগরজীবন এখন বৈষম্যের শিকার নানা শ্রেণী পেশা-অপেশার মানুষে ভরে উঠছে, অথচ পরিকল্পিত নগর, শহর, উপশহর বলতে যা বোঝায়, নগরায়ন, কর্মসংস্থান ও জীবন ব্যবস্থা বলতে যা বোঝায়, তা এগুলোতে গড়ে তোলা যায়নি , হয়নি, হচ্ছে না। ফলে এখানকার জীবন ব্যবস্থায় আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা প্রকটতর হচ্ছে, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট, কারসাজি, লম্পট চরিত্রের শ্রেণী-পেশার বি¯Íর প্রসার ও প্রভাব নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে যচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ÿেত্রে বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জীবন-জীবিকা, নিয়ম-শৃঙ্খলার ব্যাপক চাপে আছে বা পড়ছে। এসবকে সামাল দেওয়ার ÿমতা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এখনো পর্যন্ত নেই। যে পুলিশ বাহিনী ব্রিটিশ আমলে গড়ে উঠেছে তা এখনো যুগোপযোগী মানে, আইনে বা লজিস্টিক সাপোর্টে উন্নীত করা যায়নি। আমরা বলতে গেলে পুলিশ বাহিনীকে দীর্ঘদিন অবহেলাই করে এসেছি। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বোধ সব মহলেই জেগে উঠেছে-তা হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে আইন-শৃঙ্খলার প্রবর্তন করতে হবে। আমাদের নগরগুলোতে রা¯Íাঘাট, বাড়িঘর, অফিস-আদালতসহ সর্বত্র অপরিকল্পিত ও বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা আগে বিষয়গুলোকে সেভাবে গুরুত্ব দিয়ে যাত্রা শুরু করিনি। এখন এ ÿেত্রে নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলার প্রবর্তন বেশ কষ্টসাধ্য ও ব্যয়- সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থা বলতে কিছুই নেই। আমরা এসবে খুব একটা অভ্য¯Íও নই। ফলে নগর, শহর, উপশহর গড়ে উঠলেও সুস্থ নাগরিক জীবন সেগুলোতে গড়ে তোলা যাচ্ছে না। অথচ নিয়ম-শৃঙ্খলা চালু না করা গেলে বড়-ছোট কোন শহরেই আমাদের চলাফেরা, জীবন-জীবিকা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। সুতরাং এ ÿেত্রে মৌলিকভাবে হাত দিতে হবে। প্রচুর অর্থ ব্যয়, দÿ, অভিজ্ঞ, লোকবল নিয়োগ দিয়ে শহরের নাগরিক জীবনকে সচল রাখার উদ্যোগ এখনই নিতে হবে। শহরাঞ্চলে হত্যা, চুরি, ডাকাতি, অপরাধ, প্রতারণা, ছিনতাইয়ের বিষয়গুলো এখন আগের মতো ব্যক্তি বিশেষ বা বিচ্ছিন্নভাবে চলছে না, চলছে শক্তিশালী চক্র বা সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর মাধ্যমে। এগুলো এক ধরনের পেশাদারিত্ব অর্জন করতে শুরু করেছে। ঢাকা শহরে একজন পকেটমারও এককভাবে অপকর্ম করতে পারে না, তাদেরকে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমেই এসব অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হচ্ছে। হত্যা, ছিনতাই, মলম পার্টি, ব্যাংক ডাকাতি, এলাকায় মা¯Íানি, টেন্ডারবাজি, ভ‚মি দখল, চাঁদা দাবি ইত্যাদি যা কিছু হচ্ছে তাও শক্তিশালী নানা চক্রের মাধ্যমে ঘটছে। বিষয়গুলো রাজনৈতিক দলের যেমন পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কিছু কর্মকর্তার পৃষ্ঠপোষকতাও লাভ করছে। এভাবেই এসব আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী অপশক্তি নগর জীবনে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। তবে একথাও সত্য, সরকার যখন এসব অপশক্তিকে দমনে দুর্বলতা প্রকাশ করেছে, তখনই এরা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে, আবার সরকার যখন কঠোর অবস্থানে গেছে তখন এসব অপশক্তির দৌরাত্ম্য কমতে দেখা গেছে। বিগত তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সময় দেশে জরুরি অবস্থা থাকার সময়, কিংবা র্যাব-এর বিশেষ তৎপরতা থাকার সময় অপরাধ জগতের প্রায় সকল গোষ্ঠীই তটস্থ থেকেছে, অপরাধীরা অনেকটা আড়ালে চলে গেছে, এর ফলে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জনজীবনে তখন তুলনামূলকভাবে শান্ত বা ভালো ছিল বলে জনমনে ধারণা জন্মেছে। আবার জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার পর এসব মাফিয়া চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, তারা নানা জায়গায় হত্যা, ছিনতাই, প্রতারণা, লুটপাটসহ আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মে যুক্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু অপরাধী চক্রই নয়, দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যেও কিছু কিছু কাজ আইন-শৃঙ্খলার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়নি বলা হলে অনেকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। হল-হোস্টেল দখল করা, গাড়ি ভাঙচুর করা, রা¯Íা অবরোধ করা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিশ্চয়ই গণতান্ত্রিক অধিকারের আওতায় পড়ে না। ছাত্র ও শ্রমিকদের নানা সমস্যা, দাবি-দাওয়া অবশ্যই থাকতে পারে। সেগুলো সমাধানের আইনানুগ পন্থাও রয়েছে। কিন্তু আমরা প্রায়শই সেই সব পথে চলি না, আইন নিজের হাতে নেয়ার চেষ্টা করি। ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ ও নিরাপত্তার অভাব ঘটে, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বস্তুত আমরা ব্যাপকভাবেই আইন, নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে নিজে চলতে, অন্যকে চলতে দিতে অভ্য¯Í নই। জোরজবরদ¯িÍর বিষয়গুলো যে কোনো অবস্থাতেই চলতে দেয়া উচিত নয়, নিজেদের জড়ানো উচিত নয় সে কথা আমরা খুব একটা শিখিনি, মানতে চেষ্টা করিনি। ফলে আমাদের সামাজিক, রাষ্ট্রিক ও রাজনৈতিক জীবনে প্রতিনিয়ত অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাহীনতার মতো বিষয়গুলো বেড়েই চলছে। এ সমস্যাগুলো পুলিশ, র্যাব বাহিনী দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। এগুলো হচ্ছে সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে ধারণ করতে অÿমতার সমস্যা। আমাদের শিÿা, রাজনীতি, প্রচার মাধ্যম, প্রতিষ্ঠানসহ সকল ÿেত্রে আধুনিক বিশ্ব ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার অপরিহার্য বিষয়গুলো শেখা ও শেখানোর যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এ সম্পর্কে মানুষকে সম্যক ধারণা প্রতিনিয়ত দিতে হবে। এগুলোর প্রয়োগ ও বা¯Íবায়ন ঘটাতে হবে। কিন্তু সেগুলো প্রতিষ্ঠিত মানদন্ডে কোথাও হচ্ছে না বলেই জনজীবন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে উঠছে, চলছে। এর ফলে একটি দেশের অভ্যন্তরে অপরাধপ্রবণতাই শুধু নয়, নানা সন্ত্রাসী চক্র, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্র দেশে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে, অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করে সমাজের বিভ্রান্ত, অপরাধী গোষ্ঠীকে কব্জা করার চেষ্টা করছে। ধর্ম, রাজনীতি, আঞ্চলিক ও স্থানীয় নানা ইস্যুকে ব্যবহার করে দেশী-বিদেশী এসব গোষ্ঠী বেকার, অর্ধশিÿিত, এমনকি মেধাবী সম্ভাবনাময় অনেক তরুণ-যুবককে এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যুক্ত করছে, এখানে-সেখানে অস্ত্র ও বোমা হামলা পরিচালনা করে মানুষের জীবন ও সম্পদ ধ্বংস করতে প্রলুব্ধ করছে। বিষয়গুলো বেশ জটিল। তবে পৃথিবীর বা¯Íবতায় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অপরাধপ্রবণতা যেমনিভাবে মহল বিশেষের অর্থায়নে কিংবা মদদে পুষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে এসব অপশক্তি রোধেও পৃথিবীর গণতান্ত্রিক মহল বেশ সোচ্চার ও তৎপর। ফলে রাষ্ট্র ও জনগণকে বর্তমান জটিল বিশ্ব বা¯Íবতা, সমাজ, আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বা¯Íবতার বোধে পরিচালিত হওয়ার শিÿা ও তাগিদকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। সেভাবে জনগণকে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে। ব্যাপক জনগণের আর্থ-সামাজিক শিÿা, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বোধ, সচেতনতাই পারে দেশের অভ্যন্তরের সামগ্রিক পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে, গড়ে তুলতে, একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নিতে। আমাদের গণতন্ত্র তখনই নিরাপদ হবে, সুরÿিত হবে যখন আমরা সামগ্রিক এসব সমস্যার ভেতর থেকেই সমাধানের পথ খুঁজে নিতে সÿম হবো। আইন-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার বিষয়গুলোকে ব্যাপক অর্থে ধারণ করতে শেখার চেষ্টা করবো। মনে রাখতে হবে, এটি কোন একটি বিশেষ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের ব্যাপার নয়, সকল মানুষকে ধারণ করার ওপরই মূলত নির্ভরশীল বিষয়।
0 comments:
Post a Comment