Thursday, March 8, 2018

ঔপনিবেশিক অক্টোপাশে বাংলাদেশ

ঔপনিবেশিক অক্টোপাশে বাংলাদেশ
আলী ফোরকান 
বাংলাদেশের ড.মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ক্ষুদ্রঋণের জনক অর্থনীতিবিদ এবং সফল ব্যাংকার হিসেবে ড.ইউনুস বিশ্বের একটি নক্ষত্র। তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগেও তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ বাংক ইউরোপ,আমেরিকার দেশগুলোতে বেশ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। কোন কোন দেশ গ্রামীণ ব্যাংক পদ্ধতিকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
আমরা ভোট কারচুপির সাথে পরিচিত হই ১৯৯৭৩ সালে – যা পরবর্তীতে মহীরূহের আকার ধারণ করেছিল। বিএনপি এ বিদ্যা শিখেছে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে। ’৭৩ সালে মাগুরার তিন জন প্রার্থীকে নমিনেশন জমা দিতে দেয়া হয়নি।(যায়যায়দিন২৯-৩-৯৪) ’৭৩ এর নির্বাচনে মেজর জলিল, মেজর (অবঃ) আফসার উদ্দিন ও ড. আলীম আল রাজীকে প্রথমে র্নিবাচিত ও পরে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছিল। ভারতের প্রধান র্নিবাচন কমিশনার টি এন সেশান বলেছিলেন, ভারতের গণতন্ত্র তিনটি ‘সি’ অর্থাৎ ক্যাশ ক্রিমিনালিটি ও করাপশন (ঘুষ অপরাধও দূর্নীতি ) এই তিনটি স্তরের উপর দাড়িয়ে আছে। বৃটেনে ক্ষমতাসীন টোরী দলের রাজনৈতিক র্দূনীতির এক নতুন অধ্যায় উদঘাটিত হয়েছিল। টোরী নেত্রী ডেইম সার্লি পোর্টার যাকে র্মাগারেট থ্যাচারের পর এক আদর্শ  ব্যক্তিত্ব  বলা হতো তাকে বৃটেনের স্থানীয় সরকার ইতিহাসে সবচেয়ে বিশাল এক ভোট কারচুপির কেলেংকারিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং ভোট জালিয়াতির দায়ে ৩ কোটি ১৭ লাখ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে অনেক আগে থেকে মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের র্দূনীতি সম্পর্কে শুনা যেত। সাবেক আমলে রিলিফের কম্বল, চিনি ও সার কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশে অনেক হৈচৈ হয়েছিল।
ভারতেও মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে র্দূনীতির অভিযোগ করা হয়েছে। শেয়ার বাজার ও হাওলা কেলেংকারিতে ভারতের  সাবেক প্রধান মন্ত্রীসহ অনেক ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাও জড়িত রয়েছে।
এখন দেখা যাচেছ, বাংলাদেশের মতো অনেক কিছুই অন্যান্য দেশ গুলোতে ঘটছে। এখানেই প্রথম বিরোধী দলের সংসদ সদস্যগণ সংসদ থেকে একযোগে পদত্যাগ করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। এদেশেই প্রথম তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এখানেই প্রথম তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আমলে লগী বৈঠা নিয়ে নির্মম ভাবে রাজ পথে মানুষ খুন করা হয়। আগামীতে হয়ত কোন দেশ এসব দৃষ্টান্তকে অনুসরণ করে পরবর্তীতে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে র্নিবাচন অনুষ্ঠান বাস্তবায়িত করবে। মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেছিলেন, পাকিস্তান চায় মাটির আধিপত্য আর ভারত চায় একচেটিয়া কারবার। এলক্ষ্য সামনে রেখেই  ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অনেক ক্ষতি স্বীকার করে সমর্থন সাহায্য সহযোগিতা করেছিল। তাদের মনের ঐ দুর্ভিসন্ধিমূলক বাসনা আজ অক্ষরে অক্ষরে পরিণত হতে যাচেছ। বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে ভারতীয় পণ্যের বাজারে। বাংলাদেশের বাজারে এমন কিছু নেই যা ভারতীয় পণ্য নয়। নিত্য প্রয়োজনীয় কাচাঁমাল থেকে শুরু করে সব এখন ভারতীয়।
ভারত নিজদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও অবাধ আমদানি নীতির পরিপন্থী কৌশল অবলম্বন করে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশকে মুক্তবাজার অর্থনীতির অবাধ আমদানী নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করে। এর ফলশ্র“তিতে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও অবাধ আমদানি নীতির সুফল ভারত একতরফাভাবে গ্রহণ করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অর্থনীতিতে ভয়াবহ বির্পযয়ে ফেলে দেয়। আজ বাংলাদেশ এমন একটি ভয়াবহ অবস্থার শিকার।
বস্তুত পক্ষে বাংলাদেশে আমদানির ব্যাপারে কোন বিধি নিষেধ নেই। নিষিদ্ধ বস্তুর উপর শুধুমাত্র বিধি নিষেধ রয়েছে। এধরনের অসম আমদানী নীতি কোন ক্রমেই বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রত্যাশিত নয়। আমদানি-রফতানিতে সমাধিকার ও সমপরিমাণে হওয়াই বাঞ্জনীয়, কিন্ত বস্তুত পক্ষে বাংলাদেশ- ভারতের আমদানি নীতিতে বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হচেছ। দীর্ঘদিনের এ পক্রিয়ার মাধ্যমে আজ বাংলাদেশ বাণিজ্যে ভারতীয় কলোনীতে পরিণত হয়েছে। একটি গবেষনা পত্রে দেখা যায়,মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে বহিবার্ণিজ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করে দিয়ে ভারতীয় পণ্যের সয়লাব করে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০০৬ এর সুত্র মতে, দেশভিত্তিক আমদানি পণ্যের পর্যালোচনায় দেশের আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান সর্ব শীর্ষে। এসময়ে মোট আমদানি ব্যয়ের ১৫.৪৪ শতাংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশের মিত্র দেশ চীন।
১৯৯১-৯২ সাল থেকে বাংলাদেশ ভারতীয় পণ্যের বাঁধভাঙ্গা বানে পরিণত হয়। সে বছর ভারতীয় পণ্য আমদানির ২শ’ ৩৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়। এ বৃদ্ধির মাত্রা অব্যাহত ভাবে চলছে। ২০০০-০১ অর্থ বছরে ভারতীয় পণ্য আমদানির পরিমাণ দাড়ায় ৬ হাজার ৩’শ ৯০ কোটি টাকা।(১১৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার )। ২০০৫-০৬ অর্থ বছরের ভারতীয় পণ্য আমদানি বৃদ্ধি পেয়ে দাড়ায় ৯ হাজার ৫শ’ ২০ কোটি টাকায়।(১৩৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। 
এ অবাধ আমদানির কারনে এখন আর বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন সম্ভব নয়। তাই আজ সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় সব দোকানে সরাসরি ভারতীয় মুদ্রা ব্যবহৃত হচেছ।
আজ দেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ মুখ থুবড়ে পড়েছে, কল কারখানা বন্ধ। প্রায় ৬ হাজারের অধিক কল কারখানা লোকসান দিতে দিতে অচল হয়ে পড়ে আছে। লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন বেকার । কোথাও কর্ম চাঞ্চল্য নেই। জীবন এখানে নেতিয়ে পড়ছে ক্রমশ:। বিশেজ্ঞরা বলছেন, মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে ভারতের অবাধ পণ্য প্রবাহ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে চোরাপথে ভারতীয় পণ্যের কারবার। ভারতীয় পণ্যের মুল্য দেশীয় পণ্যের মুল্যের চেয়ে অনেক কম,ফলে বিক্রি হয় কম মুল্যে। তাই ব্যাপক চোরাচালানের সাথে অসমপ্রতিযোগিতায় দেশীয় পণ্য টিকে থাকতে পারছেনা। একমাত্র এ কারনেই এক এক করে দেশীয় শিল্প বন্ধ হয়ে যাচেছ। এর জন্য এককভাবে শীর্ষ নীতি র্নিধারকরাই দায়ী। তারাই পাশ্চত্যের প্রেসক্রিপশন জাতির উপর প্রয়োগ করেছে পরিণামের কথা না ভেবেই,শুধুমাত্র পাশ্চাত্যের প্রভুদের খুশী করার জন্য। 

0 comments:

Post a Comment