সরকার বুঝি ‘হারে’ না!
আলী ফোরকান
অবসরে গেলে নাকি অনেক চাকুরের সময় কাটে না, কাটতে চায় না। যারা ধর্মকর্ম করে তাদের নাকি সকালের ইবাদতের পর একটু হাঁটাহাঁটির অভ্যাস থাকলে তা সেরে এসে নাশতা খেয়ে পত্রিকা দেখে, তারপর একটা ঘুম। উঠে দুপুরের নামাজ সেরে খেয়ে পারলে আরেক ঘুম, তারপর বিকালের নামাজ, সন্ধ্যার নামাজ, রাতের নামাজ সারতে সারতেই দিন কাবার। এতে কি আর সময় শেষ হয়? কারও কারও একটু বাজার করা, দেন-দরবারে যাওয়া, আড্ডা দেয়া; যারা কম্পিউটার নিয়ে বসে, তাদের তো কথাই নেই। একেকজনের একেকভাবে দিন কাটে, তবে সময় নাকি তাদের যেতে চায় না। রাজনৈতিক আলোচনায় যদি পার্কে-ময়দানে বসা যায়, তবে তো কথা আর শেষ হতে চায় না। তারপরও নাকি সময় কাটে না। বিয়েশাদির দাওয়াত আর হরেকরকমের নেমন্তন্ন তো আছেই। বই পড়ার অভ্যাস থাকলে কিছু পড়া, ঘরে ছোট নাতি-নাতনি থাকলে তাদের স্কুলে নেয়া, তাদের ফুট-ফরমায়েশ খাটা, তাও নাকি সময় কাটে না। মোট কথা, অবসরের অনেকের দিন কেটে যায় বটে, কিন্তু সময় নাকি কাটে না। কিন্তু আমি দেখি, চাকরিতে থাকতে নিজের জন্য যেটুকু সময় আলাদা ভাগে পেতাম, এখন তাও পাই না। এখন যেন অকাজের কাজ বেড়েছে অনেক, কোন দাওয়াতে না যাওয়ার অজুহাত এখন তোলা যায় না, নিজ দেশ-গ্রামের অনুষ্ঠানেও যেতে হবে, নইলে তাদের মনে কষ্ট, সঙ্গত যুক্তিও আছেÑ এখন তো আর চাকরিতে নেই, কেন যাব না। ফলে হালে বিভিন্ন অজুহাতে দেশ-গ্রামে অর্থাৎ ফেনী এলাকায় বেশ কয়েকবার যাওয়া পড়ল। এমনিতেই নোয়াখাইল্যাদের (বৃহত্তর) একটা সুনাম আছে, সপ্তাহান্তে এদের অনেকেই দেশের বাড়ি ছোটে, তারপর যাদের পরিবার দেশে থাকে তাদের তো কথাই নেই, হালে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের মহাজ্যামে পড়লে ফেনী যেতেও ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যায়, তাও মানুষ ছুটছে। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্র-শনি সকালে লাইন দিয়ে থাকতে হয় টিকিটের জন্য। যাকগে, এলাকায় গেলে যে বিষয়টা বেশ বড় হয়ে দেখা দেয়, তা হল এলাকায় মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা। কত বিষয়ে তাদের কত প্রশ্ন! নিজেদের মত যেমন তারা খোলা মনে প্রকাশ করতে চায়, তেমনি জানতেও চায় আমরা বিষয়গুলো কিভাবে দেখি।
হ্যাঁ, রাজনৈতিক দল দেখা যায় এলাকায় দুটোই, আওয়ামী লীগ আর বিএনপি। বৃহত্তর নোয়াখালীতে ভোটের জয়ে গতবারও বিএনপি এগিয়ে, ফেনীতে তো রমরমাই, তিন আসনই বিএনপির। শহরে যারা থাকে, তাদের রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা গ্রামাঞ্চল থেকে কিছুটা ভিন্ন ধাঁচের। আমি এবার দু’দিনে বেশ কয়েক গ্রামে গেলাম, সেই ষাটের দশকে যেসব বাড়িতে লজিংয়ে ছিলাম তেমন কয়েক ঘরেও গেলাম, স্কুল জীবনের কয়েক সঙ্গীর সঙ্গে দেখা হল, কিছু আÍীয়ের বাড়িও গেলাম, এক বাড়িতে রাত্রিও যাপন করলাম, পিতৃক‚লের একমাত্র জীবিত ছোট ফুপুকে দেখে আবার যেন সেই ছেলেবেলায় ফিরে গেলাম। রাত্রিযাপন দাগনভ‚ঞা উপজেলার এক বাড়িতে, মাশাআল¬াহ সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেইÑ রাত ১০টার দিকে মিনিট খানেকের জন্য একবার হাজিরা দিল। বাড়িওয়ালা আÍীয় বললেন, আপনার আগমনে বিদ্যুতের ঝলকানি, স্বাগত, সুস্বাগত; আবার আমাদের ছোট্ট বেলার মতো মোমবাতিতেÑ ভাগ্যিস তার কেরোসিন বাতি ছিল না, আহার। আমার পরামর্শ, আবার হ্যারিকেন, কেরোসিনের কুপিবাতিতে ফিরে যান, জীবনের আনন্দ আরও অনাবিল হবে। আমরা তো স্কুল জীবনও বিদ্যুৎ ছাড়াই চলেছি, অসুবিধা হয়েছে কি? ভালো কাজে অতীতে ফিরে গেলে দোষের কিছু নেই, তা ৭২’র সংবিধানেই হোক আর ষাটের দশক, পঞ্চাশের দশকের পল¬ী বিদ্যুতের আগের গ্রামীণ আলোর জীবনেই হোক। তার গিন্নির সোজা প্রশ্ন, সরকার বুঝি ‘হারে’ না এ সমস্যা সমাধান করতে? আমরা যারা বৃহত্তর নোয়াখাইল্যা তাদের ‘প’ কে ‘হ’ বলার সুনাম হোক, বদনাম হোক আছে, তাই ‘পারে না’ কে তিনি আঞ্চলিক ভাষায় ‘হারে’ না বলেছেন। পাঠক নিশ্চয়ই এখন তা বুঝেন। আমি বলি, বিদ্যুৎ শুধু কলকারখানায়, উৎপাদনে দেয়া হোক, আর সর্বত্র বিদ্যুৎ দেয়া বন্ধ করা হোক, এমনকি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়েওÑ শুধু বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আর কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার হোক, বাকি কাজ সব বিদ্যুৎ ছাড়া চলুক, উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন থাকুক, আমরা বছর তিন-চার আবার কষ্ট করি না কেন, তাহলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। সেচের সময় শুধু কৃষিকাজে বিদ্যুৎ থাক, বাকি সব কাজে বন্ধ, অর্থাৎ বাতি, পাখা চলবে না। হাতপাখা চলুক। আবার, কুটির শিল্পেরও উন্নয়ন হবে, ব্যবহারে সাশ্রয়ী হয়ে অভাবের সংসারে আর কত বাঁচানো যাবে, বন্ধ করে দেয়াই উত্তম, অভ্যাস হয়ে যাবে। গ্যাসও শুধু কলকারখানার উৎপাদনে দেয়া হোক, নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন প্রয়োজন; রান্নাবান্না খড়িতে, গুটিতে, কাঠে হোক, ৩-৪ বছর চলুক না এভাবে, তারপর উৎপাদন বাড়াতে পারলে সবার সুখ হবে, অসুবিধা কোথায়? ফেনীর আশপাশে কিছু গ্রামেও গ্যাস গেছে। যাদের এখনও যায়নি তাদের অনেকের জিজ্ঞাসা, সরকার বুঝি আমাগো গ্যাস দিতে ‘হারে’ (পারে) না? আমি বলি, টেক-অফ পয়েন্টে যাওয়ার জন্য একবার কঠোর অবস্থানে যেতে অসুবিধা কোথায়? গ্যাস আর বিদ্যুৎ শুধু উৎপাদনেই ব্যবহƒত হোক, নিরবচ্ছিন্নভাবে তা হোক, তারপর অবশিষ্ট থাকলে গৃহস্থালি ব্যবহারে যাবে, নচেৎ নয়। সরকার পারে কি পারে না, তা আমরা সময় দিয়ে ৩-৪ বছর পর সুদেআসলে একবারে দেখতে চাই। চা দোকানের সামনে সে কী তর্ক, একপক্ষ আওয়ামী লীগের, অপর পক্ষ বিএনপির। কেউ কারও পক্ষে কম বলে না। শুনলাম, বুঝতে চেষ্টা করলাম, উপলব্ধি করলাম, গ্রামগঞ্জেও রাজনীতি এখন চাঙ্গা। তবে তাজ্জব হলাম, জামায়াতের হোমরা-চোমরা কে আটক হচ্ছেÑ এ নিয়ে কেন জানি কোন উচ্চবাচ্য নেই। কিন্তু আড্ডা-আলোচনা থেকে ফিরে গিয়ে নীরবে এক মুরব্বির সঙ্গে একান্তে অনেকক্ষণ বসে তার বক্তব্য শুনে হতাশ হয়ে গেলাম। তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জামায়াত নিয়ে কিচ্ছু বললেন না, বললেন শুধু সরকার নিয়ে। তার সোজা কথা, ভোটে জয়ের পর, সরকার গঠন করার পর সরকার তো আর আওয়ামী লীগও নয়, জাতীয় পার্টিও নয়Ñ সরকার হচ্ছে সরকার, সরকার হচ্ছে গোটা জাতির, গোটা দেশের, গোটা বাংলাদেশের। সরকারের কাজে তো আর ফেনীতে আওয়ামী এমপি নেই বলে ফেনী বাদ যাবে না; ফেনীও সরকারের, নোয়াখালী, ল²ীপুরও সরকারের, তেমনি বগুড়াও সরকারের। তার মতে, যেখানে আওয়ামী এমপি নেই সেখানটা বরং আরও বেশি সরকারের, পরবর্তী নির্বাচন নিশ্চয়ই মাথায় থাকার কথা সরকারি দলের। আওয়ামী আমলে বিএনপি-এমপির এলাকা সরকারের সুনজরে থাকলে পরবর্তী সময়ে আওয়ামী প্রার্থীর জন্যই সুখবর! আমি তাজ্জব হই, এ কি রাজনৈতিক বিশে¬ষণ, এ কি দর্শন! তারও কিছু বিষয়ে সোজা প্রশ্নÑ সরকার বুঝি ‘হারে’ না? তিনি পত্রিকা পড়েন, অনেক খবর মনোযোগ দিয়ে পড়েন, সাধ্য অনুযায়ী বিচার-বিশে¬ষণের চেষ্টা করেন, সমঝদার কাউকে পেলে তার ধ্যান-ধারণা প্রকাশের চেষ্টা করেন। তিনি আওয়ামী-বিএনপির লড়াইতে যেতে চান না, তার সোজা কথাÑ ভোটের সময় তো যার যার দল নিয়ে সে সে লড়বে, কর্মসূচি দেবে, মানুষকে বোঝাবে; ভোট হয়ে যাওয়ার পর আর এ নিয়ে লড়াই কেন? বিএনপি কেন এখন সরকারের পতন চায়Ñ এটা তিনি মেলাতে পারেন না, আবার ভোটের সময় তো দেখা যাবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে মানুষ, হাসিনার তসবিহ হাতে, কালো নেকাব মাথায়Ñ একবার ভোট দিয়ে দেখেন নাÑ আবেদনে মানুষ সাড়া দিয়েছে; কিন্তু সন্ত্রাসে অস্থির হয়ে পরের ভোটেই ঘরে তুলে দিয়েছে। সূ² আর স্থ‚লÑ যে কারচুপির কথাই বলা হোক, মানুষ তা গ্রহণ করেনি। আমরা এক হাজারির সন্ত্রাস দেখেছি, আমরা জানি। একই অবস্থা ঘটাল বিএনপিÑ আহা সে কী দুর্নীতি, কী দলীয়করণ, ফল হল গত নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগ। কিন্তু তিনি ভয় করেন, তাকে কি আগামী ভোটে আবার সিদ্ধান্ত বদলাতে হবে? আমাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেনÑ আচ্ছা, সরকার কি ছাত্রলীগকে আইনের আওতায় আনতে ‘হারে’ না? তিনি বুঝতে পারেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সামনে অস্ত্র নিয়ে, বড় বড় দাও নিয়ে কিভাবে মারামারি হয়? পুলিশ-র্যাবকে ভয় পায় না কেÑ এ প্রশ্ন রেখে তার প্রশ্ন, এদেশে কি আইন নেই, আইনের শাসন নেই, থাকলে ছাত্রলীগ কোন সাহসে দিনদুপুরে এভাবে মারামারি, খুনাখুনি, টেন্ডারবাজি করে? তিনি ব্রিটিশ আমল স্মরণ করেন, এমনকি পাকিস্তান আমলওÑ হাফপ্যান্ট পরা এক পুলিশ আসছে শুনেই তো গ্রামের অনেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে, কয়েকদিন খড়ের গাদায় রাত কাটিয়েছে। তাহলে এখন কেন মানুষ পুলিশকে আর ভয় পায় না? আমি শুনি আর অবাক হই, বলে কিরে, এখন তো পুলিশ আমাদের বন্ধু, ভয় পাবে কেন? তাই তো পুলিশের সামনেই, বন্ধুর সামনেই খুন-খারাবি হবে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এ অস্ত্রধারী ছাত্রদের সাইজ করা নাকি দু’এক ঘণ্টার ব্যাপারÑ এটা তার দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি বলে যানÑ সরকার যদি হুকুম দেয়, ছাত্রলীগ হোক, ছাত্রদল হোক, আওয়ামী লীগ হোক, বিএনপি হোক, আইন অনুযায়ী আটক করো, তাহলেই তো পুলিশ কাজ সেরে ফেলে! তার বিশ্বাস হয় না সরকার এটা ‘হারে’ না। তিনি মনে করেন, সরকার এটা যে কোন কারণেই হোক করে না, করতে চায় না। বনের গাছ কেটে ফেললে তার কষ্ট হয়, কিন্তু যারা কাটে তাদের কিছু নাকি হয় না, তারা নাকি ধরা পড়ে না। তিনি আবার বলেন, সরকার বুঝি এদেরও ধরতে ‘হারে’ না, এ কেমন কথা গো! নদী দখলের কিছু ছবি তিনি পত্রিকায় দেখেছেন, ঢাকার নদীর যেমন দেখেছেন, চট্টগ্রামেরও দেখেছেন, অন্য জেলার নদী দখলের ছবিও দেখেছেন তিনি। তার বিশ্বাস হতে চায় না, দেশে সরকার থাকলে এও কি সম্ভব? কই, তার জমির এক ইঞ্চিও তো আরেকজন দখলে নিতে পারে না? আওয়ামী, বিএনপি নেতাদের কোন সম্পত্তি কি কেউ দখল করতে পেরেছে? তাহলে সরকারের নদী-খাল, যদু-মধু-রাম-শ্যামরা কিভাবে দখল করছে? সরকারের ক্ষমতার কী শেষ আছে? এই যে নিজামী, সাঈদী, কামারুজ্জামানরা আটকে গেল, কই অসুবিধা হল কোথায়? তাহলে বন উজাড়ের, নদী দখলের ওরা কী এদের থেকে ক্ষমতাশালী? না ওরা সরকারের পেয়ারের লোক বলে, কারও না কারও আÍীয় বলে, নাকি অন্য কোন হিসেবে সম্পর্কিত বলে ওদের আটক করা হয় না? তিনি মন্তব্য করেন, রাস্তার যানজট না হয় সরকার কমাতে ‘হারে’ না, গ্যাস-বিদ্যুৎ না হয় দিতে ‘হারে’ না, কিন্তু এই দখলদারদের কি আটকও করতে ‘হারে’ না? সরকার বুঝি এ সহজ কাজগুলোও করতে ‘হারে’ না; তাহলে সরকারে ‘হারে’ কী? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি গ্রামগঞ্জে বেশ আলোচিত হচ্ছে, অনেক বাড়িতেই প্রার্থী আছে। কিন্তু যেভাবেই হোক একটা কথা শোনা যাচ্ছে, মৌখিক পরীক্ষা হওয়ার পরও ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে নাকি কোন অসৎ উদ্দেশ্যে। কেউ কেউ জিজ্ঞেস করলেন, দলীয় লোক অনেক ঢোকানোর জন্য নাকি ফল পরিবর্তন করা হচ্ছে, এটা ঠিক কী? আমার জবাবÑ এমন কিছু আমার জানা নেই। তাদের প্রশ্ন, তাহলে এসব কথা উঠছে কেন? আর সরকারই বা ফল প্রকাশে অযথা বিলম্ব করছে কেন? এক প্রার্থীর বাবা তো জিজ্ঞেসই করলেন, টাকা-পয়সা দিয়ে কোন আওয়ামী নেতা ধরবেন কিনা। এ প্রসঙ্গে সর্বত্র দলীয়করণের একটা অপপ্রচার হয়তো হচ্ছে। এক শিক্ষক জানালেন, তিনি তার বাড়ির কাছে একটা স্কুলে বদলি হয়ে আসতে আগ্রহী, পদও শূন্য আছে, কিন্তু তাকে নাকি আনা হবে না, কেননা স্থানীয়ভাবে আওয়ামী রিপোর্ট নাকি তার বিরুদ্ধে, তিনি আওয়ামী সমর্থক নন, পরবর্তী নির্বাচনের সময়ে তাকে দিয়ে নাকি স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী নেতার কোন উপকার হবে না। আওয়ামীকরণের, দলীয়করণের কমবেশি চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রেই শোনা যাচ্ছে, কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বা বদলিতেও একথা ওঠা ভালো লক্ষণ নয়। অপপ্রচার হলেও অচিরেই তা বন্ধের চেষ্টা নেয়া জরুরি। পার্কে, মাঠে-ময়দানে, গ্রামগঞ্জে আওয়ামী সরকারবিরোধী প্রচার-অপপ্রচার সর্বত্র বাড়ছে, আইনের শাসনের ঢিলেমিতে এগুলো আরও জোর পাচ্ছে। এ লক্ষণগুলো ভালো নয়, কেননা পচা শামুকে পা কাটতে সময় লাগে না। সরকার বুঝি ‘হারে’ না, অর্থাৎ পারে না, এটাও কিন্তু সরকারের ব্যর্থতার পক্ষে এক বড় প্রশ্ন। অতএব সময় থাকতেই সমাধান হওয়া কাম্য।
0 comments:
Post a Comment