জলবায়ুর পরিবর্তন বিশ্বে মূর্তিমান আতংক বাংলাদেশেও বিপর্যয়ের আশংকা
আলী ফোরকান
জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বে একটি মূর্তিমান আতংক। এর প্রভাবে পৃথিবীব্যাপী যে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে তা রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে এ গ্রহের বাসিন্দাদের। ফলে জান-মালের যে ÿয়ÿতি সাধিত হবে তার অংক কষতে ব্য¯Í দুনিয়ার তাবত পরিবেশবিদগণ। শনিবার বহুল প্রচারিত নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য একে একটি বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেছে। সন্ত্রাসবাদের সকল হুমকিকে ছাপিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনই দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসাবে আর্বিভ‚ত হচ্ছে। দেশটির সামরিক ও গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরাও বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ক্লাইমেট চেঞ্জ সিন এজ থ্রেট টু ইউএস সিকিউরিটি শীর্ষক প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে মারাত্মক কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র। তীব্র ঝড়, খরা, নানা দেশে শরণার্থীদের চাপে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ ও সংক্রামক রোগ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক হ¯Íÿেপ করতে হতে পারে। মার্কিন প্রতিরÿা দফতর পেন্টাগনের সামরিক ও গোয়েন্দা বিশেøষকরা এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের ওপর গত ডিসেম্বরে মার্কিন সামরিক বাহিনী পরিচালিত ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির (এনডিইউ) এক সমীÿা থেকে এ মতে উপনীত হয়েছেন তারা। নিউইর্য়ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ুজনিত সংকটের কারণে বিভিন্ন দেশে সরকার পতনের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। বেড়ে যেতে পারে সন্ত্রাসবাদ। এমনকি সংশিøষ্ট পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে পেন্টাগনের বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও অন্যান্য কারণে আফ্রিকা, দÿিণ ও দÿিণ-পূর্ব এশিয়ায় ২০/৩০ বছরের মধ্যে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে। অভাব দেখা দেবে খাদ্য ও পানির। এরই সঙ্গে আছে বন্যা। ফলে এসব অঞ্চলের অধিবাসীদের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী দেশে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটবে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে মানবিক বা সামরিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। ইতিমধ্যে সারাবিশ্ব প্রত্যÿ করছে সুদানের দÿিণাঞ্চলের পরিস্থিতি। দারফুরে প্রচণ্ড খরায় লাখ লাখ মানুষ দুর্বিষহ পরিস্থিতির শিকার হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। সেখানে দাঙ্গা-হাঙ্গামা লেগেই রয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এহেন পরিস্থিতির ঢেউ লাগবে পাশ্চাত্যে, বিশেষ করে আমেরিকায়। এদিকে, পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দফতর দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেÿণ করলেও তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বৈশ্বিক উষ্ণতাকে স্থান দেয়া হয়নি। বেশ কয়েক বছর ধরেই সামরিক ও গোয়েন্দা পরিকল্পকরা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সচেতন। তবে বারাক ওবামার প্রশাসন বিষয়টিকে তাদের করণীয়গুলোর মধ্যে প্রধান হিসেবে স্থান দিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে সিনেটে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর জন কেরির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, তিনি শিগগিরই একটি বিল উত্থাপন করবেন। তবে সে বিল পাস করা নিয়ে তিনি সংশয়ে রয়েছেন। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ সিনেটরের মধ্যে অন্তত ৩০ জন রয়েছেন যারা জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেÿিতে যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির আশঙ্কা উচ্চারিত হচ্ছে তা সম্পর্কে কোন ধারণা রাখেন না। সিনেটর জন কেরি অবশ্য এই বিল পাসের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সহায়তা প্রত্যাশা করেছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গিয়ে বাংলাদেশে বিধ্বংসী বন্যার কথা উলেøখ করে এনডিইউর সমীÿায় বলা হয়, এর ফলে লাখ লাখ বাংলাদেশী ভারতে গিয়ে শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় নেবে। এতে দেখা দিতে পারে ধর্মভিত্তিক দাঙ্গা। ছড়িয়ে পড়তে পারে সংক্রামক ব্যাধি। প্রতিরÿা কৌশল বিষয়ক উপ-সহকারী সচিব আমান্ডা জে ডোরি এ প্রসঙ্গে বলেন, খুন দ্রæতই পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়বে।’ বিগত প্রায় দুই দশক ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আশংকা করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। সাগরের উচ্চতা মাত্র এক মিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের এক পঞ্চমাংশ ভ‚মি পানির নীচে তলীয়ে যাবে। গৃহহীন হবে ৩০ লাখ লোক। এরকম ভয়াবহ বিপর্যয় যখন দরজায় কড়া নাড়ছে তখন প্র¯Íুতিমূলক ব্যবস্থা বলতে বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে কেবল পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আর মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন। বিভিন্ন রাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ÿতিগ্র¯Í দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অংগনে নেতৃত্ব দানের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এÿেত্রে কোন জোরাল ক‚টনৈতিক তৎপরতা লÿ্য করা যায়নি। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে জলবায়ু বিষয়ক কোপেনহেগেন সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে এ সুযোগ হাত ছাড়া করা ঠিক হবে না। উন্নত রাষ্ট্রগুলোর দ্বারা সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কোপেনহেগেন সম্মেলনকে সামনে রেখে এখন কেবল প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্র¯Íুতি ও দÿ ক‚টনৈতিক প্রচেষ্টা।
(নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন)
0 comments:
Post a Comment